শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২০ : ৫:১৮ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

দেশের গণতন্ত্র এখন নির্বাসিত : মির্জা ফখরুল

imagesডেস্ক রিপোর্ট: : বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্র নির্বাসিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। গণতন্ত্র উত্তরণের জন্য আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর কবরে ফুল দেওয়া  শেষে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। এর আগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তাঁর সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ  হোসেন, মওদুদ আহমদ, মাহবুবুর রহমান, আবদুল মঈন খান, তরিকুল ইসলামসহ বিপুলসংখ্যক  নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমান শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, শুধু একজন  সৈনিক ছিলেন না, একজন রাজনীতিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন বহুমুখী গুণের অধিকারী ক্ষণজন্মা  নেতা। রাষ্ট্রনায়ক। দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি  থেকে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ শুরু করেছিলেন। আজকের এই দিনে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। তিনি বলেন, বিএনপির মূল চ্যালেঞ্জ গণতন্ত্রকে পুনরায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা। জনগণের অধিকারকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। জনগণের  ভোটের যে অধিকার, বাক-স্বাধীনতা, জনগণের সংগঠন করার স্বাধীনতা,  মৌলিক যে অধিকার ফিরিয়ে নিয়ে আসাই বিএনপির বড় কাজ। একই জায়গায়  শেরেবাংলা নগর থেকে জিয়ার কবর সরানো নিয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, এটা সরকারের বিভিন্ন চালের একটা অংশ। জনগণের মধ্যে এই বক্তব্যটা দিয়ে দেখছে  যে প্রতিক্রিয়া কী। আমরা মনে করি, জিয়ার মাজার এখান থেকে সরানো যাবে না। বাংলাদেশের ইতিহাসেও এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় মাজার স্থানান্ত রের নজির নেই। ধর্মীয়ভাবে কিংবা রাজনৈতিকভাবে এ ঘটনা কখনো ঘটে নাই। সরকারের কাছে বলব, এসব বক্তব্য  থেকে দূরে  থেকে  দেশের সংকট মোচনে এগিয়ে যান। সর্বদলীয় একটা কনফারেন্সের মাধ্যমে ভবিষ্যতে কীভাবে নির্বাচন হবে, সংকট মোচন করা যায়,  সেদিকে সচেষ্ট হোন। জাতীয় পার্টির (জাপা) ভাঙন নিয়ে আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, আসলে জাতীয় পার্টি কখনো জাত পার্টি হিসেবে ফর্ম করে নাই। সেটা সব সময় হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ অথবা তাঁর স্ত্রী অথবা এর মধ্যে কিছু ষড়যন্ত্রকারী নিজেদের মধ্যে ষড়যন্ত্র করে, আবার মিটমাট করে নেয়। এখনো আমার মনে হয়, ফলাও করে তাঁদের অবস্থান দেখছি, সেরকম কিছু হবে না। একটা মীমাংসা তাঁদের মধ্যে হয়ে যাবে। কারণ এখানে ভাগ-বাঁটোয়ারার ব্যাপার। এখানে হয়তো কেউ ফিফটি পার্সেন্টে রাজি হচ্ছে না, তাঁকে সিক্সটি পার্সেন্ট দিলে সে খুশি হয়ে গেল। জাপাকে বিএনপির আন্দোলনে আমন্ত্রণ জানানো হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে নোমান বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শরিক হওয়ার জন্য আমরাই সকলকে আবেদন জানাচ্ছি। ব্যক্তি বা  গোষ্ঠীকে নয়, সবাইকেই আমরা আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করে গণতন্ত্র উদ্ধারের শপথ নিয়েছি বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, দেশে গণতন্ত্র নির্বাসিত, বাংলাদেশ বিপন্ন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে জয়ী হবো।তিনি বলেন,  দেশের চরম  নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে আবির্ভূত হন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। স্বাধীনতা উত্তর দূঃসহ স্বৈরাচারী দূঃশাসনে চরম হতাশায়  দেশ যখন নিপতিত, জাতি হিসেবে আমাদের এগিয়ে যাওয়া যখন বাধাগ্রস্ত ঠিক তখনই জিয়াউর রহমান জনগণের নেতৃত্বভার গ্রহন করেন। মানুষের হারানো অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন জিয়াউর রহমান এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান নিশ্চিত করেন মানুষের বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা। উৎপাদনের রাজনীতি প্রবর্তন করে তিনি দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী করে গড়ে তুলতে সক্ষম হন। তার বহুমত ও পথের লালন ও পরিচর্যা’ এবং দেশকে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদার আসনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।বিএনপির এই নেতা বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শণেই আমাদের জাতিসত্ত্বার সঠিক স্বরূপটি আবিস্কৃত হয়- যা আমাদের ভৌগলিক জাতিসত্ত্বার সুনির্দিষ্ট পরিচয় দান করে। বিশ্ব মানচিত্রে আমাদের আত্মপরিচয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠে। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখারও সাহসী অঙ্গীকার। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮০তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। প্রতিবছর এই দিনে জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং কবর জিয়ারত করেন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী খালেদা জিয়া  বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জিয়ার কবর প্রাঙ্গণে এসে  পৌঁছান। এ সময় জিয়ার কবর এলাকায় ছাত্রদল, যুবদল,  স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, জাসাস, সম্মিলিত  পেশাজীবী পরিষদের  নেতা-কর্মীরা  স্লোগান দিতে থাকেন। পরে কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান খালেদা জিয়া ও অন্যরা।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ট্র্যাফিক নির্দেশনা

আসন্ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতে আগামী শুক্রবার থেকে রোববার (২১-২৩ অক্টোবর) পর্যন্ত রাজধানীতে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open