বুধবার, ডিসেম্বর ৮, ২০২১ : ৪:২৪ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

জহুর আলী হত্যা বিশ্বনাথের বাওনপুর গ্রাম পুরুষশূন্য

bbbbস্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের বিশ্বনাথের খাজাঞ্চি ইউনিয়নের বাওনপুর গ্রামে জহুর আলী হত্যাকা-ের ঘটনায় ওই গ্রাম এখন পুরুষশূন্য। গ্রামের নারীদের অভিযোগ, ওই মামলায় নিহতের পরিবারের কেউ বাদি না হয়ে আমরুশ আলী বাদি হয়ে ব্যক্তি স্বার্থে গ্রামের প্রায় অর্ধশত পুরুষকে মামলায় আসামি করেছেন। পুলিশ বলছে, এখনো ওই মামলায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি, আসামি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
বাওনপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেল, জহুরের মা-স্ত্রী ও মেয়েরা ঘরের বারান্দায় বসে বিলাপ করছে। মারামারির ঘটনায় জহুর আলী মারা যাওয়ার পর পরিবারটি অসহায় অবস্থায় আছে। কেউ খোঁজ নিচ্ছে না।
গ্রামবাসীর সাথে কথা বলেন জানা গেছে, একটি কবরস্থানের পাশের নিচু জলাভূমিতে মাটি কাটা নিয়ে কথাকাটাকাটির বিরোধ ছিল গ্রামের আরশ আলী ও আবদুল মতিনের। এর জের ধরে গত ১৮ জানুয়ারি উভয়পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে আহত হয়ে দিনমজুর জহুর আলী হাসপাতালে মারা যান। নিহতের লাশ দাফন চলাকালে জহুর আলী হত্যাকা-ের ঘটনায় গ্রামের অর্ধশত মানুষকে আসামি করে থানায় মামলা করেন আরশ আলী। এরপর থেকেই গ্রামটি পুরুষশূন্য। গ্রামে গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জহুর আলীর স্ত্রী আসাবুল বলেন, আমার স্বামীরে ঘর থাকি ডাইকা নিয়ে তারা মারছে। আমি বিচার চাই।’
জহুর আলীর বড় মেয়ে পারভিন বেগম জানান, আমার আব্বারে খানি থাকি তুইল্লা নিছে আমির আলী। তারা ডাইক্কা নিয়া তানরে মারছে। আমি আব্বা হত্যার বিচার চাই।’
গ্রাম ঘুরে দেখা গেল, বেশিরভাগ গ্রামেরই বাড়িতে ঘরের দরজা জানলা বন্ধ। পুরুষ বাড়িতে নেই। ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে গ্রামের পুরুষরা বাড়িতে থাকছেন না।
এলাকার বেশ কজন প্রবীন মুরব্বিরা জানালেন,‘ এই মামলায় যারা প্রকৃত দোষী, তাদের আসামি করা হয়নি। কারণ, নিহতের পরিবার কোনো মামলা করেনি, মামলা করেছে পরিবারের বাইরের একজন।
গ্রামের পারুল বেগম অভিযোগ করেন,‘ তার ছেলে হান্নান একজন থানার রাইটার। ঘটনার সময় তার পরিবারের কোনো পুরুষ বাড়িতে ছিলেন না। অথচ এই মামলায় ব্যক্তিগত শত্রুতা থাকায় তার সব ছেলেদেরই আসামি করা হয়েছে। এখন তার ছেলেরা বাড়িছাড়া। এই সুযোগে বাড়িতে আরশ আলী পক্ষের লোকজন লুটপাট করেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।
গ্রামের মাসুক মিয়া জানান, সবজি বিক্রেতা আবদুল আলী, আপ্তাব আলী ও স্কুল ছাত্র গোলাম আকবরকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।
খাজাঞ্চি ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা ওয়ারেছ আলী বলেন,‘ যারা এই হত্যাকা-ে প্রকৃত দোষী, তাদের গ্রেপ্তার করা হোক। অহেতুক গ্রামের পুরুষদের হয়রানি না করার দাবি জানাচ্ছি।’
আরশ আলীর মুঠোফোনে বার বার যোযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হাই বলেন,‘ শুনেছি কিছু নিরীহ মানুষকে আসামি করা হয়েছে, যে কারণে আসামি ধরার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করছি। সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রকৃত আসামি ধরা হবে। কোনো নিরীহ লোক হয়রানির শিকার হবে না।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ : মন্দিরের জমি দখল নিতে পুরোহিতের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা মামলা

প্রভাবশালী এক আওয়ামী লীগ নেতার যোগসাজশে মন্দিরের জায়গা দখলের জন্য স্থানীয় কিছু লোক এসব ঘটনা …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open