শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২০ : ১০:০৬ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

মানুষ হত্যাকারীদের ক্ষমা নেই খুনিদের বিচার করবো : প্রধানমন্ত্রী

ssস্টাফ রিপোর্টার :: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘৫ জানুয়ারি নির্বাচন বানচালের নামে যারা বোমা মেরে ও গাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে তাদের কোনো ক্ষমা নেই। খুনি এই বোমাজদের বিচার করবো।’ গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দুপুর ১২টা থেকে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা জনসভায় আসতে থাকেন। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। লোকে লোকারণ্য হয় পড়ে সিলেটের রাপজপথ। শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত ওঠে জনসভাস্থল ও এর আশপাশ।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে মাটিতে কোনো জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের ঠাঁই নেই। আমরা সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমন করেছি। মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছি। দেশকে উন্নয়নের ধারায় ফিরিয়ে এনেছি।’ শেখ হাসিনা বিএনপির আন্দোলনের সমালোচনা করে বলেন, ‘নির্বাচন বানচালের নামে বিএনপি মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারার ইতিহাস পৃথিবীতে নেই। বাসের যাত্রী, ট্রেনের যাত্রী কেউ রেহাই পায়নি খালেদার প্রতিহিংসার আগুন থেকে। দগ্ধ মানুষেরা আজও মানবেতর জীবনযাপন করছে। যারা মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, তাদের প্রত্যেকের বিচার হবে। আওয়ামী লীগ হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আওয়ামী লীগ চায় দেশে উন্নয়ন। যেভাবে আমরা জাতির জনকের খুনিদের বিচার করেছি। আমরা মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার করছি। পেট্রল বোমা হামলাকারীদের গডফাদারদেরও সেই ধারাবাহিকতায় বিচার করবো।’
৪ টা ২৭ মিনিটে শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শেষ হয় ৪টা ৫৩ মিনিটে। ২৬ মিনিট ব্যাপী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেটবাসী আমার কাছে দাবি করা লাগবে না। আমি দেশের প্রতিটি জায়গায় ঘুরেছি, কীভাবে উন্নয়ন করতে হয়, তা জানি। আপনারা আমার ওপর ভরসা রাখবেন। আজ আমি আপনাদের কাছে উন্নয়ন উপহার নিয়ে এসেছি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন হয়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে দেশের উন্নয়ন করে।’
উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে সকলের সহয়তা চেয়ে সিলেটের জনসভায় নৌকার পক্ষে ভোট চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘নৌকায় শান্তি দেবে। নৌকা সমৃদ্ধি দেবে। নৌকা উন্নতি দেবে। নৌকা এ দেশের মুক্তি এনে দেবে। প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনতার কাছে জানতে চান আগামিতে তাকে নৌকায় ভোট দেবেন কি-না। এসময় হ্যা সূচক জবাব এলে শেখ হাসিনা সিলেটবাসীর কাছে আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট চেয়ে বলেন,‘ হাত তুলে ওয়াদা করুন, নৌকায় ভোট দিবেন।’ এসময় লাখো জনতা দুই হাত তুলে নৌকায় ভোট দেয়ার অঙ্গিকার করেন।’ তবে কোন নির্বাচনের জন্য তিনি ভোট চেয়েছেন, তা উল্লেখ করেননি। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচন এবারই প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে হওয়ার কথা। বক্তৃতায় উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দেশের স্বাধীনতা পেয়েছেন। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন বলেই আজকে দেশের উন্নতি হচ্ছে। আগামী দিনেও নৌকা মার্কাকে কখনো ভুলবেন না।’
শেখ হাসিনা সিলেটে জঙ্গিবাদ সম্পর্কে বলেন, ‘২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জোট সরকারের আমলে এই সিলেটে বোমা হামলা হতো। কামরান, ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা ইব্রাহিম, সুরিঞ্জিত সেন বোমা হামলার শিকার হয়েছেন। সিলেটে আমার জনসভায় বোমা হামলা করার চক্রান্ত করে বিএনপি। একটি বাসায় তারা বোমা তৈরি’র সময় বোমা ফুটে একজনের পা উড়ে যায়। এর মাধ্যমে সিলেটে আমাকে হত্যার পরিকল্পনা ফাঁস হয়েছিল। বিএনপি মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে জঙ্গিবাদ দমন করে, জীবনে শান্তি নিয়ে আসে।
তিনি জনগণকে জঙ্গিবাদ সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের সন্তানদের খেয়াল রাখবেন। বিদেশীরাও এদেশে জঙ্গিদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াতের সময় বিদেশিরাও নিরাপদ ছিল না। সিলেটে শাহজালালের মাজারে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের উপরও হামলা হয়েছিল।
