বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২১, ২০২১ : ৬:৪৫ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

আদিবাসীদের ভাষারও সুরক্ষা প্রয়োজন

1439034183 বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে আমাদের অমর একুশের অবস্থান অনন্য। মহান একুশের চেতনায় উজ্জীবিত বাঙালি জাতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আপসহীন ও অকুতোভয় নেতৃত্বে আন্দোলন করে এগিয়ে গেছেন। ভাষা আন্দোলন জাতির জন্য বিরাট গৌরবের বিষয়।
আমাদের অমর একুশে এখন সারা পৃথিবীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে উদযাপিত হচ্ছে। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর এটা আমরা অর্জন করি। ইউনেসকোর ৩০তম সাধারণ সম্মেলন বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করে। আমাদের ভাষাশহীদদের মতো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা নিজ নিজ মাতৃভাষা রক্ষার্থে এই দিনে নতুন করে অঙ্গীকার করছেন। সারা দেশ ও বাঙালি জাতির জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন।
তখন আমাদের প্রস্তাবের মূল প্রতিবাদ্য বিষয় হচ্ছে, সব মাতৃভাষা রক্ষা করা; কারণ বিশেষজ্ঞ ও ভাষাবিদরা বিভিন্ন মাতৃভাষার দ্রুত বিলুপ্তিতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাঁরা স্বীকার করেন, এ বিলুপ্তি একটা চলমান প্রক্রিয়া এবং মানবসভ্যতার সূচনাপর্ব থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩০ হাজার ভাষা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অনেক বিলুপ্ত ভাষা কোনো চিহ্ন রেখে যায়নি। তবে বর্তমানে যে গতিতে ভাষার অপমৃত্যু ঘটছে, সেটাই হলো সবচেয়ে উদ্বেগজনক ব্যাপার। তাদের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়া বন্ধ না হলে বর্তমানে প্রচলিত ৯৫ শতাংশ মাতৃভাষা এ শতাব্দীতেই বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগতে পারে, বিশ্বায়নের এই যুগে সব মাতৃভাষা রক্ষা করা কেন প্রয়োজন ? কারণ ভাষাই হলো মানবজাতির আপন সত্তাকে যথাযথভাবে প্রকাশ করার সবচেয়ে উপযুক্ত মাধ্যম। একবার ভাষা হারিয়ে গেলে আমরা মানবজাতির অভিন্ন ঐতিহ্যের একটি অংশ হারিয়ে ফেলি। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র ও ভাষাগত বহুত্ববাদের ভিত্তিতে শুধু সত্যিকারের বিশ্বায়ন ঘটতে পারে।
বিশ্বজনীন ভাষা হারিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা আমাদের দেশের জন্যও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলা আমাদের রাষ্ট্রভাষা; কিন্তু এ ছাড়া আমাদের প্রায় ৩০টি উপজাতীয় ভাষা আছে ও প্রায় ২০ লাখ লোক এসব ভাষায় কথা বলে। শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামেই ১৩টি উপজাতীয় ভাষা আছে। সর্ববৃহৎ গোষ্ঠী চাকমাদের নিজস্ব ভাষা ও লিপি (স্ক্রিপ্ট) আছে। মারমা, টিপরা, রিয়াং ও মুরাংদেরও স্বতন্ত্র ডায়ালেক্ট আছে। একইভাবে অন্যান্য জেলায় বসবাসরত মনিপুরি, খাসিয়া, গারো ও সাঁওতালদের আপন ভাষা আছে। এগুলোর মধ্যে কোনো কোনো ভাষার বাচন একেবারেই ভিন্ন। এই আদিবাসীদের ভাষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সুরক্ষা করা প্রয়োজন। বাড়াতে হবে এসব ভাষার চর্চা। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সব উপজাতীয় শিশুর জন্য নিজ নিজ মাতৃভাষায় শিক্ষার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। স্কুলের পাঠ্য বইগুলোকে এসব ভাষায় অনুবাদ করতে হবে এবং তাদের নিজস্ব ভাষা ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট সুযোগ দিতে হবে।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

নড়াইলে দুই সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত, বিচার দাবি

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলে চিকিৎসকদের হাতে দুই সাংবাদিক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় নড়াইল প্রেসক্লাব, লোহাগড়া রিপোর্টার্স ইউনিটি, …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open