সোমবার, অক্টোবর ২৫, ২০২১ : ৭:১২ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

কুলি থেকে কোটিপতি!

সিলেটভিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম: হিরণ মিয়া। হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের লাগেজ স্টাফ। বিমানবন্দরের লাগেজ বহন করেই তিনি এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। রাজধানীর বুকে গড়ে তুলেছেন বহুতল দু’টি বাড়ি। সেই সঙ্গে স্বর্ণালঙ্কারসহ বিপুল অংকের ব্যাংক ব্যালেন্স তো আছেই!

এই অবিশ্বাস্য উত্থানেই সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে, বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। হিরণের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আসার পর তা খতিয়ে দেখার বা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

এজন্য দুদকের উপ-পরিচালক মো. নাসির উদ্দিনকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দুদকে আসা এক অভিযোগ যাচাই শেষে সম্প্রতি কমিশনের এক সভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়।

দুদক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দুদকে আসা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিমানবন্দর থেকে লাগেজ খুলে মালামাল তছনছ করা, লাগেজ চুরি করাসহ সাধারণ যাত্রী হয়রানি এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এসব কর্মকাণ্ডের মূলে জড়িত থাকেন বন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তাসহ লাগেজ স্টাফ এমনকি সুইপার পর্যন্ত। লাগেজ স্টাফদের সাধারণত বিমানবন্দরের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী হিসেবে ধরা হয়। যাদের ‘কুলি’ও বলে।

এরকমই এক লাগেজ স্টাফ বা কুলি হিরণ মিয়া। তিনি যাত্রীর লাগেজ টেনে (!) কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন। হিরণ মিয়া এখন ঢাকায় দু’টি বাড়ির মালিক। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরার দক্ষিণখানে আজমপুর রোডে ৭ তলা বিশিষ্ট একটি বাড়ি এবং একই এলাকার ৩ নম্বর রোডে ৩তলা একটি বাড়ি আছে। যেগুলো আনুমানিক মূল্য ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকারও বেশি। সেই সঙ্গে স্ত্রী রুনা লায়লার স্বর্ণালঙ্কারসহ ব্যাংক ব্যালেন্স আছে কয়েক কোটি টাকার।

তবে হিরণ মিয়া এতোটায় ধূর্ত যে নিজের বাড়ি থাকা সত্ত্বেও, তিনি থাকেন ‍উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের ২৭ নম্বর রোডের (হাউজ নম্বর-১৪) একটি ভাড়া বাড়িতে। একজন লাগেজ স্টাফের বেতন অনুযায়ী তিন বেলা পেটপুরে খাওয়ার পর টাকা জমানোই দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। অথচ তিনি যে পরিমান সম্পদের মালিক, তা একজন সাধারণ ব্যবসায়ীর পক্ষেও অসম্ভব। আর তা অনুসন্ধান করলেই বেরিয়ে আসবে বলেও উল্লেখ করা আছে দুদকে আসা ওই অভিযোগে।

গত সপ্তাহে দুদকের উপ-পরিচালক মো. নাসির উদ্দিনকে অনুসন্ধানী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি ইতিমধ্যে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র হাতে পেয়ে অনুসন্ধানেও নেমে পড়েছেন। আর তাই খুব শিগগিরই অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যাপারে জানতে হিরণ মিয়া ও তার স্ত্রী রুনা লায়লাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান বলেন, ‘এ ব্যাপারে (হিরণ মিয়ার অবৈধ সম্পদ অর্জন) সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। তবে এই মুহূর্তে কিছু মনে নাই। তাই অভিযোগের বিষয়ে কিছু বলতেও পারছি না।’

-বাংলামেইল

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

ফোনে বিরক্ত করায় যুবককে উলঙ্গ হাঁটালেন নারী কর্মীরা

ডেস্ক রিপোর্ট :: ফোনে মেয়েদের বিরক্ত করার অভিযোগে এক যুবককে উলঙ্গ করে রাস্তায় হাঁটালেন ভারতের …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open