তিনি বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলনের সমালোচনা করে বলেন, ‘তারা নির্বাচন বানচালের নামে যেভাবে মানুষ হত্যা করেছিল, সেটা পৃথিবীর ইতিহাসে আর আছে কিনা জানি না। কেউ রেহাই পায়নি খালেদার প্রতিহিংসা থেকে। আওয়ামী লীগ এই প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। আওয়ামীলীগ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে বিশ্বাস করে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চাই শান্তি, ওরা চায় অশান্তি। আওয়ামী লীগ চায় ন্যায় প্রতিষ্ঠা হোক, ওরা চায় লুটপাট করুক।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,‘আওয়ামী লীগ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতায় এসে আমরা উন্নয়ন করছি। সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ পেয়েছি। জাতির জনকের নেতৃত্বে লাখো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা।’
বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা ও মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘বাঙালি বিজয় অর্জনকারী জাতি। এই স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়াই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন করতে চায়। উন্নয়ন শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ মানুষের জন্য পুরস্কার নিয়ে ক্ষমতায় আসে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে, মানুষের জন্য পুরস্কার নিয়ে ক্ষমতায় আসে। বিএনপি-জামায়াত মানুষের জন্য, দেশের জন্য তিরস্কার বয়ে আনে। বাঙালি জাতি অদম্য জাতি। বাঙালি জাতিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। বাংলাদেশ এখন বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাড়াচ্ছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮ সালে আমরা যখন ক্ষমতায় আসি তখন অর্থনৈতিক মন্দা ছিল। কিন্তু আমরা চ্যালেঞ্জ নিয়ে দেশের উন্নয়ন করেছি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন হয়। আমরা দেশের উন্নয়ন, মানুষের উন্নয়ন করেছি। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছি।’ বিএনপি-জামায়াতের আমল ছিল সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের আমল, এমন মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমল হচ্ছে উন্নয়ন ও সুশাসনের আমল। তিনি বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেও বিএনপি-জামায়াত ক্ষান্ত দেয়নি। তারা নির্বাচন বানচালের নামে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। খালেদার প্রতিহিংসা থেকে সাধারণ মানুষও রেহাই পায়নি।’ ‘তাদের ক্ষমা নেই’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, যেখানে মানুষ পুড়িয়ে মারা হয়েছে, সেখানেই মামলা হয়েছে। মানুষ পুড়িয়ে মারার দায়ে তাদের সবার বিচার হবে। প্রত্যেকের বিচার করা হবে। বিএনপি-জামায়াতকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শান্তি চাই আর তারা চায় অশান্তি।
‘জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলেন’ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জিয়া ক্ষমতা দখল করে যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আমরা ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি। জাতির জনকের হত্যাকারীদের পুনর্বাসন করেছিলেন জিয়াউর রহমান। কিন্তু আমরা জাতির জনকের হত্যাকারীদের বিচার করেছি। যুদ্ধারপরাধীদেরও বিচার আমরা করবো। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কলঙ্কমুক্ত হবে।
সিলেটের উন্নয়ন সম্পর্কে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আরও বলেন, আমার কাছে কোনো দাবি করতে হবে না। বাংলাদেশের কোন জায়গায় কি সমস্যা তা আমি জানি। আমার উপর আপনার ভরসা রাখুন। সব দাবি পূরণ হবে। সিলেটে অদূর ভবিষ্যতে শিগগির মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একইসঙ্গে দেশের সব বিভাগেও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে আমাদের। তিনি বলেন, বাংলাদেশে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। আওয়ামী লীগই প্রথম এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। আমাদের লক্ষ্য সব বিভাগেই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হবে। দ্রুতই সিলেটে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দেবো।
প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলেন, ‘সিলেটে আজ ২২টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি। আমরা সিলেট বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওসমানী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিকমানে উন্নীত করেছি। রিফুয়েলিং স্টেশন নির্মাণ করেছি। অচিরেই তা চালু হবে। বিমান এখন লন্ডন থেকে সরাসরি সিলেটে আসে।’
বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে বাংলাদেশ বিমানে লুটপাট করা হয়েছে করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিমান ছিল মরা লাশ। আমরা বিমানে প্রাণের সঞ্চার করেছি। আমরা ক্ষমতায় এসে বিমানের আধুনিকায়ন করেছি। ঢাকা-লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট চালু করেছি। বিমানকে উন্নত করেছি। নতুন ৬টি বিমান বহরে যুক্ত হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল, ডিজিটাল বাংলাদেশ করবো, করেছি। থ্রি-জি চালু করেছি, দ্রুতই ফোর-জি চালু করা হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ আমরা শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়েছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। আজ প্রবাসীরা দেশের মানুষের সাথে মোবাইল ফোনে ভিডিও আলাপ করতে পারছেন। মানুষের হাতে হাতে মোবাইল ফোন। আমরা স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম করছি। কৃষি সম্প্রসারণে কাজ করছি, কম্পিউটারকে সার্বজনিন করছি, দেড় কোটি মানুষকে চাকরি দিয়েছি। বিদেশে ৩০ লাখ মানুষ পাঠিয়েছি। দরিদ্র, বিধাব, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধি ও মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দিচ্ছি। মানুষকে খাদ্য দিয়ে যাচ্ছি, বেসরকারি খাতকে উন্নত করছি। দেশে ৮ হাজার ডিজিটাল পোস্ট অফিস হচ্ছে। ১২৩ ভাগ বেতন বৃদ্ধি কেউ করতে পারেনি, আওয়ামী লীগ তা করেছে। আর কোনো সরকার একসাথে এত বেতন বাড়াতে পারেনি।’
সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ সম্পর্কে বলেন, ‘এখানে বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে। ওসমানী মেডিকেল ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দেশে প্রাথমিক থেকে শুরু করে ডিগ্রি পর্যন্ত এক কোটি ২৮ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি-উপবৃত্তি দিয়েছি। বিনা পয়সায় বই দিচ্ছি। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হবে।’
স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘ দ্ররিদ্র মানুষকে ত্রিশ প্রকার ওষুধ ফ্রি দেওয়া হয়। এখন শিশুমৃত্যু ও মাতৃমত্যুর হার কমে এসেছে। আমরা বিভাগীয় শহরগুলোতে থেকে নার্সদের উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আমরা স্বাস্থ্য সেবাকে মানুষের মৌলিক অধিকার মনে করি। সরকারের প্রথম দিকে আমরা ৫ হাজার নার্স নিযোগ দিয়েছি। আরও ১০ হাজার নার্স নতুন করে নিয়োগ দেয়া হবে। এই নতুন নিয়োগ সম্পন্ন হলে দেশের সরকারি হাসপাতাল গুলোতে নার্সদের সংকট থাকবে না।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘লেখাপড়া শিখতে হবে। মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছি। শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যেতে হবে। কারণ, পড়াশোনা না শিখলে ভবিষ্যতে তারা কোনো কাজে আসবে না। সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যাবে।’
বিএনপি নেত্রীর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষ যখন শান্তিতে থাকে তখন একজনের মনে অশান্তি দেখা দেয়। তার মনে শান্তি নেই। তাই দেশের মানুষের শান্তি তিনি সহ্য করতে পারেন না। আওয়ামী লীগ এদেশকে স্বাধীন করছে, তাই আওয়ামী লীগ সবসময় দেশের উন্নয়নের চিন্তা করে কিন্তু যারা উড়ে এসে ক্ষমতায় জুড়ে বসে তারা কেবল লুটপাটের চিন্তা করে।’
এসময় বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলনের সমালোচনাও করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তারা নির্বাচন বানচালের নামে যেভাবে মানুষ হত্যা করেছিল, সেটা পৃথিবীর ইতিহাসে আর আছে কিনা জানি না। কেউ রেহাই পায়নি খালেদার প্রতিহিংসা থেকে। আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে দেশের উন্নয়ন করে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জয়লাভ করেও আমরা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছি।’
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছিলেন। কিন্তু জেনারেল জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে এই বিচার বন্ধ করে দেন। আমরা আবার ক্ষমতায় এসে বিচার শুরু করি। এই বিচার অব্যাহত থাকবে। আমরা একদিকে বিচার করছি, অন্যদিকে উন্নয়ন করছি।’
শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নত দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশে গড়ে তোলা হবে। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। ইতোমধ্যে ৭৫ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পেয়েছেন ২০২১ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই দেশে উন্নয়ন হয়, দেশ এগিয়ে যায়। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।’
শিক্ষা ও চিকিৎসাক্ষেত্রে তাঁর সরকারের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আমরা কম্পিউটার শিক্ষাকে সার্বজনীন করেছি, মাধ্যমিক পর্যন্ত বাধ্যতামূলক করেছি। মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনামূল্যে বই প্রদান করা হচ্ছে। ১ কোটি ২০ লক্ষ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি ও উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছিয়েছি। শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ৭ বছরে আমরা ৩০ লাখ লোককে বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছি। এদেশের কোনো মানুষ যাতে কষ্ট না পায়, বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে কেউ যাতে কষ্ট না পায় সে লক্ষ্যে কাজ করছি। বেসরকারিকরণকে আমরা উন্মুক্ত করেছি। সারাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে। সেখানে বিনিয়োগ হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। দেশে রিজার্ভ এখন ২৭ বিলিয়নের উপরে। অর্থনীতির চাকা খুব সচল।’
