বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২৮, ২০২১ : ৯:৪১ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

প্রধানমন্ত্রী বরণে প্রস্তুত সিলেট-ছয় স্তরের নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

222222222 copyস্টাফ রিপোর্টার :: দীর্ঘ চার বছর পর সিলেট নগরীতে পা রাখতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সদ্য সমাপ্ত পৌরসভা নির্বাচনে সিলেটে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের তিন সপ্তাহের মাথায় আজ সিলেট আসছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে প্রস্তুত সিলেটবাসী। নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তাঁর জনসভা ও অবস্থানস্থলে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। লাখো মানুষের সমাবেশেরর মঞ্চ প্রস্তুত সিলেট আলীয়া মাদরাসা মাঠে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সিলেট আসছেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেলে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষন দেবেন তিনি। আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার ঘোষণা দিবেন বলে দলীয় সুত্রে জানা গেছে।
টানা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই হবে তার প্রথম সিলেট সফর। গত মেয়াদে দায়িত্বপালনকালে ২০১২ সালে ২৪ মার্চ তিনি সিলেট সরকারী আলীয় মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন। চারবছর পর একই স্থানে আবারও জনসভায় ভাষণ দিবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর নিয়ে টানটান উত্তেজনা সিলেট আওয়ামী লীগে। জনসভাকে স্মরণকালের বৃহত্তম জনসমুদ্রে রূপ দিতে সামর্থের সর্বোচ্চটুকু ব্যয় করছেন ক্ষমতাসীন দল, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতার্কর্মীরা। প্রধানমন্ত্রীর সফর হওয়ায় প্রশাসনে এখন চলছে তুমুল ব্যস্ততা। সফরঘিরে নেওয়া হয়েছে ছয় স্তরের নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সফরকালে নির্দিষ্টসময়ে নগরীর প্রধান সড়কে যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছে মহানগর পুলিশ।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি : আজ বৃহস্পতিবার সকাল পৌণে ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর সিলেট পৌছার কথা। ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। ওখান থেকে প্রথমে হযরত শাহজালাল (রাহ.) ও হযরত শাহপরান (রাহ.) মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর দুপুর ১২টায় তিনি মদনমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে প্লাটিনাম জুবিলি উৎসবে যোগ দেবেন। সোয়া একটা দিকে সিলেট সার্কিট হাউজে ফিরে নামাজ ও মাধ্যহৃ ভোজের বিরতি। এরপর বিকেল ৩টায় তিনি সিলেট সরকারী আলীয়া মাদরাসা মাঠের জনসভায়স্থলে পৌঁছবেন। সেখানে পৌছে প্রথমে তিনি দশটি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১২টির ভিত্তিস্থাপন করবেন। অস্থায়ীভাবে এসবপ্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে মাঠের একপাশে। এরপর জনসভায় যোগ দিয়ে বিকেল পাঁচটার দিকে ফের হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর সূচি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রচার উৎসব সিলেটে : প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে উৎসবের আমেজ এখন সিলেটে। বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে নগরী। তৈরি হচ্ছে সুসজ্জিত মঞ্চ। একদিকে প্রধামন্ত্রীর সফর। অন্যদিকে সদ্য সমাপ্ত পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের প্রায় নিরঙ্কুশ বিজয়, প্রচারণায় এনেছে উৎসব আর আত্মগৌরবের আমেজ। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে নগরীতে শোভা পাচ্ছে বড় বড় বিলবোর্ড, ঝুলছে ডিজিটাল ব্যানার-ফেস্টুন, সাটানো হয়েছে চাররঙা পোস্টার। এয়ারপোর্ট রুট থেকে নিয়ে জনসভাস্থলসহ নগরীর প্রধান সবগুলো সড়কের স্থানে স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে তোরণ। মাসের শুরু থেকেই চলছে প্রচার-প্রচারণা। নগরী ছাড়িয়ে এই প্রচারণা চলেছে সিলেট বিভাগজুড়ে। জেলা-উপজেলা ও পৌরশহর থেকে নিয়ে প্রচারণার ঢেউ লেগেছে ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে। প্রায় প্রতিদিনই আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সফর সফলে আনন্দ মিছিল-কর্মীসভা-স্বাগত শোভাযাত্রা করছেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ও এসএসএফ’র সদস্য ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দফায় দফায় পরিদর্শন করছেন জনসভাস্থলসহ প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিভূক্ত এলাকা।
প্রধানমন্ত্রীর সফর বিষয়ে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর ও জনসভা সফল করতে তারা একযোগে কাজ করছেন। স্মরণকালের বৃহত্তম জনসভা হবে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রতীক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি দিনদিন মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা বাড়ছে। বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রতি সেই ভালোবাসা থেকেই আলীয়া মাঠের জনসভায় লাখো মানুষ উপস্থিত হবেন।
