বুধবার, ডিসেম্বর ৮, ২০২১ : ৩:৪৫ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

ভাঙলো জাপা : ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, মহাসচিব বাবলু

indexডেস্ক রিপোর্ট :: জিএম কাদেরকে পার্টির কো-চেয়ারম্যান নিযুক্ত করায় এরশাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পাল্টা কমিটি গঠন করেছেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। এই ঘোষণার মধ্যে দিয়ে আরেক দফা ভাঙনের মুখে পড়লো সংসদের বিরোধীদল জাতীয় পার্টি। এর আগে গত রোববার রংপুরে ছোটভাই জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। এখন থেকে জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ। এ কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন জাপার মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু।
রওশন এরশাদের গুলশানের বাসায় গতকাল সোমবার জাতীয় পার্টির  প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদীয় দলের যৌথ সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন জাপার মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। যদিও তিনি সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি।
সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ‘গঠনতন্ত্রে কো-চেয়ারম্যান কোনো পদ নেই। গতকাল (রোববার) পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রেসিডিয়ামের সঙ্গে কোনো আলোচনা ব্যতিরেকে তার আপন ভাই জিএম কাদেরকে কো- চেয়ারম্যান ও তার উত্তরাধিকারী ঘোষণা দেন। একই সাথে পার্টির সম্মেলনের জন্য জিএম কাদেরকে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি ও রুহুল আমিন হাওলাদারকে সদস্য সচিব ঘোষণা দেন। এটা গঠনতন্ত্র বহির্ভূত।
বাবলু বলেন,‘ পার্টির গঠনতন্ত্রের ৩৯ ধারা বলে কো-চেয়ারম্যান হিসাবে তিনি কাউকে ঘোষণা দিতে পারেন না। তার এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে পার্টির প্রেসিডিয়াম, সংসদ সদস্য ও পার্টির হাজার হাজার কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।’ বাবলু বলেন,‘ এই বৈঠকে সর্ব সম্মতিক্রমে প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বানানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।’
আনুষ্ঠানিক এই ঘোষণার আগে জাপার নেতাদের নিয়ে কয়েকদফা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদের বিরোধীদলের নেতা রওশন এরশাদ। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬ টার পর থেকে এই বৈঠক চলে রাত ৮ টা পর্যন্ত। এর আগেও কয়েক দফা বৈঠক করেছেন রওশন এরশাদ।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, পানিসম্পদ মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, ফখরুল ইমাম এমপি, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙা, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ এমপি, তাজুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, আবুল কাশেম, খুরশীদ জাহান হক এমপি, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম ফয়সল চিশতী, লিলি চৌধুরী এমপি, রওশন আরা মান্নান, প্রেসিডিয়াম সদস্য এটিইউ তাজ রহমান, গোলাম কিবরিয়া টিপু, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, ওমর ফারুক এমপি, বিরোধী দলীয় হুইপ জাপার যুগ্ম মহাসচিব সেলিম উদ্দিন এমপি, মোহাম্মদ নোমান এমপি, আমির হোসেন এমপি, কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া এমপি, নুরুল ইসলাম মিলন এমপি প্রমুখ। তবে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না জাপার ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা।
প্রসঙ্গত, সামরিক শাসক এই্চএম এরশাদের হাত ধরে প্রতিষ্ঠা পাওয়া জাতীয় পার্টি শুরু থেকেই এরশাদকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। দু’একবার যারাই এরশাদের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করতে গেছেন তাদেরকেই দল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আবার অনেক নেতা একাধিক দফায় শোকজ ও সাময়িক বহিস্কারের শিকার হয়েছেন। শো’কজের ক্ষেত্রে এরশাদ ছাড় দেননি আপন ভাই জিএম কাদের ও স্ত্রী রওশন এরশাদকেও।
গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত এই দলটিকে নানা চড়াই-উৎরাইও পাড়ি দিতে হয়েছে। কয়েক দফায় ভাঙন আর নেতাদের দল ছেড়ে যাওয়ার কারণে ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়েছে দলটি। ভোটের সমীকরণেও দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে। আসনের সংখ্যায় কিছুটা হেরফের হলেও ভোটের সূচক সব সময় নিম্নগামী।
গণআন্দোলনের মুখে এরশাদ সরকারের বিদায়ের পর প্রথম ১৯৯১ সালে নির্বাচনে কাস্টিং ভোটের ১১.৯২ শতাংশ পেয়েছিলো জাতীয় পার্টি। এরপর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ১০.৬৭ শতাংশ, আর ২০০১ সালের ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভোট পায় ৭.২৫ শতাংশ। সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে পেয়েছে মাত্র ৭.০৪ শতাংশ। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন অংশ নেয়। কিন্তু যে আসনেই জোট ছাড়া নির্বাচন করেছে সেখানেই ধরাশায়ী দলটির প্রার্থীরা।
জাতীয় পার্টি এর আগে চার দফায় ভাঙনের শিকার হয়েছে। ১৯৯০ সালে ক্ষমতাচ্যুতির পর এরশাদ জেলে গেলে প্রথম দফায় পৃথক জাপা গঠন করেন প্রয়াত কাজী জাফর আহমেদ। ১৯৯৯ সালে মিজানুর রহমান চৌধুরী-আনোয়ার হোসেন মঞ্জু নেতৃত্বে গঠন করা হয় পৃথক জাতীয় পার্টি। এরপর নাজিউর রহমান মঞ্জু ও কাজী ফিরোজ রশীদের নেতৃত্বে গঠন করা হয় জাতীয় পার্টি (নাফি)। সর্বশেষ কাজী জাফর আহমেদ’র নেতৃত্বে পাল্টাপাল্টি বহিস্কারের মাধ্যমে আরও একটি জাতীয় পার্টির জন্ম হয়।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ট্র্যাফিক নির্দেশনা

আসন্ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতে আগামী শুক্রবার থেকে রোববার (২১-২৩ অক্টোবর) পর্যন্ত রাজধানীতে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open