বৃহস্পতিবার, জুন ২৪, ২০২১ : ৩:৫৬ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

রাজনকে নিয়ে শেষ প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছেন কেয়া চৌধুরী

সিলেট ভিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কম: সিলেটের টুকেরবাজারে চুরির অপবাদে নির্মম নির্যাতনে খুন হওয়া শিশু রাজনকে নিয়ে সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর শেষ প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন হতো চললো। আজ শনিবার বিকালে সর্বশেষ প্রতিশ্র“তি ‘ঘৃণাস্তম্ভ’ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত ‘ডিও লেটার’ রাজনের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।হত্যাকান্ডের পর রাজনের বাড়িতে তার পরিবারকে শান্তনা দিতে তার মৃত্যুর পর বিভিন্ন সময়ে তার বাসায় গিয়ে তার পরিবারকে শান্তনা দিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা। এ তালিকায় স্বরাষ্টমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ অনেকেই আছেন। নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী, কেয়া চৌধুরীসহ অনেকেই নিহত রাজনের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তারা দিয়েছেন বিভিন্ন প্রতিশ্র“তি। কেউ কেউ আর্থিক সহযোগিতাও প্রদান করেছেন। রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা হত্যাকান্ডের ন্যায় বিচারের আশ্বাস প্রদানের পাশাপাশি রাজনের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা দেন।১৬ জুলাই সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী রাজনের বাড়িতে গিয়ে রাজনের মাকে বোন বলে ডাকেন। তিনি এসময় রাজনের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি এসময় তিনটি প্রতিশ্র“তির কথা তোলে ধরেন। ওগুলো হলো নিহত রাজনের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রাজনের ছোট ভাই সাজনের পড়ালেখার দায়িত্ব নেওয়া এবং রাজনের এলাকাতে একটি ‘ঘৃণাস্তম্ভ’ নির্মাণ করা। ‘ঘৃণাস্তম্ভ’ নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল এই নির্মম খুনের ঘটনাকে যাতে সাধারণ মানুষ আজীবন ঘৃণা করে, এরকম খুন যাতে আর সংঘটিত না হয়।ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন রাজনের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। তার বাড়িতে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকীর সিলেট সফরকালে  মতবিনিময় সভায় কেয়া চৌধুরী সাজনের পড়ালেখার বিষয় ও ‘ঘৃণাস্তম্ভ’ স্থাপনের বিষয়টি তুলে ধরেন।মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী রুবী ফাতেমা ইসলাম সাজনের পড়ালেখার দায়িত্ব নিয়েছেন। আর ‘ঘৃণাস্তম্ভ’ স্থাপনের লক্ষ্যে কেয়া চৌধুরী থোক বরাদ্দ হিসেবে ২ লাখ টাকা অনুমোদন করিয়েছেন। সিলেট জেলা পরিষদের মাধ্যমে এই স্তম্ভ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। চলতি অক্টোবর মাসেই এ কাজটি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার বিকালে রাজনের পরিবারের কাছে এ সংক্রান্ত অনুমোদন পত্র সমজিয়ে দেওয়া হবে। রাজনের পরিবারই নির্ধারণ করবেন কোথায় এ স্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। রাজনের বাড়িতে, এলাকার বিদ্যালয়ে না রাজনের কবরের পাশে এই স্তম্ভ নির্মাণ করা হবে এটি নির্ধারণ করবেন তার পরিবারের সদস্যরাই।প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই সকালে সিলেটের কুমারগাঁওয়ে পৈশাচিক নির্যাতন করে ১৩ বছরের শিশু সামিউল আলম রাজনকে হত্যা করা হয়। নিহত রাজন কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী ভাইয়ারপাড় গ্রামের মাইক্রোবাস চালক শেখ আজিজুর রহমানের ছেলে।শিশু রাজনকে পেটানোর ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে নির্যাতনকারীরাই ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। ২৮ মিনিটের ওই ভিডিও দেশ-বিদেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ওঠে প্রতিবাদের ঝড়। এই খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যে আসামীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল আসামী সৌদি আরবে আটক রয়েছে। তাকে দেশে আনার প্রক্রিয়া চলমান আছে।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বিশ্বনাথে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি মেম্বার গ্রেফতার

সিলেটের বিশ্বনাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে উপজেলার দৌলতপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open