বুধবার, ডিসেম্বর ৮, ২০২১ : ৩:৫৫ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

পে-স্কেলের চাপ শিক্ষার্থীর ওপর! পরিস্থিতি নিরসন করাই সংগত

indexডেস্ক রিপোর্ট: শিক্ষার যথাযথ উন্নয়ন ছাড়া সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। আর বাংলাদেশের মতো বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে যেখানে বেশির ভাগ পরিবারই অভাব-অনটনকে সঙ্গে নিয়ে জীবন যাপন করে, সেখানে কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের ঘাড়ে অতিরিক্ত অর্থের বোঝা শিক্ষার ক্ষেত্রে ইতিবাচক হতে পারে না বলেই আমরা মনে করি। ফলে এ রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি নিরসন করাই সংগত।
সম্প্রতি জানা গেল, অষ্টম জাতীয় পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ হওয়ায় নন-এমপিওরাও তাদের বেতন সমপরিমাণ বাড়ানোর চাপ দিচ্ছেন। আর এ ইস্যুকে পুঁজি করে দেশের অধিকাংশ স্কুল নতুন বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের বেতন এক লাফে দ্বিগুণ করার পাঁয়তারা করছে। সংগত কারণেই এ পরিস্থিতি শিক্ষার সার্বিক পরিবেশকে নিশ্চিত করা এবং যথাযথ শিক্ষা অর্জনের প্রশ্নে কতটা যুক্তিযুক্ত তা ভাবনার দাবি রাখে। ভিকারুননিসা নূন ও উইলস লিটল ফ্লাওয়ারসহ রাজধানীর বেশ কিছু নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এ অপতৎপরতায় ঘৃতাহুতি দিয়েছে এমন অভিযোগ আসছে। তথ্যমতে, এরই মধ্যে তারা তিন গুণ বা তারও বেশি বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি আকাশচুম্বী ভর্তি ফি আদায়ের ঘোষণা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো, এ পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা রাস্তায় নামলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নির্বিকার। আমরা বলতে চাই, যখন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের দাবি অনুযায়ী, অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধে তারা সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা বা সতর্কীকরণ নোটিশ দিয়েছেন, তখন কেন কোনো প্রতিষ্ঠানই তা আমলে নিচ্ছে না, এটা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই। এটা আবশ্যক বলেই আমরা মনে করি যে, যখন অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধে ৫ জানুয়ারি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। অথচ এরপরও যদি নির্দেশ না মানা হয় তবে অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
আমরা বলতে চাই, যখন দেশের অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদরা বলছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকসহ দেশের ২১ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর বেতন এক লাফে দ্বিগুণ হওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বাজারে আগুন ছড়াচ্ছে। এর ফলে ঘটছে মূল্যস্ফীতি। ফলে এটা বলাই বাহুল্য যে, এ পরিস্থিতি মধ্যবিত্ত জনগণসহ সর্বস্তরের নাগরিকের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ করে তুলেছে। এখন আবার যদি অষ্টম পে-স্কেলের বোঝা সরাসরি শিক্ষার্থীদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হয় তবে শিক্ষাব্যবস্থায় বিপর্যয় ঘটবে এমন আশঙ্কা অমূলক নয়। শিক্ষা ক্ষেত্রে এ ধরনের অশনিসংকেত কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। এ বিষয়টি আমলে নিতে হবে। স্কুল কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, তারা নিজেরাও এভাবে অস্বাভাবিক হারে বেতন বাড়ানোর বিপক্ষে। কিন্তু তাদের হাতে বিকল্প কোনো পথ নেই। আমরা মনে করি পর্যবেক্ষণসাপেক্ষে দ্রুত এ বিষয়টি নিয়ে গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ নিশ্চিত করতেই হবে। কোনো যুক্তিতেই শিক্ষার্থীরা অর্থের বোঝা বইবে, তা ইতিবাচক হতে পারে না।
সর্বোপরি আমরা সরকারকে বলতে চাই, বিভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে, নানা অজুহাতে শিক্ষার্থীর কাছে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ নতুন নয়। অথচ এ বাস্তবতা শিক্ষা অর্জন এবং এর বিস্তৃতির ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধক। সরকার যখন নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের মধ্য দিয়ে শিক্ষা খাতকে আরো এগিয়ে নিতে চাচ্ছে এবং ক্রমাগত শিক্ষার হারও বাড়ছে, তখন উদ্ভূত এই পরিস্থিতি কাম্য হতে পারে না। আমরা চাই, নির্দেশনা উপেক্ষা করে যারা অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা করছে তাদের এ অপচেষ্টাকে রোধ করা এবং নির্দেশ অমান্যকারীদের আইনের আওতায় আনা অপরিহার্য। আমাদের প্রত্যাশাথ সার্বিক পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক, যেন কোনোভাবেই অতিরিক্ত অর্থের বোঝা শিক্ষার্থীর ঘাড়ে না পড়ে এবং শিক্ষার অগ্রগতি আরো গতিশীল হয়।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বেতন স্কেল ১০ গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবি প্রধান শিক্ষকদের

ডেস্ক রিপোর্ট :: দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড (নন-ক্যাডার) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় প্রধান শিক্ষকদের প্রবেশ পদে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open