বুধবার, ডিসেম্বর ৮, ২০২১ : ১০:৪২ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

পুলিশের আক্রোশের শিকার সবুজ সিলেটের সম্পাদকসহ ৩ সাংবাদিক

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাজানো মামলা

স্টাফ রিপের্টারঃ সিলেটে আদালতপাড়ার জিআরও ও পুলিশের দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় শাহপরান থানা পুলিশের আক্রোশের শিকার হলেন দৈনিক সবুজ সিলেট’র সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদ সিলেটের সভাপতি মুজিবুর রহমানসহ আরো ৩ সাংবাদিক। গত ১৭ অক্টোবর এসএমপির শাহপরান (র.) থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৩(২)/২৪(২)/২৫(২)/২৬(২)/২৯(১)/৩১(২)/৩৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন শাহজালাল উপশরের তেররতনের রফিক উদ্দিনের ছেলে মারজান উল হক (৩৫)। মামলা নং-১০, তারিখ ১৭.১০.২০২১।
মামলার বাদি মারজান উল হক নগরীর রায়নগরের বাসিন্দা মুজিবুর রহমানের দায়ের করা কোতোয়ালী সি.আর মামলা নং-৭৬১/২০২০-এর আসামী। গত ২০২০ সালের ৩০ জুলাই এনআই অ্যাক্ট এর ১৩৮ ধারায় ৬৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক ডিজওনারের অভিযোগে মারজান উল হকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন মুজিবুর রহমান। যা বর্তমানে যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ ২য় আদালত সিলেটে বিচারাধীন। মারজান উল হকের দায়ের করা মামলার অন্যতম স্বাক্ষী মো. তাজুল ইসলামও মুজিবুর রহমানের দায়ের করা এনআই অ্যাক্ট এর ১৩৮ ধারার ৬৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অন্য ১টি চেক ডিজওনার মামলার আসামী। মামলা নং- কোতোয়ালী সি. আর-৭৬০/২০২০ইং। উভয়ের বিরুদ্ধে মোট ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ ২য় আদালত সিলেটে দুটি মামলা বিচারাধীন।

উল্লেখ্য, গত ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর মারজান উল হককে আসামী করে মুজিবুর রহমান এসএমপির শাহপরান (র.) থানায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-জি.আর -১৭২/২০২০ইং।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই চন্দ্র শেখর বড়–য়া চূড়ান্তÍ প্রতিবেদন দাখিল করে মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ২১১ ধারায় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে আবেদন করেন।

আদালত চুড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ২১১ ধারায় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মুজিবুর রহমান গত ১৩ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে মহামান্য বিচারপতি মো. আশরাফুল ইসলাম ও মহামান্য বিচারপতি মো. খাইরুল কবিরের বেঞ্চে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। পিটিশন নং-৮৮৭৩/২০২১ইং।
মুজিবুর রহমানের আইনজীবি বিষয়টি লিখিতভাবে এসএমপির শাহপরাণ (র.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। রিট পিটিশনে শাহপরান (র.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আসামী মারজান উল হকসহ মোট ৬ জনকে পক্ষভূক্ত করা হয়। রিট পিটিশন দাখিলের সংবাদ জানার সাথে সাথে তড়িঘড়ি করে মামলা রুজু করে পুলিশ।
মূলত পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশন করায় এবং বিধি মোতাবেক শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মহামান্য হাইকোর্টের রিট পিটিশনের পক্ষভূক্ত করায় ক্ষুব্ধ হয়ে মুজিবুর রহমানসহ আরো ৩ সাংবাদিকসহ অজ্ঞাত আরো ৫/৬ জনকে আসামী করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা দায়ের করা হয়।
থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য তড়িঘড়ি করে কোনো তদন্ত না করেই আক্রোশমূলকভাবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের ব্যবস্থা করেন। যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। মামলার বাদি মারজান উল হক একজন চিহ্নিত অপরাধী।

