বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২০ : ১১:৪৩ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

খাগড়াছড়িতে চলছে ‘বৈসাবি’ উৎসবের আমেজ

1খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :: পাহাড়ের প্রাণের উৎসব ও পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরাসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিসত্তাসমূহের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব বৈসু-সাংগ্রাই-বিঝু বা বৈ-সা-বি উৎসবকে ঘিরে খাগড়াছড়ি জেলার প্রতিটি জনপদ এখন উৎসবের জোয়ারে ভাসছে।

আগামী ১২ এপ্রিল ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে তিনদিন ব্যাপী বৈসাবি উৎসব।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী বৈসাবি উৎসবের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। ত্রিপুরাদের বৈসু, মারমাদের সাংগ্রাই আর চাকমাদের বিজু- এই তিনের আদ্যক্ষরের সম্মিলন হচ্ছে `বৈসাবি`।

পাহাড়িদের এ উৎসব আগামী ১২ এপ্রিল শুরু হয়ে চলবে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। তবে কোথাও কোথাও এ উৎসব চলবে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত।

ইতোমধ্যে গ্রাম থেকে গ্রামে পুরোদমে চলছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী নানা খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অতিথি আপ্যায়নের প্রস্তুতি। এ উৎসবকে ঘিরে অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠান আনন্দর্যালি, মারমাদের ঐতিহ্যবাহী ওয়াটার ফেস্টিবল বা পানি উৎসব এবং ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের গড়িয়া নৃত্যের আয়োজন থাকবে।

5আগামী ১২ এপ্রিল চাকমাদের ফুল বিজুর মধ্য দিয়ে পাহাড়ে শুরু হবে উৎসবের সুচনা। এ বিজুর সঙ্গে রয়েছে চাকমাদের ধর্মীয় অনুভূতির সম্পর্ক। আর ১৩ এপ্রিল অর্থাৎ নববর্ষের আগের দিন ‘হারি বৈসু’ পালন করে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে মারমাদের সাংগ্রাইয়ের সূচনা। বৈচিত্র্যময় আয়োজনে বর্ষবরণে খাগড়াছড়ির পাহাড়ি পল্লীগুলোতে চলছে নানা প্রস্তুতি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যেকটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবার উৎসবমুখর পরিবেশে নিজ নিজ উৎসব পালন করবে। গত কয়েক বছর ধরে অনুকূল পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠী বৈসাবি পালন করে আসছে উৎসব ও প্রাণোঞ্চল আমেজে। প্রত্যন্ত পাহাড়ি পল্লীতে এবারো বৈসাবি উৎসবের ব্যাপক প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। পাহাড় জুড়ে এখন সাজ সাজ রব।

বৈসাবি উৎসবের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি নারীদের গৌরবোজ্জল ইতিহাস জড়িয়ে আছে। তাই উৎসবের প্রতিটি পর্বে নারীর পূর্বাপর ভূমিকার বিষয়টি মাথায় রেখে এবারও নারীদের জন্য ঐতিহ্যবাহী খেলাধূলা ও বয়নসহ নানা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে বলে জানা গেছে।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও জেলা  প্রশাসনের বাইরেও স্থানীয় পাহাড়িরা নিজেদের মতো করে বৈসাবি উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে।

2অন্যদিকে প্রতিবারের ন্যায় এবছরও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সম্মিলিতভাবে বৈসাবি উদযাপন করবে। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউটও পাহাড়ে ভিন্ন আমেজের সঙ্গে নতুন বছরকে বরণের প্রস্তৃতি নিয়েছে।

বৈসাবিকে সামনে রেখে এরই মধ্যে জেলা ও উপজেলা শহরের পাশাপাশি বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতে বেচাকেনার ধুম পড়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-বয়সের নারী-পুরুষ পাঁচন, শুটকি এবং নতুন কাপড় কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে দোকানগুলোতে। আর বৈসাবি উপলক্ষে ব্যস্ততা বেড়েছে ছোটবড় দোকানিদেরও। বৈসাবি উৎসব ও বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে বিপণি বিতানগুলোতে এখন পাহাড়িদের পাশাপাশি বাঙালি তরুণীদেরও উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বাঙালিরাও পাহাড়িদের সঙ্গে একাকার হয়ে মিশে যাবে প্রাণের উৎসবে। পাহাড়িদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাঙালি বধূরাও বিশেষ ধরনের সবজি ‘পাঁচন’ রান্নায় পিছিয়ে থাকবেনা।

খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা পাহাড়ের প্রতিটি নাগরিককে আগাম বৈসাবি শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, পাহাড়ে বৈসাবির উৎসব ছড়িয়ে দিতে যা যা প্রয়োজন সবকিছু করা হবে। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী ‘বৈসাবি’ উৎসব আনন্দমুখর করতে পাহাড়ি-বাঙালি সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এদিকে নববর্ষের পূর্বে খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভুইয়া বৈসাবি উপলক্ষে সকল সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, এ উৎসব কারো একার নয়, এটা সার্বজনিন উৎসব। এ উৎসবে পাহাড়ি-বাঙালি সকলে একাকার হয়ে উৎসব পালন করবে। তিনি আশা করেন, বৈসাবি পাহাড়ের প্রতিটি নাগরিককে এক সুতোয় গেঁথে দেবে।

১৯৮৫ সাল থেকে খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের সম্মিলিত উদ্যোগে ‘বৈ-সা-বি’ নামে এ উৎসব পালন করে আসছে। সময়ের ব্যবধানে নিজ নিজ সম্প্রদায়ের কাছে ‘বৈসাবি’ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমা সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব নামে ‘ত্রিপুরা ভাষায় বৈসু, মারমা ভাষায় সাংগ্রাই এবং চাকমা ভাষায় বিজু’ নামে এ উৎসবটি পালন হয়ে থাকে।

সংশ্লিষ্টদের মতে অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এ বছর খাগড়াছড়িতে এবার উৎসব মুখর পরিবেশে বৈ-সা-বি পালিত হবে। অন্যান্য বছরের মতো এবারও ‘বৈসাবি’ উৎসবকে আরও আনন্দমুখর করতে সরকার তিন পার্বত্য জেলায় দুই দিনের ঐচ্ছিক ছুটি ঘোষণা করেছে ইতোমধ্যে।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

ফাহিমের পর শরীফও ক্রসফায়ারে

স্টাফ রিপোর্টার :: শিক্ষক হত্যা চেষ্টায় আটক ফাইজুল্লাহ ফাহিমের পর এবার ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে ব্লগার …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open