মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১ : ১১:১১ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

‘দুদকের আইনি জালে আটকা তারা’

আইনি লড়াইয়ে উচ্চ আদালতে উল্লেখযোগ্য মামলায় সফলতার পাল্লাই ভারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)। চলতি বছরের প্রথম আট মাসের কয়েকটি মামলার রায় পর্যালোচনা করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। বেশিরভাগ মামলাতেই আইনি লড়াইয়ে জিতেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

তার মধ্যে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম এবং আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল হাজারীর মামলা রয়েছে।

অপরদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, বিএনপি নেতা হাফিজ ইব্রাহিমের মামলাও উল্লেখযোগ্য।

এসব মামলার রায়ে মায়া, হাজী সেলিম, জয়নাল হাজারী ও হাফিজ ইব্রাহিমকে হাইকোর্টের দেওয়া খালাসের রায় বাতিল করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা দু’টি মামলা বিচারিক আদালতে সচলেরও রায় হয়েছে।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বাংলনিউজকে বলেন, মানুষের ধারণা, উচ্চ আদালতে দুদকের আইনজীবীদের পারফমেন্স ভালো। চলতি বছরে অনেক মামলায় জয়লাভ করেছে দুদক। বিচারিক আদালতের একটি রায় উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ পর্যন্ত বহাল থাকলে আমি মনে করি সেটাই পরিপূর্ণ সফলতা।

খালেদা জিয়া
গত ১৮ জুন এক রায়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা নাইকো দুর্নীতি মামলা বাতিল চেয়ে করা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, বিচারিক আদালতে নাইকো দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম চলবে এবং ওই রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার দুই মাসের মধ্যে খালেদা জিয়াকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর করা এ মামলাটির কার্যক্রম ২০০৮ সালের ৯ জুলাই স্থগিত করে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এ রুলের চূড়ান্ত শুনানির পর গত ১৮ জুন হাইকোর্ট রুল খারিজ দেন।

এছাড়া গত ৫ আগস্ট গ্যাটকো মামলায়ও রুল খারিজ করে দিয়ে মামলার স্থগিতাদেশ তুলে দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে খালেদা জিয়াকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নিদের্শ দেন।

২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর করা মামলাটির কার্যক্রম ওই বছরই স্থগিত এবং রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

মওদুদ আহমদ
গত ২৩ জুন রাজধানীর গুলশানে বাড়ি আত্মসাত সংক্রান্ত দুনীতি দমন কমিশনের করা এক দুর্নীতির মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়া প্রশ্নে রুল খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। ফলে বিচারিক আদালতে মওদুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়ার আদেশ বৈধ বলে জানান আইনজীবীরা।

২০১৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর অবৈধভাবে বাড়ি দখল ও আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় মওদুদ ও তার ভাই মনজুর আহমদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করে দুদক।

২০১৪ সালের ১৪ জুন অভিযোগ আমলে নেন বিচারিক আদালত। এ আদেশের বিরুদ্ধে মওদুদ আহমদ রিভিশন করলে হাইকোর্ট রুল জারি করেন।

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া
২৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়ার দায়ে ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালত মায়াকে ১৩ বছর কারাদণ্ড, পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা এবং প্রায় ছয় কোটি টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করেন।

আপিলের পরে ২০১০ সালের ২৭ অক্টোবর আওয়ামী লীগের এ নেতার ১৩ বছরের কারাদণ্ড বাতিল করেছিলেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে দুদকের আবেদন মঞ্জুর করে গত ১৪ জুন আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেওয়া খালাসের রায় বাতিল করেন এবং নতুন করে এ মামলার আপিল শুনানির নির্দেশ দেন।

হাজী মোহাম্মদ সেলিম
অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। আপিলের পর ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি হাইকোর্ট তার সাজা বাতিল করেন। পরবর্তীতে এ রায়ের বিরুদ্ধে দুদকের আপিলের প্রেক্ষিতে খালাসের রায় বাতিল করে গত ১২ জানুয়ারি পুনরায় হাইকোর্টে আপিল শুনানির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।

জয়নাল হাজারী
জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ১ কোটি ১২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা অর্জনের দায়ে ২০০৮ সালের ২৭ নভেম্বর বিচারিক আদালত জয়নাল হাজারীকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা জরিমানা করেন।

এ রায়ের বিরুদ্ধে জয়নাল হাজারী আপিল করলে ২০১১ সালের ৫ ডিসেম্বর তাকে খালাস দেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের এ রায়ের  বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক। সোমবার (৩১ আগস্ট) খালাসের রায় বাতিল করে হাইকোর্টে পুনরায় আপিল শুনানির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।

হাফিজ ইব্রাহিম
গত ২৪ আগস্ট জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের বড় ভাই বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিমকে ১৩ বছরের দণ্ড থেকে খালাস দিয়ে হাইকোর্টের রায় বাতিল করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

তিন মাসের মধ্যে বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চে পুন:শুনানির নির্দেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বেতন স্কেল ১০ গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবি প্রধান শিক্ষকদের

ডেস্ক রিপোর্ট :: দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড (নন-ক্যাডার) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় প্রধান শিক্ষকদের প্রবেশ পদে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open