বুধবার, ডিসেম্বর ৮, ২০২১ : ৯:৩৬ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

বেড়েছে চাল ডালের দাম বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন

bazar_9986ডেস্ক রিপোর্ট :: কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না নিত্যপণ্যের বাজার। রাজধানীর বাজারে বেড়েছে চাল রসুন মাছ মাংস ও মুরগির দাম। আর গত এক সপ্তাহের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে মসুরের ডাল। তবে পেঁয়াজ আদাসহ অন্যান্য পণ্যের দামে তেমন হেরফের হয়নি। অন্যদিকে ভরা মৌসুমেও কমছে না শীতকালীন শাকসবজির দাম। কেন কী জন্য এমন পরিস্থিতি তা নতুন করে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। এটা সত্য যে এখন ভরা মৌসুম নয়। কিন্তু তাই বলে চালের দাম কেজিপ্রতি তিন থেকে ৪ টাকা বেড়ে যাবে? সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মসুর ডালের দাম। মসুর ডাল বাজারভেদে কেজিপ্রতি বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আমরা সম্পাদকীয় কলামে বারবার উল্লেখ করেছি যে, এ জন্য বাজার সিন্ডিকেটই দায়ী। আমরা এও বলেছি এ ব্যাপারে সরকার তথা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। দেশের নিত্যপণ্যের বাজার আগের মতোই আছে। অভিযোগ রয়েছে এই বাজার সিন্ডিকেটের সঙ্গে সরকারি দলের লোকজন জড়িত বলেই এ ক্ষেত্রে সরকার অনেকটা অসহায়। এই অসহায়ত্ব কিভাবে ঘুচবে তা কেউ জানে না।
বাজার সিন্ডিকেট বলতে বোঝায় বিশেষ প্রভাবশালী ব্যবসায়ী চক্রকে। এ চক্রের বাইরে যে দেশব্যাপী বহু চক্র কাজ করছে, তার খোঁজ কয়জন রাখে। পাতি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানদারথ সবাই এখন সিন্ডিকেটের সদস্য। যে যেভাবে পারছে, লুটে নিচ্ছে। এরা বাজার-সন্ত্রাসী। তাদের কাছে কেবল জনগণই অসহায় বা জিম্মি নয়, ক্ষেত্রবিশেষে সরকারও জিম্মি। তারা জনসাধারণকে জিম্মি করছে নানা সময়ে নানা দোহাই দিয়ে। আসলে দাম বাড়ানোর সঙ্গে পণ্যের সংকট কিংবা সরবরাহের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা হচ্ছে ব্যবসায়ীদের প্রতারণাপূর্ণ মানসিকতা। এ ধরনের মানসিকতার পরিচয় যারা দেন তারা সারাবছরই নানা অজুহাত তুলে ধরেন।
এদেশের এক শ্রেণির অসৎ ও অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছেমতো পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। তারা কখনো পবিত্র রমজানের অজুহাত তুলে, কখনো বাজেটের অজুহাত তুলে আবার কখনো অতিবর্ষণ খরা বন্যার অজুহাত তুলে পণ্যের দাম বাড়ায়। এবার পে-স্কেলের অজুহাত তুলে ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কী কারণে দাম বাড়ানো হয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। তবে বাজারে হঠাৎ দাম বাড়ার বিষয়ে বিক্রেতারা সঠিক কোনো হিসাব দিতে পারছেন না। বিক্রেতারা একটি কথাই বলছেন, বেশি দাম দিয়ে কেনায় আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে বাজারে পণ্যের প্রচুর সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও বেশি দাম দিয়ে কিনতে হবে কেন? আমাদের প্রশ্ন হচ্ছেথ এ ধরনের খোঁড়া ও যুক্তিহীন অজুহাত ক্রেতারা আর কতদিন শুনবে। এই পরিস্থিতির কি অবসান হবে না?
জনগণকে বারবার দুর্ভোগ ও অসহায়ত্বে ফেলে দেয়া কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের কাজ নয়। তবে বাজার পরিস্থিতি পাল্টানোর জন্য সবার আগে প্রয়োজন বিক্রেতাদের অসৎ, লোভী ও প্রতারণামূলক মানসিকতার পরিবর্তন। এটা পরিবর্তনে সরকার, সমাজপতি এবং মহল্লাপ্রধানদের জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। এটা একদিনে হবে না। নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ ও পরিকল্পনা। যতদিন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানদারদের মানসিকতার পরিবর্তন না হবে, ততদিন বাজার নিয়ন্ত্রণহীন থাকবেই। আর এর শিকার হবে অসহায় জনগণ।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

রপ্তানি আয় বেড়েছে ৮.৯৫ শতাংশ

নিউজ ডেস্ক : চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) রপ্তানি আয় বেড়েছে আগের অর্থবছরের একই …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open