শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১ : ৯:৫০ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

সিলেটে কুরবানীর গরু চাহিদা আড়াই লাখ, প্রস্তুত নেই দেড় লাখও

স্টাফ রির্পোটারঃ কুরবানীর জন্য সিলেটে প্রায় আড়াই লাখ গরুর চাহিদা থাকলেও প্রস্তুত নেই দেড় লাখও। ফলে এবারও আমদানি নির্ভর থাকতে হচ্ছে সিলেটের পশু ব্যবসায়ীদের। আর এ কারণে দামও অনেক চড়া হতে পারে বলে আশংকা করছেন ক্রেতা-বিক্রেতা সকলেই। একইভাবে চাহিদার তুলনায় পরিমাণে কম রয়েছে ছাগল-ভেড়াসহ অন্যান্য প্রাণীর সংখ্যাও। তবে, এজন্য হতাশ হওয়ার কারণ নেই জানিয়ে বিভাগীয় প্রাণি সম্পদ অফিস বলছে, প্রতি বছরই যথেষ্ট সংখ্যক বাইরের পশু আসে। এবারও আসবে। সিলেট বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জরিপ মতে, গত বছর সিলেটে দুই লাখ ৪৫ হাজার ১৭টি গরু কুরবানী দেয়া হয়। এবার সে সংখ্যা আড়াই লাখ পেরিয়ে যাবে। সে তুলনায় এবার সিলেটে কুরবানীর জন্য এক লাখ ৩৭ হাজার ৮৭৪টি গরু প্রস্তুত আছে। এর মধ্যে সিলেটে ৪৫ হাজার ৯৩৮টি, মৌলভীবাজারে ২৪ হাজার ৬৪৭টি, হবিগঞ্জে ২৮ হাজার ৩৪৬টি ও সুনামগঞ্জে ৩৮ হাজার ৯৪৩টি গরু রয়েছে। গত বছর সিলেট ছাগল ও ভেড়া কুরবানী হয় এক লাখ ২২ হাজার ৫৪৪টি। এবার সে সংখ্যা দেড় লাখ হতে পারে। কিন্তু সিলেটে এবার ছাগল আছে ৫১ হাজার ৬৪৮টি ও ভেড়া আছে ৩৪ হাজার ৭১৩টি। ছাগল ও ভেড়া মিলিয়ে যোগফল ৮৬ হাজার ৩৬১টি হলেও ঘাটতি রয়েছে ৬৩ হাজার ৬৩৯টি’র। এর মধ্যে সিলেটে ২৭ হাজার ৭৪৩টি, মৌলভীবাজারে ১৭ হাজার ৭৪৫টি, হবিগঞ্জে ১৯ হাজার ৬৪৩টি ও সুনামগঞ্জে ২১ হাজার ২৩০টি ছাগল ও ভেড়া কুরবানীর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। গত কুরবানী ঈদে সিলেটে ৭ হাজার ৮১৯টি অন্যান্য পশু (উট, দুম্বা ইত্যাদি) কুরবানী দেয়া হয়। এবার চাহিদা আছে অন্তত ৮ হাজার। অথচ সিলেটে অন্যান্য পশুর যোগান আছে মাত্র ৯১২টি। এর মধ্যে সিলেটে ৩৪৮টি, মৌলভীবাজারে ২৩৭টি, হবিগঞ্জে ১৮৪টি ও সুনামগঞ্জে ১৪৩টি রয়েছে। তবে, প্রাণি সম্পদ বিভাগের জরিপে মহিষের কোনো চাহিদা উল্লেখ না থাকলেও পুরো সিলেটে ১৫ হাজার ৬২৪টি মহিষ কুরবানীর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে রয়েছে ৪ হাজার ৪২১টি, মৌলভীবাজারে ৩ হাজার ৫৮৪টি, হবিগঞ্জে ৪ হাজার ১২৩টি ও সুনামগঞ্জে ৩ হাজার ৪৯৬টি মহিষ রয়েছে। এ পরিসংখ্যানের হিসেব কীভাবে করা হয়েছে জানতে চাইলে সিলেট বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অফিসের হেড এসিস্ট্যান্ট মো. খুরশিদ আলম ছাঈদি জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেক আমাদের উপজেলা অফিসগুলো মাঠ পর্যায়ে এই জরিপ চালিয়েছে। তারা জেলা অফিসে জরিপ জমা দেয়ার পর বিভাগীয় অফিস সেটি সমন্বয় করেছে। এদিকে, চাহিদার তুলনায় যোগান অনেক কম হওয়ায় সিলেটে এবার কুরবানী পশুর দাম চড়া হতে পারে বলে মনে করছেন পশু ব্যবসায়ীরা। সিলেট নগরীর কাজিরবাজারের গরু ব্যবসায়ী আফজল হোসেন বলেন, ‘ভারত থেকে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ গরু না আসে তবে দাম অনেক বেশি বেড়ে যাবে।’ পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা নুরুল আমীন নামের এক ক্রেতা জানালেন,প্রতি বছরই সিলেটবাসীকে দেশের অন্যান্য জায়গার তুলনায় বেশি দাম দিয়ে কুরবানী পশু কিনতে হয়। সিলেটে পশু পালনে সরকারি উদ্যোগ কম বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে চাহিদার তুলনায় সংখ্যা কম হলেও সমস্যা দেখছেন না বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা: মো: নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ হিসেব শুধু খামারী গরুর। মূলত সিলেটে সব মিলিয়ে ২৯ লাখ গরু আছে। ভারতসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও সিলেটে কুরবানীর পশু আসে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ ও জামালপুর কুরবানীর সময় ঘনিয়ে আসলে বাইরের গরু চলে আসবে। তাই দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ নেতাদের বহিষ্কার, ওবায়দুল বলছেন ‘অ‌্যাকশনের প্রমাণ’

ডেস্ক রিপোর্ট :: রাজধানীর গুলিস্তানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে চলা সংঘর্ষের সময়ে ঢাকা দক্ষিণ …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open