রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২০ : ২:৩৬ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

‘ইউরোপে প্রকাশ্যে চুমু দেয়া বৈধ’

imagesআন্তর্জাতিক ডেস্ক: শরণার্থী ইস্যুতে ইউরোপ আজ নানান নানান সঙ্কটে। গ্রিসের উপকূলে শিশু আয়লান কুর্দির মৃতদেহ পাওয়া গেলে গোটা বিশ্বজুরেই শরণার্থী ইস্যুতে মানবিক আবেদন শুরু হয়ে যায়। সেই মানবিক আবেদনে সাড়া দিয়ে সর্বপ্রথম ইউরোপের দেশ জার্মানি শরণার্থীদের জন্য দরজা খুলে দেয়। সীমান্ত খুলে দেয়ার পর দলে দলে শরণার্থী প্রবেশ করতে থাকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। ওই প্রবেশকালীন সময়েই ইউরোপের আল্ট্রা দলগুলো(কট্টর রাজনৈতিক দল) এর বিরোধীতা করেছিল, কিন্তু মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থনের কারণে তা সম্ভব হয়নি। কিন্তু নতুন বছরের শুরুর রাতে জার্মানির কেলন নামক স্থানে কিছু শরণার্থীদের হাতে নারী নিগ্রহের ঘটনা ঘটলে শরণার্থী ইস্যুতে কঠোর অবস্থানে চলে যায় ইউরোপভুক্ত কিছু দেশ।এই কঠোর অবস্থায় যাওয়ার ফলে কিছু দেশ তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। পোল্যান্ড, বেলারুশ থেকে শুরু করে সর্বাধিক সংখ্যক শরণার্থী আশ্রয়দাতা দেশ জার্মানিও শরণার্থী প্রবেশে বাধা দিতে থাকে। কিন্তু লক্ষাধিক মানুষের ঢলকে অস্বীকার করার উপায় নেই ইউরোপের দেশগুলোর। কাগজপত্র ঠিক থাকলে এখনও প্রতিটি দেশই কিছু কিছু শরণার্থী গ্রহন করছে। কিন্তু সমস্যা হলো, এই যে শরণার্থীরা ইউরোপে প্রবেশ করছে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে রয়েছে ইউরোপীয় সংস্কৃতির আকাশ পাতাল ফারাক। ফলে বিভিন্ন স্থানে অপ্রীতিকর কিছু ঘটনা ঘটছে, এবং সেই ঘটনার জেরে দোষি সাব্যস্ত হচ্ছেন সকল শরণার্থী। অনেক সমাজবিজ্ঞানীর মতে, কেলনের ঘটনার মূলেও আছে ওই সাংস্কৃতিক বৈপরিত্য।তাই শুধু সীমান্তে কঠোর অবস্থান বা বন্ধ করে দিয়েই নয়, ইউরোপে শরণার্থীদের আচরণ কেমন হবে সেবিষয়েও গাইড বই প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আর এই কাজে এগিয়ে আছে অস্ট্রিয়া সবার আগে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘আচরণ নীতিমালা’ নামে একটি গাইড বই প্রকাশ করেছে শরণার্থীদের জন্য। সেই গাইড বইয়ে ভাষাজনিত জটিলতা এড়িয়ে সহজবোধ্য কার্টুন ব্যবহার করে শরণার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে, কোনটা করা ঠিক আর কোনটা করা ঠিক না। যদিও এই গাইড বইটিতে আচরণ নীতিমালা প্রশ্নে নারীদের প্রতি শরণার্থী পুরুষদের আচরণ কেমন হবে সেবিষয়েই অধিক জোর দেয়া হয়েছে।ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মাস নাগাদ ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোতেও এধরণের কিছু পদক্ষেপ দেখা যাবে। কারণ ইউরোপে প্রকাশ্যে চুমু দেয়া কোনো অপরাধ না হলেও, মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের দৃষ্টিতে এটা ঘোরতর অপরাধ। তাইতো লাল কালি দিয়ে নিষেধ ও সবুজ কালি দিয়ে বৈধ সংস্কার বোঝানো হয়েছে। কিন্তু যেহেতু মধ্যপ্রাচ্যের শরণার্থীরা এখন আপদকালীন সময়ে ইউরোপে অবস্থান করছেন, তাই তাদের ইউরোপীয় রীতিতেই অভ্যস্ত হওয়া কিংবা অন্যরা যাতে তাদের ব্যবহারে অসন্তুষ্ট না হয় সেই দিক বিবেচনা করাই উচিত বলে মনে করছেন ইউরোপের নীতি নির্ধারকরা।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

চীনে টর্নেডো-শিলাবৃষ্টিতে ৯৮ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীনের পূর্বাঞ্চলীয় জিয়াংসু প্রদেশে টর্নেডো ও শিলাবৃষ্টির আঘাতে কমপক্ষে ৯৮ জনের মৃত্যু …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open