শাহপরান (র.) থানা পুলিশের ভাষ্যমতে আইন মান্যকারী স্বজ্জন মারজান উল হকের বিরুদ্ধে চীফ মেট্রোপলিটন আদালত ঢাকায় ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় ১টি মামলা নং ৪৯১/২০ রয়েছে। সিলেটের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা নং৮৭/২০১৯, যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ ২য় আদালতে সি. আর মামলা নং-৭৬১/২০২০১টিসহ একাধিক মামলার রয়েছে বলে জানা যায়। বিগত সময়ে নাশকতার অভিযোগে অভিযুক্ত একাধিক মামলার আসামী ছিলো মারজান উল হক।
পূর্বশত্রুতার জের হিসেবে এই মামলায় হাবিবুর রহমান রিদয় ও সৈয়দ বাপ্পী নামক ২ জন সাংবাদিককে ২নং এবং ৩ নং আসামী করা হয়েছে। এজাহারে তাদেরকে দৈনিক সবুজ সিলেটের স্টাফ রিপোর্টার বলা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই দুজন দৈনিক সবুজ সিলেট পত্রিকার স্টাফ নন।
সৈয়দ বাপ্পী লন্ডন থেকে প্রকাশিত একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের সিলেটের দায়িত্বে রয়েছেন। আর সাংবাদিক হাবিবুর রহমান রিদয় কোনোদিনই সবুজ সিলেটে কাজ করেননি। রিদয়, মারজান উল হকের বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক প্রতারণা মামলার প্রধান স্বাক্ষী। এছাড়া মামলা আসামি করা হয়েছে নাজিম উদ্দিন নামে আরেক জনকে এ নামে সবুজ সিলেটে কোনও ফটো সাংবাদিক কোনও কালেই ছিল না।

গত ৬ অক্টোবর ‘‘সিন্ডিকেটের কবলে সিলেটের আদালত পাড়া” শীর্ষক শিরোনামে জিআরও জাকির হোসেনের বরাত দিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয় -সেই সংবাদ প্রকাশের কারনে পুলিশ ক্ষুব্ধ হয়ে মারজান উল হককে দিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করায়।
তা হল সিলেটের আদালতে কোর্ট ইন্সপেক্টর, জিআরও এবং দালাল সিন্ডিকেটের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন বিচারপ্রার্থীরা। মামলার নকল সরবরাহ, ওয়ারেন্ট প্রেরণ, ওয়ারেন্ট ‘গায়েব’ প্রত্যেকটি কাজেই চলছে সিন্ডিকেট বাণিজ্য। আদালতের নির্দেশনা নিয়েও চলছে লুকোচুরি। ফলে আদালতপাড়ায় এসি প্রসিকিউশনের কার্যালয়ে ভূক্তভোগীদের আহাজারি প্রতিদিনকার ঘটনা।
সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শাহপরান জিআরও শাখায় চলছে নানা অনিয়ম। কোর্ট ইন্সপেক্টর আশরাফ আলী ও জিআরও জাকির হোসেন এবং বিভিন্ন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিলে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। তারা বিচারপ্রার্থীদের নানাভাবে হয়রানি করে থাকেন। আদালতে বিচারকদের নির্দেশনা নকল শাখায় প্রেরণে বিলম্ব ও আদেশ লুকিয়ে রাখার বিনিময়ে তারা প্রতিদিনই হাতিয়ে নেন লক্ষাধিক টাকা। এছাড়া ওয়ারেন্ট লুকিয়ে রাখার বিশাল বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে এ চক্র। দালাল চক্র দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মামলার নথিও অনেক সময় গায়েব করে দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
সম্প্রতি জিআরও জাকির আদালত পাড়ায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। বিচারকের আদেশপত্রে স্বাক্ষরের আগেই আসামী দ্বারা বশীভূত হয়ে থানায় বাদীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের পত্র পাঠান। উল্লেখ্য ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহপরান থানায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শাহপরাণ জিআর নং-১৭২/২০২০ইং মামলা দায়ের করেন সিলেট নগরীর রায়নগরের বাসিন্দা মুজিবুর রহমান। মামলায় আসামী করা হয় শিবির ক্যাডার মারজান উল হকসহ অজ্ঞাত আরো ৩ জনকে। মামলার অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন, ভূমি বিক্রি সংক্রান্ত লেনদেনের কারণে মারজান প্রতারণার মাধ্যমে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাত করেন।

