শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২০ : ৭:০২ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

দয়ালু স্বামীর উপহার!

50600লাইফস্টাইল ডেস্ক: প্রায় একবছর আগের কথা, বুরুন্ডির একদল বন্দুকধারী জোরপূর্বক একজন নারীকে তুলে নিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া থেকে। নাম তার নোয়েলা রুকুন্দু। খুবই ভয়ার্ত দৃষ্টিতে বন্দুকের মুখে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন তিনি। মনে মনে ভাবছিলেন, আজই হয়তো তার জীবনের শেষদিন।

তাই মৃত্যুর আগে শেষবারে মতো জানতে চাইলেন কোন অপরাধের কারণে তাকে মেরে ফেলা হচ্ছে। সেই মুহূর্তেই একজন বন্দুকধারীর ফোন বেজে উঠলে, হত্যাকারী বলে ওঠলো- আমরা তোমার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে এসেছি এখন কি করব? ফোনের অপর প্রান্ত থেকে জবাব আসলো তাকে মেরে ফেলার!

বন্দুকধারীর সঙ্গে ফোনের ওপারে থাকা লোকটির কথোপকথন কিছুতেই যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না রুকুন্দু। সঙ্গে সঙ্গে জিজ্ঞেস করলেন, কে তোমাদের আমাকে মারার জন্য পাঠিয়েছে? বন্দুকধারীদের একজন বলে উঠলো তোমার ‘স্বামী’। কিছুতেই যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তিনি।

কিন্তু ফোনের ভিতর কন্ঠস্বরটি শুনে আর বুঝতে বাকি রইলো না যে, ফোনের ওপারের ব্যাক্তিটি আর কেউ নয় তার প্রাণপ্রিয় স্বামী। কিন্তু কি অপরাধে সে তাকে মারতে সন্ত্রাসী ভাড়া করেছে তা তখনো পরিস্কার হচ্ছিল না তার কাছে। এবার ঘটনার অতীতে একটু ফিরে যাওয়া যাক।

নোয়েলা রুকুন্দু একজন আফ্রিকান নারী যিনি তার সাবেক স্বামীর মৃত্যুর পর দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিলেন বালেঙ্গা কালালা নামে একজন শরণার্থীকে। নোয়েলা আর্থিক দিক দিয়ে বেশ সচ্ছল ছিলেন। আগের ঘরে তার পাঁচটি সন্তান আছে এবং বর্তমানে ঘরে তার তিনটি সন্তান আছে। কালালা শরণার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়াতে একটি সামুদ্রিক মাছের আড়তে কাজ করতেন।

ছুটি কাটানোর জন্য তিনি তার স্ত্রীকে অস্ট্রেলিয়া আসার জন্য বলে। নোয়েলার ভাষ্যমতে ‘অস্ট্রেলিয়াতে তখন অনেক গরম আর আমার শারীরিক অবস্থাও তেমন ভালো ছিল না। কিন্তু সে বললো, আজকে সারাদিন আমি তোমাকে আমার পাশে চাই। এই বলে সে হোটেল থেকে বেরিয়ে যায় এরপরই আমি বিশ্রাম নেয়ার জন্য ঘুমিয়ে পরি।

এরপর চোখ খুলেই নিজেকে আবিস্কার করলাম একটি গাড়িতে কে যেনো আমার হাত, পা চোখ বেধে কোথায যেন নিয়ে যাচ্ছিল। চোখ খুলেই দেখি একটি বন্ধুকের সামনে দাড়িয়ে আমি’।

নিজেরই স্বামী তাকে হত্যা করছে চেয়েছে, কিছুতেই যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না তার। খুব আকুতির এক পর্যায় একজন বন্ধুকধারী তাকে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেও যেন কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে তাকে মেরে ফেলার জন্য তার স্বামী লোক পাঠিয়েছিল। ছাড়া পেয়ে অস্ট্রেলিয়ার সেই হোটেলটিতে গিয়ে দেখলো সেখানে নেই তার স্বামী। এর তিনদিন পরই দেশে যাওয়ার জন্য তৈরি হলেন তিনি।

তিনদিন পর বাড়িতে ফিরে সম্মুখীন হলেন আরো এক নাটকীয় দৃশ্যের। সেখানে তিনি দেখতে পেলেন তার বাড়ির সামনে অগনিত মানুষ ভিড় করেছে। দেখে মনে হচ্ছিল কারো অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলছে। কিন্তু কার জন্য এই অনুষ্ঠান সেটা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিল না নিকোলা। একটু সামনে গিয়ে দেখতে পেল এই শেষক্রিয়া আরো কারো নয় খোদ নিজেরই।

নিকোলার স্বামী অস্ট্রেলিয়া থেকে এসে গ্রামবাসীকে জানিয়েছে, তার স্ত্রীর সড়ক দূর্ঘটনায় করুণ মৃত্যু হয়েছে। তাই তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় তাকে উপস্থিত দেখে গ্রামবাসী যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।

তারচেয়েও বড় কথা সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছিলেন যিনি সে আর কেউ নয় নিকোলার স্বামী নিজেই। সে তাকে দেখে দৌড়ে তার কাছে এসে কান্নায় ভেঙ্গে পরে। সব কথা পরিষ্কার হওয়ার পর সে ক্ষমাও চায় নিকোলার কাছে।
কিন্তু ততক্ষনে তো অনেক দেরি হয়ে গেছে। বিশ্বাসের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে তার জন্য। পরে তাকে পুলিশের দেয়া হলে এই মামলাটি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং সে তার দোষ স্বীকার করে আদালতকে জানায়, স্ত্রীর মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি পাওয়ার জন্যই তিনি একাজ করেছেন। সব কথা শোনার পর আদালত তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়।

তবে বর্তমানে নিকোলা তার স্বামীকে ছেড়ে সন্তানদের নিয়ে বেশ সুখেই আছেন। তিনি বলেন ‘ওকে ছেড়ে আমি যেন আবার নতুন করে জীবন পেয়েছি’।
সূত্র: বিবিসি

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

সেহরিতে মুরগি-আলুর ঝোল

লাইফস্টাইল ডেস্ক : সেহরিতে সবরকমের খাবার মুখে রোচে না। সেহরিতে প্রয়োজন সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর খাবার। …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open