বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২০ : ৯:২৫ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

জৈন্তাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টার ভাড়া নিয়েছে ঔষধ কোম্পানীর কর্মচারী

indexমো. রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর : নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে জৈন্তাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চললেও কর্তৃপক্ষ নিরর ভূমিকায় রয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি কোয়ার্টাস উচ্চ মূল্যে ভাড়া দেওয়া হয়েছে ঔষধ কোম্পানীর এক কর্মচারীকে। ৫০ শষ্যার হাসপাতাল উন্নিত করা হলেও প্রশাসনিক অনুমতি না থাকায় ব্যবহৃত হচ্ছে না নতুন ভবন। আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে অবৈধভাবে বহিরাগতদের ভাড়া দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
অনুসন্ধানে যানা যায়- জৈন্তাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি চলে আসছে। আবাসিক মেডিকেল অফিসার সবুল চন্দ্র বর্মণ ও ষ্টোক কিপার শিব্বির আহমদ নিয়ন্ত্রন করেছে কমপ্লেক্সটি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটির সরকারি কোয়ার্টাস উচ্চ মূল্যে ভাড়া দেওয়া হয়েছে ঔষধ কোম্পানীর কর্মচারীকে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রবশে পথ হতে সম্পূর্ণ কমপ্লেক্স এরিয়া এখন পরিনত হয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে সেই ১৫-২০বৎসরের পুরোনো বেডে। এছাড়া সন্ধ্যা হওয়ার পর পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিণত হয় মাদক সেবীদের নিরাপদ আস্তানায়।
গতকাল এবিষয় কথা হয় পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন হতে চিকিৎসা নিতে আসা রফিক সরকারর সাথে। তিনি বলেন ভাই মেয়েকে নিয়ে আমার স্ত্রী সকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেছে। কিন্ত দুপর ১টা পর্যন্ত কোন ডাক্তার পেল না। অবশেষে একান্তবাধ্য হয়ে মেয়েকে হাসাপালে রেখে প্রাইভেট ফিস দিয়ে একই হাসপাতালের চিকিৎসক এর মাধ্যমে সেবা নেওয়া হয়েছে।
এবিষয়ে জাফলং মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা করিম মাহমুদ লিমন জানান- ভাই একটু আপনারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে এসে যান, ছেলেটিকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। কিন্তু সেই সকালে আসার পর হতে সন্ধ্যা ৭টা অবধি ডাক্তার পেলাম না। পরিশেষে তিনিও রফিক সরকারের পথ অবলম্বন করতে হয়েছে। এবিষয়ে পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের বাসিন্দা জিয়াউর রহমান জিয়া তার ফেইসবুকে এক স্ট্যাটার্সে লেখেন- ‘এভাবে ৫০শয্যায় উন্নিত হলে উন্নতি হয়নি সেবা ও পরিবেশের!!। তিনি আরও লিখেন সকাল ১১টায় ভর্তি হলেও বিকাল ৩টা পর্যন্ত কোন ডাক্তার এসে রোগী দেখে নাই। পরে নার্সদের সাথে আলাপকালে জানতে পারলাম সন্ধ্যার পর ডাক্তার রোগী দেখবেন।’ এছাড়া তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর পরিবেশ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তার ফেইসবুক স্যাটাসে। অনুরোপ ভাবে জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রোগীরা স্বাস্থ্য সেবা পেতে এলে নানা দূভোগে পড়তে হয় বলে জানান অনেকেই।
দীর্ঘ ১বছরের বেশি সময় হতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর সরকারী কোয়ার্টাস ৪র্থ তলায় ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন জেনারেল ফার্মাসিটিকেল কোম্পানির রিপ্রেজেন্টিভ ইমদাদ। ২০১৪ সালে ইমদাদ এর স্ত্রী উর্মী বেগম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মা-মনি প্রজেক্টে চাকুরী করতেন। সেই সুবাদে তিনি সরকারি কোয়ার্টারে থাকার সুযোগ পান। এদিকে ২০১৪ সালের শেষ দিকে মাতৃত্বকালীন ছুটি গ্রহন করেন উর্মি বেগম। কিন্তু পরবর্তীতে ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে উক্ত প্রজেক্ট হতে উর্মিকে সরকারি কোয়ার্টাস ছাড়ার জন্য বলা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা কর্মচারীরা জানান, ঔষধ কোম্পনীর ইমদাদ পরিবার কিভাবে সরকারি কোয়ার্টারে থাকছেন তা সদ্য সাবেক অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র বর্মণ এবং ষ্টোর কিপার শিব্বির আহমদ বলতে পারেন।
এবিষয়ে সুবল চন্দ্র বর্মন এবং ষ্টোর কিপার শিব্বির আহমদ এর মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ করেননি।
এবিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলা উদ্দিন আহমদ বলেন, আমি এই ষ্টেশনে নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বিশ্বনাথে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি মেম্বার গ্রেফতার

সিলেটের বিশ্বনাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে উপজেলার দৌলতপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open