বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২০ : ৪:২৫ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

বিশ্বম্ভরপুরে ৪ শিক্ষকের ১৫ বছর ধরে বেতনবিহীন চাকরি, নেই একাডেমিক ভবন

Untitled-1-copy41হাসান বশির, বিশ্বম্ভরপুর: সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় দ্বিতীয় পর্যায় জাতীয়করণকৃত একমাত্র গন্ডামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষক ১৫ বছর ধরে বেতন ছাড়াই চাকরি করে আসছেন। অন্যদিকে ভাঙ্গা টিনসেড ঘরে চলছে ক্লাস কার্যক্রম। ফলে একাডেমিক সমস্যাসহ দীর্ঘ ১৫বছর ধরে কর্মরত শিক্ষকগন বেতন-ভাতা না পাওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
জানা যায়, ২০০১ সালের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব উত্তর সীমান্তে গন্ডামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় উদ্যোগে ছোট একটি টিন সেডঘরে বিদ্যালয় কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু বিদ্যালয়প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৫বছর অতিবাহিত হলেও বিদ্যালয় ভবন সংস্কার-স্থাপন ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।
গতকাল সোমবার বিদ্যালয়টি ঘুরে দেখা যায়,স্যানিটেশন,ছাত্র-ছাত্রীদের বসার বেঞ্চ-ডেস্ক, মূল সড়কের সাথে স্কুলের যোগাযোগ, শিক্ষকদের বসার চেয়ার,ব্লেক বোর্ড স্কুলের কাগজপত্র সংরক্ষণের জন্য আলমিরাসহ নানাবিদ সমস্যা আছেই। বলা চলে সমস্যার অন্ত নেই যে স্কুল, সে স্কুলের নাম গন্ডামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের সামনে ছোট একটি মাঠ, মাঠের পাশ দিয়ে বয়েগেছে ছোট একটি খাল, এ মাঠটিও খেলার উপযোগী নয়, বিদ্যালয় ক্লাস কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে একই কক্ষে, তাই একই শ্রেণি কক্ষে পাঠদান ক্ষেত্রে শব্দ দূষণ হচ্ছে। ফলে একই কক্ষে পৃথক চক্রে পাঠদান করা হলেও এক শ্রেণির পাঠ কার্যক্রম অন্য শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের কানে পৌছালে শব্দজট সৃষ্টি হয়ে বিঘিœত হচ্ছে পাঠ কার্যক্রম। নেই টিউবওয়েল,স্যানিটেশন ব্যবস্থা, পুরো স্কুল জুড়ে মাত্র ২০টি বেঞ্চ। যা ভর্তিকৃত বালক বালিকার তুলনায় অপ্রতুল। স্কুল প্রধান শিক্ষিকা জানান (২০১৬খ্রিঃ)চলতি বছরে শিশু শ্রেণিতে-৩০, প্রথম শ্রেণিতে-৩৩,দ্বিতীয় শ্রেণিতে-৩০,তৃতীয় শ্রেণিতে-২০,চতুর্থ-শ্রেণিতে-২০ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ২০জন বালক-বালিকা ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে বেঞ্চ-ডেস্ক সমসস্যার কারণে তাদের বসার স্থান দেয়া যাচ্ছে না। অন্য দিকে সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলে শ্রেণি কক্ষে পানি ডুকে পড়ে ক্লাস কার্যক্রম বিঘিœত হয়। খেলার মাঠ নেই,স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই। স্কুলের খাতা পত্র বাড়িতে নিয়ে রাখতে হয় বিদ্যালয়ের নিজেস্ব কোন আলমিরা নেই। এদিকে সদ্য প্রকাশিত সমাপনী পরীক্ষায় ১০শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮জনই কৃত কার্য হয়েছে। অকৃতকার্য যেনো শিক্ষকদের ভাগ্য তারা দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর যাবৎ বেতন ভাতা ছাড়াই পাঠ দিয়ে যাচ্ছেন।
