শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২০ : ৩:৫০ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

খালেদার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার অনুমতি দিলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

indexডেস্ক রিপোর্ট:  মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে মন্তব্য করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার অনুমতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গতকাল রোববার রাজধানীর চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) মাদক বিষয়ক এক বিতর্ক প্রতিযোগিতার ফলাফল শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
গতকাল অনুমোদনের চিঠি হাতে পেয়েছেন আবেদনকারী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী। সোমবার বিচারিক আদালতে মামলা করবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তিনি। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, একজন আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়  থেকে গত বৃহস্পতিবার মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে একটি  দৈনিকে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে মামলা হবে কি না জানতে পারবেন। আইন অনুযায়ী যা করা প্রয়োজন সেভাবেই প্রক্রিয়া চালানো হবে। শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক মমতাজউদ্দীন আহমেদের আবেদন বিবেচনায় এনে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে করা ওই আবেদনে বলা হয়, বিএনপির  চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। এ ছাড়া জাতির পিতা ও আওয়ামী লীগ নিয়েও বিরূপ মন্তব্য করেছেন তিনি। এসব সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত এবং প্রতিষ্ঠিত বিষয়। এ বিষয়ে নতুন করে বিতর্কের অবতারণা করায় তাঁর অপরাধ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল বলে মনে করা হচ্ছে। খালেদা সংবিধান লঙ্ঘন করে কথা বলেছেন এবং রাষ্ট্রদ্রোহমূলক অপরাধ করেছেন। আইনি  নোটিশ দেওয়ার পরও তিনি ক্ষমা চাননি বা বক্তব্য প্রহ্যাহার করেননি। গত ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে খালেদা জিয়া বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে। তিনি বলেন, আজকে বলা হয়, এত লাখ  লোক শহীদ হয়েছে। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে। বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে খালেদা জিয়া দাবি করেন, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে  চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার  ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না। খালেদা জিয়া একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে সবাইকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান। ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে কটূক্তি করায় বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার অনুমোদন দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালায়। গত বছরের ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে খালেদা জিয়া বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে। আজকে বলা হয়, এতো লাখ লোক শহীদ হয়েছে। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে খালেদা জিয়া দাবি করেন, ‘তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না। এরপর ২৩ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বক্তব্যে  দেশদ্রোহী মনোভাব পাওয়া যাচ্ছে অভিযোগ করে তা প্রত্যাহার করতে উকিল নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ড.  মোমতাজ উদ্দিন আহমদ  মেহেদী। নোটিশের জবাব না পাওয়ায়  ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারা  মোতাবেক রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানান তিনি। গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অনুমোদন  দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার আইনজীবী  মেহেদী বলেন, নিয়ম অনুসারে আবেদন করেছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে। সোমবার বিচারিক আদালতে মামলা করবো। এদিকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্যে রাষ্ট্রদ্রোহের কিছু নেই বলে উল্লেখ করেছেন তার আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।খন্দকার মাহবুব বলেন, খালেদা জিয়া গত ২১ ডিসেম্বর শহীদদের সঠিক তথ্য না থাকার বিষয়ে যা বলেছেন, তাতে কোনোভাবেই রাষ্ট্রদ্রোহ হয়নি। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াবিএনপির  চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার অনুমতি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একজন আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গত বৃহস্পতিবার এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে করা ওই আবেদনে বলা হয়, বিএনপির  চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। এ ছাড়া জাতির পিতা ও আওয়ামী লীগ নিয়েও বিরূপ মন্তব্য করেছেন তিনি। এসব সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত এবং প্রতিষ্ঠিত বিষয়। এ বিষয়ে নতুন করে বিতর্কের অবতারণা করায় তাঁর অপরাধ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল বলে মনে করা হচ্ছে। খালেদা সংবিধান লঙ্ঘন করে কথা বলেছেন এবং রাষ্ট্রদ্রোহমূলক অপরাধ করেছেন। আইনি নোটিশ  দেওয়ার পরও তিনি ক্ষমা চাননি বা বক্তব্য প্রত্যাহার করেননি। জানতে চাইলে মমতাজউদ্দীন আহমেদ বলেন,রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার অনুমোদনের চিঠি এখন তাঁর হাতে। পুলিশের মহাপরিদর্শক ও শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেও চিঠি পাঠানো হয়েছে।রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  বলেন, এটি রাজনৈতিক ও প্রতিহিংসামূলক মামলা। খালেদা জিয়ার  দেওয়া ভাষণের একটি অংশের বিকৃত ব্যাখ্যা করে ক্ষমতাসীন মহল অপপ্রচার ও বিভিন্ন মতলবি কার্যক্রম শুরু করেছে। বিএনপি এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ, শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান  দেওয়ার ব্যাপারটি কারও কাছ  থেকে শিখতে হবে না। খালেদা জিয়াই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানসমূহের সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করেন। খালেদা জিয়ার এসব বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায় একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠন। বিভিন্ন সংগঠন খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনের কাছে অবস্থান নিয়ে তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায় এবং আইনি ব্যবস্থা  নেওয়ার দাবি জানায়। আদালতে আবেদন করতে পারেন। গত ২১ ডিসেম্বর রাজধানীতে একটি আলোচনা সভায় খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, আজকে বলা হয় এত লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে আসলে কত লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। নানা বই-কিতাবে নানা রকম তথ্য আছে। ওই বক্তব্যে  দেশদ্রোহী মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে অভিযোগ করে গত ২৩ ডিসেম্বর তা প্রত্যাহার করতে উকিল নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক মোমতাজ উদ্দিন মেহেদী, যিনি আওয়ামী লীগের  কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। ওই  নোটিসে খালেদাকে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে সাত দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিতে বলা হয়। নোটিসের জবাব না পেয়ে গত সপ্তাহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মামলা দায়েরের অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেন মেহেদী। এর ধারাবাহিকতায় গত ২১ জানুয়ারি অনুমোদন মেলেরোববার তিনি বলেন, আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি লিখিত আবেদন করেছিলাম  ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে। সোমবার ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৩(ক), ১২৪(ক), ৫০৫ ধারার খালেদার অপরাধ আমলে নেওয়ার জন্য মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আবেদন করবেন বলে জানান তিনি। খালেদার ওই বক্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া হলেও বিএনপি  নেতারা তাদের চেয়ারপারসনের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে যাচ্ছেন। খালেদার উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন রোববারও বলেছেন, আমি মনে করি এটা তার অত্যন্ত সময়োপযোগী বক্তব্য। দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে আমরা শুধু মুখের কথা বলি- ৩০ লাখ শহীদ হয়েছেন, কিন্তু তাদের সঠিক ঠিকানা-তথ্য আমাদের কাছে নাই। এটি জাতির জন্য দুর্ভাগ্য। খালেদার ওই বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের সংজ্ঞায় পড়ে না বলেও তিনি দাবি করেন।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

সেই রাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ

আত্মহত্যা’ করা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির সাবেক …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open