বুধবার, ডিসেম্বর ৮, ২০২১ : ৪:৩২ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

সুুরমার তীরে ‘ওয়াকওয়ের’ সৌন্দর্য মলিন

imagesকাইয়ুম উল্লাস: ক্বীনব্রীজের চারপাশের সৌন্দর্য এতই মুগ্ধ করেছিল যে, ফাগুনের ভোরে এখানে দাঁড়িয়েই গণমানুষের কবি দিলওয়ার লিখেছিলেন, ‘ক্বীনব্রীজে সূর্যোদয়’ শিরোনামে কালজয়ী একটি কবিতা। ক্বীনব্রীজের এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সুরমার তীরে ‘ওয়াকওয়ে’ বানানো হয়েছে। এখন চান্নি পসর রাতেই তীরে বসে মানুষ সুরমার চিকচিক জলের গান শুনতে পান। এখানে রক্তিম আভার বিকেলে মানুষ আসেন, আড্ডা চলে গভীর রাত পর্যন্ত। কিন্তু কিছু অব্যবস্থাপনা , আর দেখভালের অভাবে দিন দিন মলিন হচ্ছে এখানকার বৈকালিক আমেজ।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বিকেল থেকেই আলী আমজদের ঘড়ি থেকে সুরমা মার্কেট পর্যন্ত রিকশা দাঁড় করিয়ে বসে গাঁজার আসর। রিকশাওয়ালারা হাত-পা ছড়িয়ে বসে গাঁজা সেবন করে। তারা  মুখ থেকে রিং আকৃতিতে গাঁজার ধোঁয়া ওড়ায়। সেই ধোঁয়ায় এখানে আগত পর্যটকেরা বিরক্ত। ক্বীনব্রীজের নিচে সন্ধ্যার পর কিছু ভাসমান যৌনকর্মীরা এসে দাঁড়িয়ে থাকে, কিছু দালালেরা এদের দাঁড় করিয়ে এক ধরনের জটলা তৈরি করে। এতে পরিবার নিয়ে এসে এসব ঘটনার সামনে পড়ে অনেকেই বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন।
এদিকে, সার্কিট হাউস রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রহরী নিয়োগ আছে। কিন্তু তারা তেমন দায়িত্ব সচেতন না। কিছু বখাটে লোকেরা দাঁড়িয়ে সার্কিট হাউসের দেয়াল ঘেঁষে প্র¯্রাব করছে, সেদিকে কোনো খেয়াল নেই কারও। এর ফলে এখানে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। যে কারণে, ওয়াকওয়েতে আড্ডা দেওয়া মুশকিল হয়ে পড়েছে আগতদের। এখানে পরিবার নিয়ে গাড়িযোগে আসেন অনেকে। কিন্তুযত্রতত্র মিনি ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখছেন ট্রাক চালকেরা। এখন মিনি ট্রাকের কারণে সার্কিট হাউসের সামনই দেখা যায় না। এখানে আগতরা তাদের মোটরবাইক, প্রাইভেটকার রাখার সুযোগটুকু পাচ্ছেন না। এই মিনি ট্রাক ওয়াকওয়ের সৌন্দর্যকে ম্লান করছে।
অন্যদিকে, সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে ওয়াকওয়ের কোণের টয়লেট লিজ নিয়েছেন এক ব্যক্তি। কিন্তু তিনি এই লিজের সুযোগ নিয়ে বৈআইনিভাবে এখানে ভাসমান কিছু দোকান বসিয়ে চাঁদা তুলছেন। এতে বসার জায়গার অভাব দেখা দিয়েছে।
এখানে বৈকালিক আড্ডায় আসেন দেশ থিয়েটারের নাট্য সংগঠক কামাল দুর্জয়। তিনি বলেন,‘ বিকেলে নাটকের সদস্যরা মিলে এখানে আড্ডা দিই। নাটক নিয়ে গল্প হয়। ভালো লাগে। কিন্তু গাঁজাখোর, যৌনকর্মীদের কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় সরকারের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বলেন,‘ ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে এখানে বেড়াতে আসতাম। এখন আর যাই না। কোতোয়ালি পুলিশ প্রতিদিন ওয়াকওয়ের পাশ দিয়ে গাড়ি নিয়ে যায়। তাদের নাকেও গাঁজার গন্ধ লাগে। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয় না। এই পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হলে আবার যাবো।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বন্দর বাজার ফাঁড়ি পুলিশের এসআই নজরুল ইসলাম বলেন,‘ পুলিশ এদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে আছে নিয়মিত। কিন্তু এদের এদিকে তাড়িয়ে দিলে, ওদিকে চলে আসে।’
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন,‘ সিসিক এই ওয়াকওয়ের সৌন্দর্য বর্ধন করে দিয়েছে। কিন্তু এখন তা ধরে রাখতে প্রত্যেকের অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হয়ে কাজ করতে হবে। মানুষ সচেতন হলেই পরিবেশ সুন্দর থাকবে। এ বিষয়ে যৌথ আলাপে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

ব্রিটিশ ভিসা সেন্টার নিয়ে সিলেটে যা বললেন রুশনারা আলী

সংক্ষিপ্ত সফরে সিলেটে অবস্থান করছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ বিষয়ক বাণিজ্যদূত ও ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি রুশনারা …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open