বুধবার, ডিসেম্বর ৮, ২০২১ : ১১:৩৯ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

বাংলার পক্ষে প্রথম কলম ধরেন সিলেটের নুরুল হক

images-11 ডেস্ক রিপোর্ট ::  ঊনিশ শ’ বায়ান্ন সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি হায়েনাদের ছোঁড়া বুলেটে কেড়ে নিয়েছিল বাঙালির অনেক সম্ভাবনাময় জীবন। মাতৃভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য এমন আত্মদান বিশ্বেরবুকে আর কোথাও ঘটেনি। প্রায় ২০০ বছরের ঔপনেবেশিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৪৭ সালের আগস্টে ভারত ও পকিস্তান রাষ্ট্রদ্বয়ের অভ্যুদয় ঘটে। গোটা উপমহাদেশ জুড়ে মুক্তির বাঁধভাঙা উল্লাস। স্বাভাবিকভাবে পূর্ব পাকিস্তান জুড়েও ছড়িয়ে পড়ে এ আনন্দের বন্যা।
সিলেট অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে যেন মুক্তির এ আনন্দ-উচ্ছাসে ছিল ভিন্ন মাত্রা। আর তার পেছনে যে অন্যতম উপলক্ষ ছিল; তা হলো গণভোট। যে গণভোটের মাধ্যমে ভারত ত্যাগ করে সিলেটবাসী যোগ দিয়েছিল পাকিস্তানের সঙ্গে। দেশ বিভাজনে সিলেট ছাড়া পূর্ব বাংলার কোথাও গণভোট হয়নি।
মুক্তির আনন্দ বাঙালি তথা সিলেটবাসীর মাঝে স্থায়ী রূপ পায়নি। দেশ বিভাজনের কিছুদিন পরই পশ্চিম পাকিস্তান ষড়যন্ত্র শুরু করে বাঙালিকে শোষন-বঞ্চনার। আর এর প্রথম ধাপ হিসেবেই তারা কেড়ে নিতে চায় বাঙালির মাতৃভাষা। কিন্তু পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্র বাস্তব রূপ পায়নি। বাংলার দামাল ছেলে প্রাণ ও রক্ত দিয়ে প্রতিহত করেছে কুচক্রিদের ষড়যন্ত্র।
পাকিস্তানিরা একমাত্র উর্দু ভাষাকেই যখন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বলে বুলি আওড়াতে শুরু করে তখনই বিদ্রোহের ঢেউ ওঠে ‘পূর্ববাংলা’র বুকে। মাতৃভাষা বিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে ঢাকার সাথে যেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে চলে সিলেট অঞ্চল। ঢাকায় যেমন সময়ের সাথে সাথে আন্দোলন চরম রূপ ধারণ করে তেমনি সিলেট থেকেও সমস্বরে ধ্বনিত হতে থাকে প্রতিবাদ ও আন্দোলনের স্লোগান। আর এ আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা রাখে সিলেট মুসলিম সাহিত্য সংসদ।
সিলেট অঞ্চলে ভাষা আন্দোলন চলতে থাকে সিলেট মুসলিম সাহিত্য সংসদকে কেন্দ্র করেই। পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটার পর থেকেই মুসলিম সাহিত্য সংসদের মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয় ‘আল ইসলাহ’। আর এ মাসিক সাহিত্যপত্র’র প্রাণপুরুষ ছিলেন মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে শিক্ষকতা পেশায় থাকা মোহম্মদ নূরুল হক। ১৯৪৭ সালের আগস্ট সংখ্যায় নূরুল হক সম্পাদিত আল-ইসলাহ’র সম্পাদকীয়তে মন্তব্য করা হয়- ‘বাংলার পরিবর্তে অন্য কোন ভাষা আমাদের রাষ্ট্র ভাষা হউক ইহা কখনো সমর্থন করিতে পারিনা’।
এদিকে, পাকিস্তান সৃষ্টির মাত্র দু’মাস পর ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত কেমুসাসের সাহিত্য সভার মূল আলোচ্য ছিল রাষ্ট্র ভাষা। সভায় লেখক মুসলিম চৌধুরী তার পঠিত প্রবন্ধে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার পক্ষে জোরালো মতামত তুলে ধরেন -যা আল ইসলাহ নভেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। মুসলিম চৌধুরীর এ প্রবন্ধই ছিলো পূর্ব পাকিস্তানে বাংলার পক্ষে প্রথম কোনো দালিলিক উপস্থাপনা।
পরবর্তিতে মুহম্মদ নূরুল হক সিলেটের বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে ৩০ নভেম্বর আলিয়া মাদ্রাসা হলে এক সুধি সমাবেশ আয়োজন করেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেছিলেন রস-সাহিত্যিক, অনুবাদক মতিন-উদ-দীন আহমদ। প্রধান বক্তা ছিলেন বহু ভাষাবিদ, সাহিত্যিক, পর্যটক ড.সৈয়দ মুজতবা আলী। ওইদিন সমাবেশে প্রায় দুই হাজার লোকের সমাবেশ ঘটে।
সমাবেশের এক পর্যায়ে উর্দু সমর্থরা পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে প্রধান বক্তা তার বক্তব্য সমাপ্ত করতে পারেননি। পরে অবশ্য কলকাতার চতুরঙ্গ এবং আল ইসলাহ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
সিলেটবাসীর জন্য গৌরবের বিষয় হলো রাষ্ট্রভাষা প্রসঙ্গে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সেটাই ছিল প্রথম সমাবেশ। আর একই দাবিতে তমুদ্দুন মজলিস’র উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ে প্রথম সভা হয়েছিল ৪৭ এর ৬ ডিসেম্বর।
তথ্যসূত্র: ভাষা আন্দোলনে সিলেটের অবদান নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন গ্রন্থাবলি, পত্র-পত্রিকা, সংকলন।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ : মন্দিরের জমি দখল নিতে পুরোহিতের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা মামলা

প্রভাবশালী এক আওয়ামী লীগ নেতার যোগসাজশে মন্দিরের জায়গা দখলের জন্য স্থানীয় কিছু লোক এসব ঘটনা …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open