(সুত্রে জানা যায়, প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রনালয়,বাংলাদেশ সচিবালয় ঢাকা ২০১৩খ্রিঃ’র ৬অক্টোবর বিদ্যালয়-১ অধিশাখা,স্মারক নং ৩৮.০০৭.০১৫.০০০.০৪.০০.২০১৩-৪২৪ মোতাবেক প্রজ্ঞাপন-প্রাথমিক বিদ্যালয় অধিগ্রহন আইন,১৯৭৪ এর ৩ (১) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে (সরকার) সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও চট্রগ্রাম বিভাগের বেশ কিছু বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সরকারি অর্থায়নে এনজিও কর্তৃক স্থাপিত-পরিচালিত বিদ্যালয় সমূহ ১ জুলাই ২০১৩ সাল হতে সরকারি নিয়ন্ত্রনে নেয়,এর আওতায় যাচাই বাচাই ক্রমে সুনামগঞ্জ জেলার ২৬ প্রাথমিক বিদ্যালয় গেজেট ভুক্ত হয়। কিন্তু প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয় অধীন এ বিদ্যালয়টি সহ সুনামগঞ্জের ২৬ প্রাথমিক বিদ্যালয় কাগজে কলমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে স্বকিৃতি পেলেও শিক্ষকদের নাম গেজেট ভুক্ত না হওয়ায় বেতন পাচ্ছেন না দীর্ঘ দিন যাবত। তাই চলছে তাদের মানবেতর জীবন।
এবিষয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার গন্ডামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা তাহেরা খাতুন বলেন বাড়ি থেকে স্কুলের দুরত্ব প্রায় ৩ কিলোমিটার পায়ে হেটে অনেক কষ্ঠে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসি ২০০৫খ্রিঃ স্কুলে যোগদান করি, আজ পর্যন্ত বেতন-সম্মানী হিসেবে সিকি পয়সাও পাইনি। ছেলে মেয়ে স্বামীর অস্বচ্ছল সংসার তবুও আশায় আশায় বুক বেধে চাকরি করছি। শিক্ষিকা মোছাম্মৎ বকুলা আক্তার জানান চাকরির প্রায় ১০ বছর হলো ১০ টাকাও বেতন-সম্মানী পাইনি। অভাবের সংসার কোন মতে হাল ধরে আছি ছেলে মেয়েরা প্রশ্ন করে চাকরি করে বেতন পাই না কেন, কিন্তু ওদের বুঝিয়ে বলা কঠিন। শিক্ষিকা শিরিনা সুলতানা বলেন ২০০১ সালে স্কুলে যোগদান করি আজ প্রায় ১৪ বছর স্বামী হাইস্কুল শিক্ষক তাই কোনমতে সংসার চলে না হয় বারোটা বাজতো অন্য দিকে স্কুলের ভবন সমস্যাও রয়েছে।
শিক্ষিকা নিশা রানী আচার্য্য বলেন  ২০০৭ সালে স্কুলে যোগদান করি বাড়ি থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার হেটে আসি প্রতিদিন কিন্তু বেতন না পাওয়া কষ্ট যেন দ্বিগুন মনে হয়। শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া অবহেলিত জনগোষ্ঠির সার্বিক দিক বিবেচনা করে খুব দ্রুত সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিবে বলে দাবি সচেতন মহলের। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ হযরত আলী জানান, শিক্ষকগণ সঠিক ভাবে কাগজ পত্র প্রেরণ করছেন না। ফলে গেজেটভুক্তির কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ১৫ফেব্রুয়ারী অধিদপ্তরে পাঠানো হবে এর পর কতৃপক্ষ এক সাথে শিক্ষকদের নাম গেজেটভুক্ত করণ প্রক্রিয়া শুরু করবেন। সংস্কার বিষয়ে বলেন যেহেতু শিক্ষকদের নাম গেজেট ভুক্ত হয়নি। আপাতত ভবন নির্মাণ করা যাচ্ছে না। গেজেটভুক্ত হওয়ার পর ৪ তলা ভবন নির্মান কার্যক্রম হাতে নেয়া হতে পারে। বর্তমানে উপজেলা প্রশাসন প্রযোজন অনুযায়ী সংস্কার করতে পারেন। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন সংস্কারের চেষ্টা করা হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, সংস্কার বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কমিটির রেজুলেশনের মাধ্যমে অধিদপ্তরে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বিশ্বনাথে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি মেম্বার গ্রেফতার

সিলেটের বিশ্বনাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে উপজেলার দৌলতপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open