শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২০ : ১:৪৬ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

উদ্বেগজনক সড়ক দুর্ঘটনা!কঠোর আইন ও তার বাস্তবায়ন চাই

indexদেশে সড়ক দুর্ঘটনা যে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা আর নতুন করে বলার কিছু নেই। সড়ক দুর্ঘটনায় অমূল্য প্রাণ অকালে ঝরে যাচ্ছে আমাদের জীবন থেকে। দিন দিন এ হার বাড়ছে বৈ কমছে না। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষক, শিশু, বর-বধূসহ পুরো বরযাত্রী, সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা এমনকি সাবেক মন্ত্রীও এ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে নিহত হওয়ার খবর পত্রিকার পাতায় প্রত্যক্ষ করা গেছে, যার একটিও সহজভাবে মেনে নেয়া যায় না। কিছুদিন আগে একই দিনে দেশের চার জেলায় ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। যার রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার রাজধানীর শাহবাগে পৃথক দুটি স্থানে বাসের ধাক্কায় সাবিহা আক্তার সোনালী (১৪) ও খাদিজা সুলতানা মিতু (১২) নামে দুজন মেধাবী স্কুলছাত্রী মারা গেল। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই আমাদের ব্যথিত করে।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা বহুল আলোচিত এবং আতঙ্কের একটি বিষয়। প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এবং পঙ্গুত্ববরণের হিসাব উজিয়েও যে প্রাণহানির পরিসংখ্যান উঠে আসে বিভিন্ন জরিপে, তা নিঃসন্দেহে একটি দেশে কিছুতেই কাঙ্ক্ষিত হতে পারে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে ২১ হাজার প্রাণহানি ঘটে। সংস্থাটির তথ্যমতে, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতি মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৬ শতাংশের সমান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের তথ্যের ব্যবধান রয়েছে। কিন্তু সার্বিক দুর্ঘটনার যে তথ্য, তা একটি দেশের স্বাভাবিক স্বস্তি কেড়ে নেয়ার জন্য যথেষ্ট নয় কি?
লক্ষ্য করা যায়, সরকারের কর্তাব্যক্তিরা নানা সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে নানা কথা বলেছেন, উদ্যোগও নিয়েছেন। কিন্তু গৃহীত উদ্যোগ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে যে ব্যর্থ হচ্ছে, তা সড়ক দুর্ঘটনার সার্বিক চিত্রে প্রতিফলিত বলে মনে করার যৌক্তিকতা রয়েছে। অন্যদিকে জাতিসংঘ বলছে, সড়ক দুর্ঘটনা অবশ্যই প্রতিরোধযোগ্য বিষয়। সরকার সচেষ্ট হলে এটা দূর করা সম্ভব। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে তো ঘটছেই। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় প্রতিদিনই মানুষ মরছে। কেউ কিছু বলছে না। ভাবটা এমন যেন কারো দায় নেই। প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্রযন্ত্র কি অন্ধ?
যায়যায়দিনসহ গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় সোনালী ও মিতুর নিহত হওয়ার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মৎস্য ভবন এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে গোটা রাজধানীতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর ঘটনা যেমন আমাদের ব্যথিত করে, তেমনভাবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম অরাজক পরিস্থিতির উদ্ভবও আমাদের মর্মাহত ও স্তম্ভিত করে। বহুবারই দেখা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ, হামলা, গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ভয়াবহ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। এতে কার কী উপকার হয়, তা আমাদের জানা নেই। তবে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় সাধারণ ও নির্দোষ জনগণকে যারা কোনোভাবেই এ দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। যে কোনো হত্যার বিচার আমরা চাই, তবে কোনো হত্যা বা দুর্ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশের জন্য বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি আমাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়াক, তা আমাদের প্রত্যাশা নয়।
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে এযাবৎ কম কথা হয়নি, সংশ্লিষ্টরাও বিষয়টি অবগত। যেহেতু নাগরিকের স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তাবিধান রাষ্ট্রের দায়িত্ব সেহেতু সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে রাষ্ট্রের কঠোরতাই প্রত্যাশিত। শাহবাগ এলাকায় দুই ছাত্রীর অকালমৃত্যুতে আমরাও শোকাহত। আমরা চাই, ঘটনায় দায়ী বাসচালকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। এর জন্য প্রয়োজনে প্রচলিত আইন সংস্কার করে কঠোর আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে। আবার আইন প্রণয়ন করলেই চলবে না, মাঠপর্যায়ে তা বাস্তবায়নেও কঠোর হওয়া সমীচীন। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পরিবহন মালিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে সমন্বিত আন্তরিক, সচেতন, দৃঢ় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। আর কোনো মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কোনো মায়ের কোল খালি হোক তা যেন দেশবাসীকে প্রত্যক্ষ করতে না হয়, সে নিশ্চয়তার দায় সরকার তথা সংশ্লিষ্টদেরই।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

ফোনে বিরক্ত করায় যুবককে উলঙ্গ হাঁটালেন নারী কর্মীরা

ডেস্ক রিপোর্ট :: ফোনে মেয়েদের বিরক্ত করার অভিযোগে এক যুবককে উলঙ্গ করে রাস্তায় হাঁটালেন ভারতের …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open