রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২০ : ৪:৪৮ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

লজ্জাজনক হার দিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করলো টাইগাররা

1_107089ক্রীড়া ডেস্ক: ‘ইডেনে যদি নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারি, তাহলে প্রমাণ হয়ে যাবে টি-২০তেও আমরাও স্বীকৃত শক্তি’। বাংলাদেশ অধিনায়কের কথা টেকেনি। বরং পাকিস্তানের পর নিউজিল্যান্ডের কাছেও ইডেনে চরম হেনস্তা হতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

নিউজিল্যান্ডকে হারানো তো দূরের কথা, এমন লজ্জাই সঙ্গী হলো যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট সাম্প্রতিক সময়ে যে সুনাম কুড়িয়েছিল, সেটা ইডেনের ধূলায় মিশে যাওয়ার উপক্রম। ১৪৫ রানের টার্গেট ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ অলআউট মাত্র ৭০ রানে। ১৫.৪ ওভারেই শেষ হয়ে গেল ইনিংস।

৭৫ রানের বড় ব্যবধানে হার শুধু নয়, টি-২০ ক্রিকেটে এদিন নিজেদের সবচেয়ে বাজে ব্যাটিং নমুনাটাও দেখালো টাইগাররা। এরআগে টি-২০ ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর ছিল ৭৮। ২০১০ সালে হ্যামিলটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাকুল্যে ওই রান করেছিল টাইগাররা। আজ হয়ে গেল নতুন নজির, যেটা সম্মানের নয়, খুব লজ্জার। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপ থেকে খালি হাতেই বিদায় নিতে হলো বাংলাদেশকে। আরা টানা চার ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই সেমিতে কিউইরা।

২২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে বিশ্বকে একরকম কাঁপিয়েই দিয়েছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু মুস্তাফিজের সেই বোলিংয়ের মর্যাদাটা দিতে পারেননি ব্যাটসম্যানরা। উইকেটে টার্ন ছিল। তাই বলে এই উইকেটে ১৪৬ রান করা যাবে না, এটা ঠিক নয়। আসলে ৩ রানে তামিমের রান আউটই বাংলাদেশের মনোবল ভেঙ্গে দেয়। কিউই স্পিন বোলিংয়ের সঙ্গে নিজেদের এতটুকু মানিয়ে নিতে পারেননি কেউ। মারতে গেলেই ক্যাচ আউট হয়ে গেছেন। বাংলাদেশ অলআউট ৭০ রানে। সর্বোচ্চ ১৬ রান এসেছে শুভাগত হোমের ব্যাট থেকে। নিউজল্যান্ডের পক্ষে তিনটি করে উইকেট নেন ইলিয়ট ও সোধি।

এর আগে মুস্তাফিজের বিধ্বংসী বোলিং সত্বেও ব্যাট করে ৮ উইকেট ১৪৫ রান তুলে নিউজিল্যান্ড। এদিনও শুরুটা নেহাত খারাপ ছিল না নিউজিল্যান্ডের। অধিনায়ক উইলিয়ামস ভালই মেজাজ দেখাচ্ছিলেন। ফলে তরতর করে রান উঠছিল কিউইদের। চিন্তায় পড়ে যায় বাংলাদেশ। তবে ওপেনার নিকোলসকে ৭ রানে বোল্ড করে স্বস্তি এনে দেন কাটার বয় মুস্তাফিজ। জ্বলে ওঠার এই শুরু মুস্তাফিজের। ২৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড।

গত দুই ম্যাচে পাওয়ার প্লেতে ৫০ এর বেশি রান তুলেছে কিউইরা। এদিন প্রথম পাওয়ার প্লেতে আসে ৩৯ রান। আর ৫০ রান পূর্ণ হয় ৭.৩ ওভারে। কেন উইলিয়ামসন ও মোনরো জুটি বাংলাদেশের দুর্ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ৩২ বলে ৪২ রান করা উইলিয়ামসনকে সরাসরি বোল্ড করে আবারও স্বস্তি এনে দেন মুস্তাফিজ। এরপর মোনরোকে ৩৫ রানে ফেরান আল আমিন। বিপদজনক হতে পারতেন কোরি অ্যান্ডারসন। তবে তাকে ০ রানে বোল্ড করে দেন মাশরাফি।

রস টেলর জানেন, কীভাবে রান বাড়িয়ে নিতে হয়। এবং সেটাই তিনি করে যাচ্ছিলেন বাংলাদেশের চিন্তা বাড়িয়ে। আল আমিনের বলে যখন তিনি ক্যাচ তুলে দিলেন, তখন ২৪ বলে ২৮ রান করে ফেলেছেন টেলর।

প্রথম দুই ওভারে রান দিয়েছিলেন মাত্র ৭, উইকেট ২টি। মুস্তাফিজ স্বপ্নের বোলিং করলেন তৃতীয় ওভারেও। এ ওভারে তিনি ফেরান ইলিয়টকে। তিন ওভার শেষে তার বোলিং ফিগার, ১২ রানে ৩ উইকেট। মুস্তাফিজ কি পাঁচ উইকেট নিতে পারবেন? সেই সম্ভাবনা নিয়ে নিজের ও দলের শেষ ওভার বল করতে আসেন কাটার বয়। এবং তাতে তিনি শুধু সফলই নন, বরং ভয়ানকভাবে সফল। ওভারের চতুর্থ ও পঞ্চম বলে সান্টনার ও নাথান ম্যাককালামকে বিভৎসভাবে বোল্ড করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুললেন। হ্যাটট্রিক হয়নি। কিন্তু এই স্পেলটা মনে রাখার মতো।

মাত্র ২২ রান দিয়ে ৫ উইকেট। টি-২০ ক্রিকেটে বাংলাদেশিদের মধ্যে এটা দ্বিতীয় সেরা বোলিং ফিগার। আর এ বোলিং দিয়ে এবারের বিশ্বকাপে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন সবাইকে। কারণ মুস্তাফিজের এ বোলিংটাই এবারের বিশ্বকাপ সেরা।

মুস্তাফিজ জ্বলে উঠেছিলেন বলেই তো, ৮ উইকেটে ১৪৫ রানের বেশি করা হয়ে ওঠেনি কিউইদের। আল আমিন পান ২ উইকেট।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

আর্জেন্টিনায় সবাইকে ছাড়িয়ে মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক :  এখনো ‘কালি’টা পুরোপুরি মুছে যায়নি। তিন নাকি হট ফর ক্লাব, নট ফর …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open