শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২০ : ১১:০০ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

নাইকো’র দুই মামলা টেংরাটিলায় তথ্য সংগ্রহে যুক্তরাষ্ট্রের ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল

Sunamganj-Pictureসুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার এলাকায় টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ড বিস্ফোরণের পর আন্তর্জাতিক সালিশী আদালতে নাইকো’র দায়ের করা দু’টি মামলা মোকাবেলার জন্য পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স’র নিয়োজিত কাউন্সিলিং প্রতিষ্ঠানের ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল গতকাল বুধবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে পরিবেশ, প্রতিবেশ, মানুষের স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং গ্যাস’এর চাপ পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আগামী ৮ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত টেংরাটিলা এলাকার আশপাশের গ্রামের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করবেন। টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ডে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন দুই দফা ব্লো-আউটের পর নাইকো রিসোর্সেস (বাংলাদেশ) লি. রহঃবৎহধঃরড়হধষ পবহঃবৎ ভড়ৎ ংবঃঃষবসবহঃ ড়ভ রহাবংঃসবহঃ ফরংঢ়ঁঃবং (রপংরফ)’এ বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন-প্রোডাকশন কোম্পানী লিমিটেড (বাপেক্স) ও পেট্রোবাংলার বিপক্ষে দু’টি (রপংরফ) অৎনরঃৎধঃরড়হ পধংব দায়ের করে। যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। ইনসাইট আরবিটেশন ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী বাপেক্স ও পেট্রোবাংলাকে আগামী ২৫ মার্চের মধ্যে জবংঢ়ড়হফবহঃ’ং গবসড়ৎরধষ ড়হ ফধসধমবং’ অর্থাৎ ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ সম্ভলিত কাগজ দাখিল করতে হবে।
এজন্যই বাপেক্স ও পেট্রেবাংলার পক্ষে মেমোরিয়াল তৈরির জন্য মামলা দুটি পরিচালনার লক্ষ্যে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক কাউন্সিল প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের ফোলি হগ এলএলপি’র ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল আজ বুধবার টেংরাটিলায় সরেজমিনে আসেন। এই প্রতিনিধি দলে আইনজ্ঞ, পরিবেশবিদ এবং ভূতত্ববিদও ছিলেন।  প্রতিনিধি দলে যুক্তরাষ্ট্রের কাউন্সিল প্রতিষ্ঠান ফোলি হগ এলএলপির ড. ইয়ান ভর্তুইক, প্লি বেটন, ডায়না ও নিকোলাসসহ ১১ সদস্য রয়েছেন।
এই প্রতিনিধি দল বুধবার টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডের পাশের গ্রাম গিরিসনগর, আজবপুর, কৈয়াজুরি, টেংরাবাজার এবং শান্তিপুরের মানুষের ঘরবাড়ী, গাছগাছালি ও হাওরের ফসলি জমি ঘুরে দেখেছেন। এ সময় তারা মাটি, পানি, গাছ-গাছালি ও গ্যাসের চাপ পরীক্ষা-নিরিক্ষা করেছেন।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন,‘নাইকোর দায়ের করা দুটি মামলায় বাংলাদেশের পক্ষে যারা লড়ছেন, তারাই মূলত এখানে তথ্য সংগ্রহের জন্য এসেছেন, আমরা তাঁদেরকে কাজে সহায়তা করছি’।
২০০৫ সালের সাত জানুয়ারী রাত ১০ টায় টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডে প্রথম দুর্ঘটনা ঘটেছিল। আগুনের তাপে ওই দিন গভীর রাতেই গ্যাসফিল্ডের প্রডাকশন কূপের রিগ ভেঙ্গে আগুন ২০০ থেকে ৩০০ ফুট ওঠানামা করছিল। পরে এক মাসেরও বেশী সময় জ্বলার পর আপনা-আপনি নিভে আগুন।
দ্বিতীয় দফা বিস্ফোরণ ঘটেছিল একই বছরের ২৪ জুন রাত ২ টায়। মধ্য রাতে নাইকো’র তরফ থেকে প্রথমে বিপদ সংকেত বাজানো হয়। পরে রাত তিনটায় নাইকো’র পক্ষ থেকে লোকজনকে এলাকা ছেড়ে তিন কিলোমিটার দূরে চলে যাবার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। রাত সাড়ে তিনটায় দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠা আগুন ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। কূপ এলাকার তিন কিলোমিটার দূরেও ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছিল। দু’দফা অগ্নিকান্ডে গ্যাসফিল্ডের তিন বিসিক গ্যাস পুড়ে যায় এবং ৫.৮৯ থেকে কমপক্ষে ৫২ বিসিক গ্যাসের রিজার্ভ ধ্বংস হওয়াসহ আশপাশের টেংরাটিলা, আজবপুর, গিরিশনগর, কৈয়াজুরি, টেংরাবাজার এবং শান্তিপুরের মানুষের ঘরবাড়ী, গাছগাছালি ও হাওরের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বিশ্বনাথে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি মেম্বার গ্রেফতার

সিলেটের বিশ্বনাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে উপজেলার দৌলতপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open