শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২০ : ৭:১৫ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ১০ রাষ্ট্র প্রধানদের একজন শেখ হাসিনা : সিলেটে প্রধান বিচারপতি

আইন ও সংবিধান পরিপন্থী কোন কাজ করতে দেব না

indexস্টাফ রিপোর্টার :: বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এসকে সিনহা) বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জ্ঞান, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ঈর্ষনীয় সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই সফলতাকে সুদৃঢ় করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রধান বিচারপতি বলেন, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ১০ রাষ্ট্র প্রধানের মধ্যে শেখ হাসিনা একজন। তাকে মডেল সিঙ্গাপুর এবং মডেল মালয়েশিয়া তৈরির রাষ্ট্রনায়কদের সাথে তুলনা করা হয়। এ স্বীকৃতিও আমাদের জন্য গর্বের। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সিলেটের মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ৭৫ বছরপূর্তি উপলক্ষ্যে প্লাটিনাম জুবিলি উৎসবের দ্বিতীয় দিনে কীর্তিমান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী মদন মোহন কলেজকে সরকারীকরণের ঘোষণা দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন প্রধান বিচারপতি। প্লাটিনাম জুবিলি উৎসবের প্রথমদিনে বৃহস্পতিবার মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে এসে এই কলেজকে সরকারীকরণের ঘোষণা দেন।
কলেজের অধ্যক্ষ ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জাতীয় সংসদের হুইপ মো. শাহাব উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি খিজির আহমদ, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, জেলা ও দায়রা জজ মনির আহমদ পাটোয়ারি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদউল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহিন প্রমুখ।
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, আলোকিত মানুষ ও সমাজ গড়তে হলে সার্টিফিকেট সর্বস্ব শিক্ষা নয়; সুশিক্ষা প্রয়োজন। তাই সকল সংকীর্ণতা পরিহার করে মানুষে মানুষে সম্মিলন ঘটানোর শিক্ষা নিতে। অর্জিত জ্ঞান ও মনন দিয়ে আত্মনিয়োগ করতে হবে দেশমাতৃকার কল্যাণে।
তিনি বলেন, দেশের ১৬ কোটি মানুষকে উন্নয়নের স্বাদ দিতে তাদের ভেতরে আদর্শ, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভেদ ও বিভেদগুলো ক্রমান্বয়ে সংকুচিত করা প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, দ্বন্দ্ব-বিভাজন থাকলে সমস্যা বাড়ে, বাড়ে দুঃখ-কষ্ঠ। এসকে সিনহা বলেন, শিক্ষা আমাদের অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ ও গভীর দেশপ্রেম জাগ্রত করতে পারে। আমরা ছাত্রবান্ধব শিক্ষক চাই। শিক্ষকরা হবেন ছাত্রদের আদর্শ। ছাত্র-শিক্ষক সুসম্পর্ক আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঈর্ষনীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে। মানসম্পন্ন শিক্ষাই দিতে পারে বুদ্ধিভিত্তিক উন্নয়ন।
আইন ও সংবিধান পরিপন্থী কোন কাজ করতে দেব না : এদিকে, গত বৃহস্পতিবার রাতে মৌলভীবাজার আইনজীবি সমিতি আয়োজিত নৈশভোজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বলেন, অবসরের পর বিচারকদের রায় লেখাকে আবারও আইন ও সংবিধান পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে তা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একজন বিচারক যখন অবসর নেন তখন আপনি (সাধারণ নাগরিক) আর আমি (বিচারক) সমান হয়ে যাই। কিন্তু আইন রক্ষা করার সাংবিধানিক ক্ষমতা কারো নেই। সিভিল প্রশাসনের কেউ অবসরে যাওয়ার পর আর বাকি কোন কাজ করার সুযোগ থাকে না। তারাতো কোন শপথ নেন না। আর বিচারপতিরা আরো উপরে। আইন সংবিধান রক্ষা করার জন্য শপথ নেন। তাই রিটায়ার করার পর বিচারকের রায় লেখার কোন অধিকার নেই ? আমরা অনেক কিছু জানিনা। আমাদের সংশোধিত হতে হবে। এখানে গণতন্ত্র চলছে। সংবিধান সচল আছে। আমি প্রধান বিচারপতি থাকাবস্থায় আইন এবং সংবিধান পরিপন্থী কোন কাজ করতে দিব না।
গত মঙ্গলবার দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পুর্তি উপলক্ষে দেয়া বাণীতে অবসরের পর রায় লেখাকে আইন ও সংবিধান পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি। তার এ বক্তব্যে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় নিয়ে প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল।
এ প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, আইনপেশা একটি মহান পেশা। কিন্তু এখন প্রত্যেকটি বার পলিটিক্যাল প্লাটফরম হয়ে গেছে। এখন অনেকেই আমার এই বক্তব্যের সূত্র ধরে নানা ফন্দি ফিকির বের করছে। কোন কোন বিচারক বলছেন রিটায়ার্ডের পর আমাকে রায় লিখতে না দেয়া হলে আগের অনুরুপ লিখা রায়গুলো বাতিল করতে হবে। বিচারপতি এস কে সিনহা এসময় আরও বলেন, রিটায়ার্ডের পর কোন বিচারপতিকে পাবলিক ডকুমেন্টে হাত দিতে দেয়া হবে না। আমাদের এখানে একটি ভুল নীতি চলে আসছে। বিচারকরা রিটায়ার করার পর রায় লিখেন। পৃথিবীর কোনো দেশে এই নিয়ম নেই। আমাদের দেশ একটি আজব দেশ রিটায়ার্ডের পর বিচারক রায় লিখেন ব্যাক্তিগত তার কি ইন্টারেস্টে? মৌলভীবাজার পৌর জনমিলন কেন্দ্রে মৌলভীবাজার আইনজীবি সমিতির সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মোছাব্বির এর সভাপতিত্বে এই সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা ও দায়রা জজ মো. শফিকুল ইসলাম, নারি ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এর বিচারক মোতাহির আলী, জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, চিফ জ্যুাডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ কিউ এম নাসির উদ্দিন,পুলিশ সুপার মো: শাহজালাল, আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মিজানুর রহমান,এডভোকেট শান্তিপদ ঘোষ, এডভোকেট মুজিবুর রহমান মুজিব, এডভোকেট বিশ্বজিত ঘোষ প্রমূখ।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার দায়িত্ব গ্রহণের একবছর পূর্তিতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বলেছেন, রায় লিখতে কোনো কোনো বিচারপতি অস্বাভাবিক বিলম্ব করেন। আবার কেউ কেউ অবসর গ্রহণের দীর্ঘদিন পরও রায় লেখা অব্যাহত রাখেন। রায় লেখার ক্ষেত্রে বিচারপতিদের এ ধরনের প্রবণতা আইন ও সংবিধানপরিপন্থী। প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করে গত বৃহস্পতিবার সিলেটে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, সংবিধানে এমন কিছুর উল্লেখ নেই। অন্যদিকে, প্রধান বিচারপতির মন্তব্যে সূত্র ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম সরকারই অবৈধ বলে মন্তব্য করেন।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

সেই রাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ

আত্মহত্যা’ করা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির সাবেক …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open