বুধবার, ডিসেম্বর ৮, ২০২১ : ২:৫০ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

শরীরী সৌন্দর্যের ওপর ইন্ডাস্ট্রির চাপ!

সিলেটভিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম:৬ জুন, ভারতের তেলেগু অভিনেত্রী আরতি আগরওয়াল মুত্যুবরণ করেন। তার এ আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা নায়িকাদের শরীরী সৌন্দর্যের ওপর ইন্ডাস্ট্রির চাপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কলকাতার একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির প্রেক্ষাপটে নায়িকাদের হতে হবে স্বপ্নসুন্দরী। দর্শকের কল্পনাকে ভরিয়ে দিতে তাদের থাকতে হবে একেবারে মাপে মাপে। কোথাও এতটুকু এদিক-ওদিক হলেই ক্যারিয়ার বরবাদ। এই চাপ নায়িকাদের সারাক্ষণই তাড়া করে বেড়ায়। ফলে সেই চাপই হয়তো মৃত্যুর দিকে এগিয়ে দিয়েছে তেলেগু অভিনেত্রী আরতিকে।

মাত্র ৩১ বছর বয়সি আরতি আগরওয়াল শরীরের মেদ কমাতে লিপোসাকশন অপারেশনের কারণে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। প্রথমে হায়দরাবাদের এক ডাক্তারের কাছে মেদ ঝরানোর অপারেশনের জন্য গিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। কিন্তু ডাক্তার অপারেশনে রাজি হননি, কেননা আরতি এমন মেদবহুল ছিলেন না যে এই অপারেশন করা যায়। পরে আমেরিকায় গিয়ে তিনি এই অপারেশন করান। আর তাতেই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন এ অভিনেত্রী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মেদ ঝরানোর এই অপারেশন বিপজ্জনক। কারণ শরীরে যে পরিমাণ মেদ অপারেশনের মাধ্যমে বাদ দেওয়া হচ্ছে তার বিকল্প হিসেবে শরীরে পর্যাপ্ত তরল সরবরাহ করতে হয়। দু-তিন কেজি মেদ ঝরানো ঠিক হলেও, পরিমাণ যদি আট-নয় কেজি হয়, তাহলে এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিতে হয়। অন্যথায় বিপদ অবশ্যম্ভাবী। সম্ভবত এই ভারসাম্য ঠিকঠাক বজায় না থাকার কারণেই বিপদ ঘটে আরতির ক্ষেত্রেও।

দেখতে আরো বেশি সুন্দর হওয়ার জন্য নায়িকাদের সার্জারি নতুন কিছু নয়। বলিউডে শিল্পা শেঠির ‘নোজ সার্জারি’ একসময় চর্চার বিষয় ছিল। মাত্র ১৮ বছর বয়সে, ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সিনেমাতেই এই অপারেশন করান শিল্পা। পরে তিনি জানিয়েছিলেন, এই অপারেশন আসলে তাকে বেকায়দাতেই ফেলেছিল। একই মত অভিনেত্রী কোয়েনা মিত্ররও। ‘নোজ সার্জারি’র পর নাকের আশপাশের হাড় ফুলে যেতে শুরু করে। তবে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হওয়ায় বড় কিছুর হাত থেকে বেঁচে যান কোয়েনা।

সিনেমায় ভালো দেখাতে গিয়ে পরিচালকরাও নায়িকাদের এ রকম সার্জারি করার পরামর্শ দেন বলে মনে করেন বলিউডের একাংশ। আবার কেউ কেউ মনে করেন, সিদ্ধান্ত একান্তই নায়িকাদের। তারাই ক্যারিয়ারের জন্য এরকম সার্জারির সিদ্ধান্ত নেন।

আর এতেই প্রশ্ন উঠছে। তবে কী সেরা নায়িকাদের দৌড়ে থাকতে গিয়েই এরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আরতি? আর এ ক্ষেত্রে ইন্ডাস্ট্রির ক্রমবর্ধমান চাপ অস্বীকার করা যায় না। নায়িকাদের শরীরকে বিপণনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন অনেক পরিচালকই। মাইনাস ডিগ্রিতেও শরীর প্রদর্শনে বাধ্য হন তারা। সেটাই ইন্ডাস্ট্রির চাহিদা। সে রকমই আরেক চাহিদা মাত্রাতিরিক্ত স্লিম থাকা। তাই হয়তো ডাক্তারি প্রয়োজন না থাকলেও মেদ ঝরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আরতি। সিনেমাকে নারীর শরীর প্রদর্শনের মাধ্যম না করে তুললে হয়তো আরতিকে মেদ ঝরিয়ে অকালে ঝরে যেতে হতো না।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

আয়নাবাজি মুক্তি পাচ্ছে কানাডা-অস্ট্রেলিয়ায়

বিনোদন ডেস্ক ; অমিতাভ রেজা চৌধুরীর আলোচিত চলচ্চিত্র ‘আয়নাবাজি’ বাংলাদেশে মুক্তি পায় গেল ৩০ সেপ্টেম্বর। …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open