বুধবার, ডিসেম্বর ৮, ২০২১ : ৯:২৮ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

দিরাইয়ে অতি দরিদ্রের কর্মসংস্থানের কোটি টাকা নিয়ে কাড়াকাড়ি

imagesটিপু সুলতান, দিরাই :: সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে অতি দরিদ্রের কর্মসংস্থান কমৃসূচীর কোটি টাকা নিয়ে রীতিমতো কারাকারি শুরু হয়েছে। প্রকল্পের তালিকাভূক্ত শ্রমিকের স্থলে বাইরের শ্রমিক দিয়ে চুক্তিভিত্তিক কাজ করিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে সিংহভাগ অর্থ। এই অর্থের ভাগ যাচ্ছে, প্রকল্প চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে ট্যাগ অফিসার, ব্যাংক ম্যানেজারসহ পিআইও’র পকেটে। এতে করে সরকারের আসল উদ্দেশ্যই ভেস্তে যাচ্ছে।
জগদল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মহিতোষ তালুকদার বলেন, সাধারন শ্রমিক দিয়ে চুক্তিভিত্তিক মাটির কাজ করালে সব খরচ বাদ দিয়েও অর্ধেক পাওয়া যায়। তার পরেও প্রচুর কাজ হয় যা প্রকল্পের তালিকাভূক্ত শ্রমিকদের দিয়ে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সিংহনাথ ওয়াবদার সড়ক হতে প্রভাত বৈদ্যের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পূনঃনির্মান প্রকল্পের চেয়ারম্যান তিনি। ২ লাখ টাকার এই প্রকল্পের আওতায় তালিকাভূক্ত উপকারভোগী শ্রমিক রয়েছেন ২৫ জন। এসব শ্রমিকের নামেই ব্যাংক থেকে টাকা  উত্তোলন  করা হচ্ছে।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, ২৫ জানুয়ারী প্রকল্প বাস্থবায়ন কাজ সম্পন্ন করার সময়সীমা থাকলেও কুলঞ্জ ইউনিয়নের আকিলশাহ অরবিন্দুর বাড়ি হতে গোবর গোলা নদীর পার মেইন সড়ক পর্যন্ত রাস্তা পুনঃনির্মান প্রকল্পে এখনো কাজই শুরু হয় নি। ৮ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে একই ইউনিয়নের ধাইপুর ইয়াকুব মিয়ার বাড়ি হতে সত্তার মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পূনঃ নির্মান প্রকল্পের কাজ। এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আহাদ মিয়া বলেন, প্রকল্পের চেয়ারম্যান আবুবক্কর সম্প্রতি একটি হত্যা মামলায় জেল-হাজতে থাকায় ওই কাজটি করানোর জন্য নারী সদস্য হেলন  বেগমকে দেয়া হয়েছে। দ্রুত কাজ করানো জন্য আজ-কালের মধ্যে এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটা শুরু হবে। ৮ দিন থেকে কাজ বন্ধ থাকার বিষয়ে একই ইউনিয়নের নারী সদস্য রাজরানী বলেন, তিনি বর্তমানে অসুস্থ হয়ে সিলেটে অবস্থান করছেন। শ্রমিকদের মজুরি দিতে না পারায়  ৪/৫ দিন থেকে তারা কাজ করছে না।
প্রকল্প বাস্থবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে  দিরাই উপজেলায়র ৯ ইউনিয়নে অতি দরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচীর (প্রথম পর্যায়) আওতায় ১ কোটি ৩১ লাখ ২ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। বরাদ্ধকৃত অর্থে পৃথক ৪৫ টি প্রকল্পে উপকারভোগী শ্রমিক নির্বাচন করা হয় ১ হাজার ২৮৯ জন। প্রতিদিন ২০০ টাকা মজুরিতে সপ্তাহে ৫ দিন কাজ করবে এসব শ্রমিকরা। ৮ সপ্তাহে (৪০ দিন) কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। ২৮ নভেম্বর থেকে প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। ২৫ জানুয়ারী ৪০ দিন পূর্ণ হবে। জগদল ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বলেন, তালিকাভূক্ত শ্রমিকদের দিয়ে নিধারিত সময়ে কাজ করানো যায় না। যে কারনে সবাই চুক্তিভিত্তিক হাজারে মাটির কাজ করাচ্ছেন। রফি নগর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, তার ইউনিয়নেও বাইরের শ্রমিক ৪০ দিনের কাজ করছে কন্ট্রাক্টে। প্রকল্পের শ্রমিক দিয়ে ৫০ জনেও সারাদিনে ১ হাজার মাটি কাটতে পারে না। তিনি দাবি করেন, তারা (শ্রমিকরা) মনে করে ব্যাংকের মাধ্যমে সরকার তাদের নামে টাকা দিয়েছে। কাজ না করলেও তাদের নামের টাকা কেউ তুলে নিতে পারবে না। প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘পিআইও স্যারে খইছইন, খারে দিয়া কিলাখান খাজ খরাইবায় ইতা আমরা বুঝি না। ৪০ দিনের মধ্যে খাজ খরাইতে অইবো।’ নইলে টাকা ফেরত যাবে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এরশাদুল আলম বলেন, প্রকল্পে চুক্তিভিত্তিক কাজের কথা তিনি জানেন না কারণ প্রকল্পের তালিকাভূক্ত শ্রমিকরাই দু’সপ্তাহ পর পর  ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করছেন। যেসব প্রজেক্ট চেয়ারম্যানরা নামমাত্র কাজ করে বরাদ্ধের পুরো টাকা তুলে নিতে চাইছিলেন তারাই মুলত তার নামে মিথ্যাচার করছেন বলে দাবি করছেন তিনি। কুলঞ্জ ইউনিয়নের একটি প্রকল্পের কাজ শুরু না হওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, বিষয়টি খোজ নিয়ে জানতে হবে।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

ব্রিটিশ ভিসা সেন্টার নিয়ে সিলেটে যা বললেন রুশনারা আলী

সংক্ষিপ্ত সফরে সিলেটে অবস্থান করছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ বিষয়ক বাণিজ্যদূত ও ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি রুশনারা …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open