২২ টি উন্নয়ন প্রকল্পে উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন : বিকেল চারটায় প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থলে পৌছেই বৈদ্যুতিক সুইচ টিপে ১০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১২ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ফলক উম্মোচন করেন। এই ২২ টি উন্নয়ন প্রকল্প হচ্ছেÑ উদ্বোধন করা প্রকল্পগুলো হচ্ছে, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিইটি ভবন, আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপে¬ক্স, জৈন্তাপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, এপিবিএম এর ব্যারাক ভবন, ওসমানীনগর থানা ভবন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য নির্মিত হোস্টেল ভবন, মাছিমপুর এলাকার সুরমা নদীর তীরে নির্মিত ওয়াকওয়ে, এমসি কলেজের মাঠের সীমানা প্রাচীরের গেইট, সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট শিশু হাসপাতালে রূপান্তর, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী ভবন।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী ১২টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ প্রকল্প গুলো হচ্ছেÑ সিলেট আউটার স্টেডিয়াম, খসরুপুর বাজার জিসি-পৈলনপুর-বালাগঞ্জ জিসি সড়ক উন্নয়ন, হরিপুর জিসি-গাছবাড়ী জিসি সড়ক (কানাইঘাট অংশ), মৈয়াখালী বাজার-আর এন্ড সুইচ (বারোহাল ইউপি অফিস) ভায়া হাটুবিল মাদরাসা সড়ক উন্নয়ন, নারী পুলিশ ডরমেটরী ভবনের অর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ, শাহপরান থানা ভবন নির্মাণ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় ও জেলা অফিস নির্মাণ, সিলেট বিভাগীয় ও জেলা এপএসআই কার্যালয় ভবন নির্মাণ, তামাবিল স্থলবন্দর নির্মাণ, হযরত গাজী বোরহান উদ্দিন (রহ.) মাজার, ৩ তলা ভিত্তি বিশিষ্ট মসজিদ, মহিলা এবাদতখানা ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) সিলেট বিভাগ এবং সিভিল সার্জন সিলেট কার্যালয় ভবন নির্মাণ কাজ ও সিলেট ইলেক্ট্রনিক্স সিটি।
এরআগে সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভা ২টায় শুরু হয়। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের সভাপতিত্বে এবং জেলা আওয়ামী লীগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদের যৌথ পরিচালনায় বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে শুরু হয় জনসভা।
জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এমপি, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলক প্রমুখ।
বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান, সাংসদ আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়া ও মাহমুদ উস-সামাদ চৌধুরী, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আহমদ আল কবির, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন, জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামীম আহমদ, মহানগর যুবলীগের আহবায়ক আলম খান মুক্তি, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহারিয়ার আলম সামাদ ও মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল বাসিত রুম্মান প্রমুখ।
এরআগে গতকাল সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে তিনি হেলিকপ্টারযোগে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সহ-সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ।
এরপরপরই প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। শাহজালাল (রহ.) এখানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, সাবেক সাংসদ সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, সাংগঠনিক সম্পাদক এটিএম হাসান জেবুল, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী আসমা কামরান, শামিমা শাহরিয়ার, মিনা চৌধুরী, নাজমিন হোসেন, শামসুন নাহার মিনু প্রমুখ।
হযরত শাহজালাল (রহ.) মজার জিয়ারত শেষে প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন। মাজার জিয়ারত শেষে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নগরের মদন মোহন বিশ^বিদ্যালয় কলেজের পঁচাত্তর বছর পূর্তি উপলক্ষে প্লাটিনাম জুবিলি উৎসবে যোগ দেবেন। ওই অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সিলেট সার্কিট হাউসে বিশ্রাম ও মধ্যাহৃভোজ শেষে বিকেল ৪টায় জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। আলিয়া মাদ্রাসার জনসভা শেষে তিনি সরাসরি ওসমানী বিমানবন্দর হয়ে সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশ্যে সিলেট ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

সেই রাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ

আত্মহত্যা’ করা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির সাবেক …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open