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা : প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে বেশ তোড়জোড় চলছে। নিরাপত্তার সমন্বয় করার জন্য এক বাহিনী অন্য বাহিনীর সাথে দফায় দফায় বৈঠকে মিলিত হচ্ছে। সফরকে নির্বিঘœ করতে গোয়েন্দা সংস্থা, র‌্যাব, পুলিশ মিলে চলছে দফায় দফায় বৈঠক। সিলেটজুড়ে ছয় স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)। তবে পুরো সফরে নিরাপত্তা দিকটি সমন্বয় করবে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)। তাদেরকে সাহায্য করবে গোয়েন্দা সংস্থা এবং র‌্যাবের সদস্যরা।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে। ইনার কর্ডন, আউটার কর্ডন, রোড ব্যবস্থাপনা, রোফটপ, ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ও সাদা পোশাকধারী- এই ছয়টি স্তরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে পুলিশ।
এসএমপি সূত্রে জানা যায়, সিলেট মহানগরীর ছয়টি থানার পুলিশ সদস্য ছাড়াও মহানগরীর বাইরে থেকে জেলা পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্যকে নিরাপত্তা কাজের জন্য নিয়ে আসা হবে। সবমিলিয়ে পাঁচ সহস্রাধিক পুলিশ সদস্য পুরো সিলেটজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে। পুলিশের মূল নজর থাকবে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল, মদন মোহন কলেজের অনুষ্ঠানস্থল, তাঁর যাত্রাপথ এবং আশপাশের এলাকা। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নিরাপত্তার স্বার্থে নগরীর বিভিন্ন হোটেল, গেস্ট হাউস, মেস এবং বাসা-বাড়ির দিকেও নজর রাখছে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।
পুলিশ সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থলের আশপাশের সকল ভবনে বিশেষ নজরদারি রাখা হবে। এসব ভবনের ছাদে সশস্ত্র পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রধানমন্ত্রী আসবেন আজ বৃহস্পতিবার, এরআগের দিন বুধবার আগের দিন থেকেই তাঁর অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশের ভবনগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেবে পুলিশ।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সিলেট আগমনের দিন মহানগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে কঠোরভাবে নজরদারি করা হবে। সন্দেহভাজনদের করা হবে তল্লাশি। জনসভাস্থলে আগত জনতার সাথে মিশে গিয়ে কাজ করবেন সাদা পোশাকধারী পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্যরা।
র‌্যাব সুত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর সফরে নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ। তাদের সহযোগি হিসেবে মাঠে থাকবে র‌্যাব। এ নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকও হয়েছে। এসএসএফ’র নির্দেশনা অনুসারে র‌্যাব কাজ করবে।
মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সামান্যতম ছাড়ও দেয়া হবে না। তাঁর সফর নির্বিঘœ করতে যা যা করা দরকার, তার সবই করবে পুলিশ। ইতোমধ্যেই পুলিশ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
সিসি ক্যামেরার আওতায় জনসভা : সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া বিষয়ক কর্মকর্তা (এডিসি) রহমত উল্লাহ বলেন, প্রধামন্ত্রীর জনসভার স্থলসহ আশপাশের প্রধান প্রধান সড়কের পাশে অর্ধশতাধিক সিসি ক্যামেরার বসানো হচ্ছে। মঙ্গলবার থেকে এ ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার ক্যামেরা বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া ১ সপ্তাহ থেকে পুলিশ ও ১ মাস আগ থেকে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।
যেসব প্রকল্পের উদ্বোধন : উদ্বোধন অপেক্ষায় থাকা প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া আইসিটি ভবন, আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্স, জৈন্তাপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, এপিবিএম এর ব্যারাক ভবন, ওসমানীনগর থানা ভবন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য নির্মিত হোস্টেল ভবন, মাছিমপুর এলাকার সুরমা নদীর তীরে নির্মিত ওয়াকওয়ে, এমসি কলেজের মাঠের সীমানা প্রাচীরের গেইট, সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট শিশু হাসপাতালে রূপান্তর, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী ভবন।
যেসব প্রকল্পের ভিত্তিস্থাপন : এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে, সিলেট আউটার স্টেডিয়াম, খসরুপুর বাজার জিসি-পৈলনপুর-বালাগঞ্জ জিসি সড়ক উন্নয়ন, হরিপুর জিসি-গাছবাড়ী জিসি সড়ক (কানাইঘাট অংশ), মৈয়াখালী বাজার-আর এন্ড সুইচ (বারোহাল ইউপি অফিস) ভায়া হাটুবিল মাদরাসা সড়ক উন্নয়ন, নারী পুলিশ ডরমেটরী ভবনের অর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ, শাহপরান থানা ভবন নির্মাণ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় ও জেলা অফিস নির্মাণ, সিলেট বিভাগীয় ও জেলা এপএসআই কার্যালয় ভবন নির্মাণ, তামাবিল স্থলবন্দর নির্মাণ, হযরত গাজী বোরহান উদ্দিন (রহ.) মাজার, ৩ তলা ভিত্তি বিশিষ্ট মসজিদ, মহিলা এবাদতখানা ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) সিলেট বিভাগ এবং সিভিল সার্জন সিলেট কার্যালয় ভবন নির্মাণ কাজ ও সিলেট ইলেক্ট্রনিক সিটি।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

নড়াইলে দুই সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত, বিচার দাবি

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলে চিকিৎসকদের হাতে দুই সাংবাদিক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় নড়াইল প্রেসক্লাব, লোহাগড়া রিপোর্টার্স ইউনিটি, …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open