রবিবার, জানুয়ারী ২৩, ২০২২ : ২:৫৮ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

খালেদা জিয়ার বক্তব্যে রাষ্ট্রদ্রোহ হয়নি : খন্দকার মাহবুব

imagesডেস্ক রিপোর্ট: বিএনপিচেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যে কোনভাবেই রাষ্ট্রদ্রোহ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। গতকাল রোববার সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের কোন সঠিক তথ্য নেই। এ বিষয়ে সঠিক তথ্য থাকা দরকার। তার এ বক্তব্যে কোনভাবেই রাষ্ট্রদ্রোহ হয়নি। খন্দকার মাহবুব বলেন, ফৌজদারী কার্যবিধির ১২৪ (এ) ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহের যে সংজ্ঞা রয়েছে, খালেদা জিয়ার বক্তব্য সে সংজ্ঞায় পড়ে না। এ সংজ্ঞা অনুযায়ী সরকারকে উৎখাতের জন্য জঙ্গি কার্যক্রম চালালে সেটা রাষ্ট্রদ্রোহ হয়। তিনি আরও বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা বা সঠিক তথ্য এখনও ঠিক করা হয়নি। শহীদদের পরিবারকে সহায়তার জন্যও সঠিক তথ্য থাকা দরকার। খন্দকার মাহবুব বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শহীদদের সঠিক তথ্য নির্ধারণের ব্যবস্থা নেবে। বিষয়টি নির্বাচনী ইশতেহারে সংযুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি। খন্দকার মাহবুব বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সঠিক। তার বক্তব্যে কোনভাবেই রাষ্ট্রদ্রোহ হয়নি। খন্দকার মাহবুব এ সময় জানান, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়েরের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে। প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে মন্তব্য করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার অনুমতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
গতকাল রাজধানীর চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) মাদক বিষয়ক এক বিতর্ক প্রতিযোগিতার ফলাফল শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এ কথা বলেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, একজন আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গত বৃস্পতিবার মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে একটি দৈনিকে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে মামলা হবে কি না জানতে পারবেন। আইন অনুযায়ী যা করা প্রয়োজন সেভাবেই প্রক্রিয়া চালানো হবে। শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক মমতাজউদ্দীন আহমেদের আবেদন বিবেচনায় এনে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে করা ওই আবেদনে বলা হয়, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। এ ছাড়া জাতির পিতা ও আওয়ামী লীগ নিয়েও বিরূপ মন্তব্য করেছেন তিনি। এসব সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত এবং প্রতিষ্ঠিত বিষয়। এ বিষয়ে নতুন করে বিতর্কের অবতারণা করায় তাঁর অপরাধ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল বলে মনে করা হচ্ছে।
খালেদা সংবিধান লঙ্ঘন করে কথা বলেছেন এবং রাষ্ট্রদ্রোহমূলক অপরাধ করেছেন। আইনি নোটিশ দেওয়ার পরও তিনি ক্ষমা চাননি বা বক্তব্য প্রত্যাহার করেননি।গত ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে খালেদা জিয়া বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে। তিনি বলেন, আজকে বলা হয়, এত লাখ লোক শহীদ হয়েছে। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে খালেদা জিয়া দাবি করেন, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না। খালেদা জিয়া একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে সবাইকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

ব্রিটিশ ভিসা সেন্টার নিয়ে সিলেটে যা বললেন রুশনারা আলী

সংক্ষিপ্ত সফরে সিলেটে অবস্থান করছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ বিষয়ক বাণিজ্যদূত ও ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি রুশনারা …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open