বুধবার, ডিসেম্বর ৮, ২০২১ : ৪:২৯ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

সাতছড়ির সেই অস্ত্রভান্ডার ছিল ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের

48605হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের গহিন অরণ্য থেকে উদ্ধার করা বিপুল সমরাস্ত্র-গোলাবারুদ বাংলাদেশী কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নয়; এগুলো ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘ত্রিপুরা পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (টিপিডিএফ)। আদালতে দাখিল করা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।এ অস্ত্র-গুলি উদ্ধারকারী সংস্থা এলিট ফোর্স র‌্যাবের দায়ের করা ছয়টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মোঃ আতাবুল্লাহ গ্রহণ করেন। গেল ১২ অক্টোবর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাগুলোর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বসু দত্ত চাকমা। দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচিত সাতছড়ি উদ্যানের সেই ভারি অস্ত্র-গুলি কে বা কারা বাঙ্কার স্থাপন ও গর্ত খুঁড়ে লুকিয়ে রেখেছিল, তা নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়। র‌্যাব, পুলিশ ও তদন্তসংশ্লিষ্টরা প্রাথমিক ধারণা থেকে বলেছিলেন, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী কোনো সংগঠন দুই দেশের সীমান্ত সংলগ্ন দুর্গম পাহাড়-টিলায় গর্ত খুঁড়ে ভারি অস্ত্র-গুলি লুকিয়ে রাখতে পারে। কারণ ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশের কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের পক্ষে ওই এলাকায় এত বড় অস্ত্র-সরঞ্জাম মজুদ করার তেমন সুযোগ ছিল না।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলামতের মধ্যে আট পাতার একটি বই পাওয়া গেছে। এটি বাংলা ভাষায় লেখা। এতে লেখা রয়েছে_ ‘কেন ত্রিপুরীরা তাদের স্বাধীনতা ফিরে পাওয়ার সংগ্রাম করছে?’ বইয়ের পেছনে ‘পাবলিশড বাই ত্রিপুরা সাপোর্ট গ্রুপ (টিএসজি), ১৬ সিলভারস্টোর হাউস লন্ডন, ই-১২ জেডি, ইউনাইটেড কিংডম, ই-মেইল : ইনকো-টিএমজি@ডটকম.ইউকে লেখা আছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রাপ্ত বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনা, স্থানীয় গ্রামবাসীদের জবানবন্দি, উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণকারী র‌্যাব অফিসার ও ফোর্সের বক্তব্য, পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের পাশের একই টিলায় পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা সন্ত্রাসীদের স্থাপনা, জব্দকৃত আলামত ইত্যাদি পর্যবেক্ষণে প্রতীয়মান হয়, এসব অস্ত্র-গুলি-সরঞ্জাম ত্রিপুরা পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (টিপিডিএফ) নামের একটি ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গ্রুপের। এর প্রেসিডেন্ট রঞ্জিত দেব বর্মন। ঘটনাস্থলটি গহিন অরণ্য। এ কারণে এটাকে তারা অবস্থানের জন্য নিরাপদ জায়গা হিসেবে নির্বাচিত করে। ১৯৯৬ সালের আগে অতিগোপনে টিলার ওপর পরিত্যক্ত স্থাপনা তৈরি করে সংগঠনটি। এর পর অস্ত্র-গুলি সংগ্রহ ও সংগঠনের তৎপরতা চালিয়ে যেত তারা। পরে তাদের স্থাপনা, অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ সম্পর্কে যে কোনো সময় গোয়েন্দা তৎপরতার নজরে আসার সম্ভাবনা দেখা দেয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ওইসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাশের টিলাগুলোয় গর্ত করে সংরক্ষণ করে ভারতে চলে যায়।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ : মন্দিরের জমি দখল নিতে পুরোহিতের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা মামলা

প্রভাবশালী এক আওয়ামী লীগ নেতার যোগসাজশে মন্দিরের জায়গা দখলের জন্য স্থানীয় কিছু লোক এসব ঘটনা …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open