শনিবার, নভেম্বর ২৭, ২০২১ : ৯:২৬ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

নারীদের কাজের অবমূল্যায়ন বৈষম্য দূর করতে এর অবসান জরুরি

indexডেস্ক রিপোর্ট :: নারী-পুরুষের বৈষম্য যত বেশি বাড়বে, ততই তা সার্বিক ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এমনটি নিশ্চিত করেই বলা যায়। ফলে বৈষম্য দূর করতে যেমনি যথার্থ পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি, তেমনিভাবে তা নিশ্চিত করার প্রশ্নে নারীদের কাজেরও যথাযথ মূল্যায়ন দরকার। সম্প্রতি দৈনিক যায়যায়দিনে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত খবরে উঠে এসেছে যে, নারীরা দিনের কাজে অন্তত ৪০ শতাংশ পরিবার এবং স্বজনদের পেছনে ব্যয় করেন, কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এসব কাজের কোনো মূল্যায়ন হয় না। আর এর পরিপ্রেক্ষিতে যখন বেসরকারি সংস্থা অ্যাকশন এইড বলছে, নারী অধিকার রক্ষা এবং নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে এ ধরনের কাজের মূল্যায়ন করা জরুরি; তখন সংশ্লিষ্টদের তা ভেবে দেখার অবকাশ রাখে এবং এ পরিস্থিতি বিশ্লেষণপূর্বক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করাও প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি দুটি জেলায় চালানো একটি গবেষণা বলছে, অমূল্যায়িত সেবা খাতে পুরুষের তুলনায় নারী অন্তত ৪০ ভাগ সময় বেশি ব্যয় করেন। ফলে যখন নারীদের এসব কাজের স্বীকৃতি নেই তখন তা সার্বিকভাবে কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে তা সংশ্লিষ্টদের আমলে নিতে হবে। আমরা মনে করি, যদি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মধ্য দিয়ে এসব কাজের মূল্যায়ন করা যায় তবে তা হবে ইতিবাচক। আর নারীদের যেসব কাজের মূল্যায়ন হয় না, সেগুলোর মধ্য রান্নাবান্না ও সন্তান লালন-পালন থেকে শুরু করে ঘরের যেসব কাজ নারীরা করেন সেগুলোকেই অমূল্যায়িত সেবা খাতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে গবেষণায় উঠে এসেছে যে, এ কাজগুলো পরিবারে যেমন মূল্যায়ন হয় না তেমন রাষ্ট্রীয়ভাবেও এসব সেবা বা কাজের মূল্যায়ন নেই।
আমরা বলতে চাই, যখন বিশ্বে অনেক দেশেই এসব কাজ বিবেচনা করে একটি হিসাব বের করা হয়েছে তখন বাংলাদেশও এ বিষয়টিকে আমলে নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। কেননা এ বাস্তবতা অস্বীকার করা যাবে না, নারীরা অনেক কাজ করলেও তাদের কথা শুনতে হয়। এমনকি সমাজের একটি অংশ মনে করে তারা বাড়িতে বসে খায়, কোনো কাজ করে না। অথচ যেভাবে দক্ষ, স্বল্প দক্ষ, অদক্ষ ইত্যাদি বিভাগে ভাগ করে মজুরি নির্ধারণ করা হয়, সেভাবে যদি এ ধরনের কাজের মূল্যায়ন করা হতো, তাহলে প্রত্যেক নারীকে প্রতিদিন অন্তত ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা মজুরি দিতে হতো এমনটি গবেষণা তথ্যে দেখা যাচ্ছে। আরেকটি বাস্তবতা হলো, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারীরা বাইরেও কাজ করেন, কিন্তু সে ক্ষেত্রেও তাদের ঘরের কাজ কমেনি। বরং বাইরের কাজের সঙ্গে ঘরের কাজও যোগ হয়ে এখন দ্বিগুণ কাজ করতে হয় নারীদের। তার পরও যখন ঘরের কাজের ৪০ শতাংশই অবমূল্যায়ন হচ্ছে তখন তা কাম্য নয়। আমরা মনে করি, নারীদের যেসব কাজের মূল্যায়ন হয় না, সেগুলোকে আমলে নিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেয়া দরকার। কেননা নারীর অধিকার রক্ষায় এ ধরনের কাজের মূল্যায়ন করতে পারলে তা ইতিবাচক ফল দেবে এমনটি মনে করা সংগত।
সর্বোপরি আমরা সরকারকে বলতে চাই, সমাজে প্রতিনিয়ত নারীরা বিভিন্নভাবেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে। এমনকি তাদের প্রতি নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটছে অহরহ। এ ছাড়া নারী-পুরুষের বৈষম্য নিয়েও নতুন করে কিছু বলার নেই। ফলে এবারের গবেষণাটিকে আমলে নিয়ে পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করুন এবং যৌক্তিক পদক্ষেপ নিন; যেন নারীর অধিকার যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তাদের কাজের মূল্যায়ন নিশ্চিত হয়। নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর হয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পুরো দেশই উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এগিয়ে যাক, এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

যে জনিসিটি সপ্তাহে ১বার ব্যবহার করলে থাকবে আজীবন যৌবনরে নশ্চিয়তা

লাইফ স্টাইল ডেস্ক:: সৌর্ন্দযরে দকি থকেে জাপানজি নারীরা সবসময়ইে অনবদ্য। বশিষে করে তাঁদরে ঝলমলে চুল …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open