এ ঘটনায় তদন্ত শেষে শাহপরান (রহ.) থানার এসআই চন্দ্রশেখর গত ২৭ জুলাই সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতের বিচারক সাইফুর রহমানের আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পাশাপাশি ২১১ ধারায় বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন তিনি। পরে মামলার বাদী মুজিবুর রহমান গত ৩১ আগস্ট নারাজী দাখিল করেন। নারাজীতে মুজিবুর রহমানের আইনজীবী উল্লেখ করেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামী দ্বারা বশীভূত হয়ে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত চলাকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা বদলানোর জন্য পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করলেও কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে তড়িঘড়ি করে একটি সাজানো চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
এদিকে আদালত এ প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে গত ১ সেপ্টেম্বর, ৮ সেপ্টেম্বর, এবং ৯ সেপ্টেম্বর তারিখে ৩ দফা শুনানী শেষে উন্মুক্ত আদালতে বিচারক চুড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে বাদীর বিরুদ্ধে ২১১ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ ঘোষণা করেন। সাথে সাথে মামলার বাদী মুজিবুর রহমান মামলার সমূহ কাগজাদি, সমূহ আদেশ এর ফটোকপি নকল চেয়ে সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেন। কিন্তু বিগত ২৯ দিনেও শাহপরান থানার জিআরও জাকির হোসেন মামলার সমূহ কাগজাদি নকল শাখায় প্রেরণ করেন নি।
জাকির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আদালত যদি ২৯ দিনেও আদেশ লিখে স্বাক্ষর না করেন, তাহলে আমার কী করার আছে? কিন্তু বাদীপক্ষের আইনজীবী জানতে পারেন দুদিন আগে বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শাহপরান থানায় নথি প্রেরণ করা হয়েছে।

কোর্ট ইন্সপেক্টর আশরাফ আলী এ ব্যাপারে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। সম্পূর্ণ বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করেন জিআরও জাকির হোসেন। এই মূহূর্তে আমার কাছে এ ধরণের কোনো কাগজপত্র বা তথ্য নেই।
জিআরও জাকির হোসেন নথি প্রেরণের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আদালতের নির্দেশে শাহপরান থানায় নথি প্রেরণ করা হয়েছে। কিন্তু চুড়ান্ত প্রতিবেদনে ও ১ সেপ্টেম্বরের আদেশে বিচারকের স্বাক্ষর না থাকায় নকলের জন্য নথি নকল শাখায় প্রেরণ করা যাচ্ছে না। নথিতে বিচারকের পূর্ণাঙ্গ স্বাক্ষরের আগেই সংশ্লিষ্ট থানায় নথি প্রেরণের কারণ জানতে চাইলে জিআরও জাকির হোসেন প্রতিবেদককে ধমক দিয়ে বলেন, সবকিছু কী আপনাদের বলতে হবে। যা জানার সিএমএম-১ এর বিচারক সাইফুর রহমানের কাছ থেকে জেনে নিন। এটা একটা বিশেষ মামলা, উপর মহলের নির্দেশে বিচারক নিজেই এর তদারকী করছেন।

মামলার বাদী মুজিবুর রহমান বলেন, একটি কুচক্রী মহলের চক্রান্তে আমি ন্যায় বিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রকাশ্যে আদালতে আদেশ ঘোষণার ২৯ দিন পরও আদেশের নকল কর্তৃপক্ষ আটকে রেখেছেন। তাদের কারণে আমি আত্মপক্ষ সমর্থণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, আসামী মারজান, কোর্ট ইন্সপেক্টর, জিআরও মিলে একটি অদৃশ্য শক্তি সম্পূর্ণ বিষয়টি পরিচালনা করছে।
উল্লেখ্য মারজান উল হক বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তার ভাই আল মামুন জামায়াতের মালিকানাধীন ইবনে সিনা হাসপাতাল, সিলেটের একজন পরিচালক। জামায়াত নেতা আল মামুন একটি হত্যা মামলায় পলাতক আসামী হয়ে স্পেন পালিয়ে গিয়েছিলেন। মারজান উল হকের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনসহ একাধিক জালিয়াতির মামলা রয়েছে।
এদিকে ওই দিন বিকেলে জিআরও জাকির হোসেনের কক্ষে তথ্য সংগ্রহের জন্য গিয়ে দেখা যায়, তিনি একটি স্যান্ডো গেঞ্জি পড়ে নিজ চেয়ারে বসে আছেন। তার পায়ের মোজা টেবিলের ওপর রাখা রয়েছে। এর আশপাশে ছড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথিপত্র। নকলের ব্যাপারে পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হলে, জাকির জানান, স্যারের দস্তখত হলেই আমরা নকল শাখায় পাঠিয়ে দেবো।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

দেশটা কি চরিত্রহীনদের দখলে ? কে সে পার্লার হাসিনা ।বাপ দাদার নাম কদর আলীর নাতন্নী

গিরিধারী মন্দিরের সেবায়েতকে গ্রেপ্তারের নিন্দা গোলাপগঞ্জে শ্রী শ্রী গিরিধারী জিউ মন্দিরের সেবায়েত প্রাণগোবিন্দ দাসকে গ্রেপ্তারের …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open