শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১ : ৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

শোকের মাসে সিলেটের জন্য বড় সুসংবাদ

শোকের মাস আগস্ট। এ মাসে জাতির কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয় পিতাকে। হত্যা করা হয় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এবং তাঁর দুই কন্যা ছাড়া পুরো পরিবারকে।

২০০৪ সালের একই মাসে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকেও হত্যার উদ্দেশে গ্রেনেড হামলা করা হয়। কিন্তু মহান স্রষ্টার কৃপায় সে যাত্রা প্রাণে রক্ষা পান তিনি।

এই গভীর শোকের মাসে সিলেটের জন্য অনেক বড় একটি সুসংবাদ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট- ১ আসনের সাংসদ ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি জানান, বহুল আকাঙ্কিত সিলেট-ঢাকা ৬ লেন সড়কের জন্য ১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন বা ১৭৮ কোটি ডলার (১৫ হাজার ১ শ ৩০ কোটি টাকা) ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। শুক্রবার (২৭ আগস্ট) ফিলিপাইন্সের ম্যানিলায় সংস্থার বোর্ড সভায় এ ঋণ অনুমোদন করা হয়।

শুক্রবার সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ড. মোমেন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফ্রি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর (অক্সিজেনের দ্রুত সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত মেশিন) বিতরণকালে এসব তথ্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, আজকে দুঃখের মাসে এতো বড় একটি সুসংবাদ- এ বরাদ্দের কথা এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর আজ (শুক্রবার) সকালে ফোন করে আমাকে জানান।

মন্ত্রী বলেন, এ সড়কটি ১৯৯২ সালে হওয়ার কথা ছিলো। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী (সাইফুর রহমান)-কে আমেরিকায় পেয়ে এ ব্যাপারে আমি জিজ্ঞেসও করেছিলাম। কিন্তু তিনি সেসময় বলেন, আমাদের এতো গাড়ি নেই। তাই বড় সড়কেরও দরকার নেই। এরপর আমি তাঁকে আমেরিকার বোস্টন শহরের একটি কম ব্যস্ততম এলাকায় নিয়ে গেয়ে বিশাল সড়ক দেখাই।

ড. মোমেন বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা এই সড়কটির গুরুত্ব অনুধাবন করে ৪ লেন থেকে ৬ লেন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সড়কটি আমাদের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী (আবুল মাল আব্দুল মুহিত) এক নম্বরে রেখেছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে এটি আর হয়নাই।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহাসড়কের প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পুরো সিলেট অঞ্চল এবং মহাসড়কের অন্যান্য স্থানগুলো পর্যটন এবং শিল্পাঞ্চলগুলো উপকৃত হবে, যা শেষ পর্যন্ত জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।

তবে এই কাজ শুরুর ক্ষেত্রে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দুপাশে জমি অধিগ্রহণের সমস্যা নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সিলেট আর হবিগঞ্জ ছাড়া বাকি জায়গার জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু এই দুটি স্থানে জমি অধিগ্রহণের ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা টালবাহানা করছেন।

স্বপ্নের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সিলেটের স্থানীয় নেতৃত্বের সহায়তা কামনা করেন ড. এ কে মোমেন।

ভার্চুয়াল বক্তব্যে মন্ত্রী আরো বলেন- প্রথমে এই কাজটি চীনের করার কথা ছিলো। এ ব্যাপারে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সাথে চীনা প্রেসিডেন্ট ঢাকায় এসে আলোচনাও করেন। যদিও পরে এই প্রজেক্ট থেকে চীন সরে যায়। এরপরেও এই কাজটি করার জন্য ২০১৫ সাল থেকেই আমি লেগেছিলাম। এবার কাজটি সফলতার মুখ দেখছে।

প্রকল্পের কাজে অর্থ ব্যয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, এই টাকার বাইরেও জমি অধিগ্রহণের জন্য সরকারের নিজস্ব ফান্ড থেকে কিছু টাকা খরচ হবে।

এদিকে, শুক্রবার এডিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিলেট-ঢাকা করিডোর সড়কের কাজ শেষ হলে একটি নতুন আঞ্চলিক বাণিজ্য রুট চালু হবে, যা সিলেট অঞ্চল ও চট্টগ্রাম বন্দরকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির সঙ্গে আখাউড়া, শেওলা এবং তামাবিলের তিনটি স্থলবন্দরের মাধ্যমে এবং সেখান থেকে ভুটান ও মিয়ানমার পর্যন্ত সংযুক্ত করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সড়কটি দক্ষিণ এশিয়া উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এসএএসইসি) কর্মসূচির আওতায় ৫ নম্বর করিডরের প্রধান অংশ। এটি পরিবহন খরচ কমাবে, প্রতিযোগিতা বাড়াবে এবং প্রতিবেশী দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির সাথে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়তা করবে। এই অঞ্চলের মানুষের নিরাপদ প্রবেশাধিকার দেবে। এটি করার মাধ্যমে, বিনিয়োগ প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন অর্জনের লক্ষ্যে অবদান রাখবে।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঢাকা-সিলেট করিডর প্রকল্পটি চারটি ভাগে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ঢাকা-সিলেট করিডোরের দুই-লেন থেকে চার-লেনে উন্নীত করা হবে। ঢাকা-সিলেট করিডোর বরাবর প্রায় ২১০ কিলোমিটার প্রশস্তকরণের কাজ করা হবে। ধীর গতিতে চলাচলকারী যানবাহন লেনসহ রাস্তা করা হবে। ৬০ কিমি ফুটপাথ, ২৬টি ফুটব্রিজ এবং ১৩টি ওভারপাস নির্মাণ করা হবে। জলবায়ু এবং দুর্যোগের ঝুঁকিসহ বয়স্ক, নারী, শিশু এবং ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের কথা বিবেচনা করে এসবের নকশা করা হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সাউথ এশিয়ান সাব-রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (সাসেক) সিলেট-ঢাকা করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটির আওতায় দুইলেনের সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করার পাশাপাশি ধীরে যানবাহন চলাচলের জন্য দুই পাশে আলাদা দুটি লেন এবং ফুটপাত, ফুটওভার ব্রিজ ও ওভারপাস নির্মাণ করা হবে।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

লন্ডনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ডি এম হাই স্কুলের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

ডেস্ক রিপোর্টঃ বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হল বিয়ানীবাজার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকাউত্তর মুহাম্মদপুর উচ্চ …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open