বুধবার, জুন ২৯, ২০২২ : ৭:৫৩ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

ওসমানীনগরে অতিথি পাখি বিক্রি হচ্ছে দেদারসে

indexশিপন আহমদ, ওসমানীনগর: অতিথি পাখি শিকার কিংবা সংরক্ষন নিষিদ্ধ হলেও সিলেটের ওসমানীনগরে অতিথি পাখি শিকার করা হচ্ছে দেদারসে। প্রশাসন নিরব থাকায় বাজারেও অতিথি পাখি বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যে। গতকাল রবিবার  উপজেলার বানিজ্যিক প্রানকেন্দ্র গোয়ালাবাজার এলাকায় অতিথি পাখি হাতে নিয়ে ফেরী করে বিক্রি করতে দেখা গেছে একাধিক বিক্রেতাদের। তবে বিক্রেতাদের দাবি  উনারা পাখি শিকার করেন না। শিকারীদের কাছ থেকেত কিনে এনে বাজারে বাজারে বিক্রি করে যা হয় তা দিয়েই কোন রখম ছেলে-মেয়েদের নিয়ে খেয়ে বেঁচে আছেন। সরকারের আইনের ব্যাপারে তারা কিছুই জানেন না।
জানাযায়,ওসমানীনগর বউপজেলার পেকুয়া, নারকিলা, বুড়ি-বরাকসহ বেশ কিছু নদী, মেরুয়া, বানাইয়া, দয়ালং, কালাসারা, চেগা বিল, কাগবিল, বেতরী, কাটাগাং, মুক্তারপুর, মাউচ্ছাখালী, সুন্দিখলা, চাতল বিল, নিরাইয়া, বারো হাওর, ধরংবিল, নাটকিলা, তেতইর খাল, পিয়াজী, হরিন পেটুয়া, দয়াল পাইয়া, মাছুয়া, চেংগের খাল, সাদিপুরের ভরাং, দয়াল খাল, কালিয়ার খাল, কাকমুড়া, সাউনিয়া, বড় চাতল, মাইজাল, করচা বিল, গলাচাপি, ঝাপার খাল, গাংরা বিল, হালু বিল, সরাই বিল, গৌরাঙ্গ বিল, খাড়ার খাল, কুচখা বিলসহ অসংখ্য ছোট-বড় জলাশয় রয়েছে। প্রতি বছর শীত মৌসুমে প্রচুর অতিথি পাখি এসব ছোট-বড় জলাশয়ে ভিড় জমায়। এ সময় শিকারীরা পাখি ধরতে নানা পন্থা অবলম্বন করে। এর মধ্যে জাল, টোপ ও বিষ প্রয়োগে পাখি শিকার করা হয় সবচেয়ে বেশী। শৌখিনতা পাশাপাশি পাখি শিকারকে জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হিসাবেও বেচে নিয়েছেন অনেকে। এ ছাড়া শৌখিনতার বশে অনেক প্রবাসীও শীত মৌসুমে মেতে উঠেন পাখি শিকারের আনন্দে। বানাইয়া ও মুক্তারপুর হাওর এলাকায় দু’নলা বন্দুক নিয়ে অনেকে পাখি শিকার করেন। প্রতি বছর এ মৌসুমে হাজার হাজার পাখি নিধন করা হলেও তা নিয়ন্ত্রনে প্রশাসনের কোন উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। অথচ, অতিথি পাখি শিকার, পোষা ও বিক্রি নিষিদ্ধ রয়েছে সরকারী আইনে। কাগুজে এ আইন বাস্তবে কখনো প্রয়োগ হতে শোনা যায়নি এ উপজেলায়।
মানবাধিকার কর্মী সামছুল ইসলাম শামিম বলেন, অতিথি পাখি শিকার মানবিক দিক দিয়েও হীন চরিত্রের পরিচয় বহন করে। কেননা, পাখিদের মূল বাসস্থান যখন বসবাসের অনুপোযোগী হয়ে পড়ে তখন প্রাণ বাঁচাতে তারা বাংলাদেশের মতো মৌসুমী বায়ুর অঞ্চলে আসে। বিপন্ন এ প্রাণীকে তখন যদি শুধুমাত্র নিজেদের রসনার বিলাসের জন্য শিকার করা হয় তবে তা নির্দয়তার সামিল। কাগুজে কলমে আইন থাকলেই চলবে না-এর প্রয়োগ হওয়াটাও জরুরী। পাখি শিকার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না দিলে এ দেশ একদিন পাখি শূন্য হয়ে পরবে।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ : মন্দিরের জমি দখল নিতে পুরোহিতের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা মামলা

প্রভাবশালী এক আওয়ামী লীগ নেতার যোগসাজশে মন্দিরের জায়গা দখলের জন্য স্থানীয় কিছু লোক এসব ঘটনা …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Open