সোমবার, জানুয়ারী ২৫, ২০২১ : ১০:৪৪ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

সামাজিক ক্ষেত্রে আল্লামা ছাহেব ক্বিবল্লাহ ফুলতলী (রহ.) এর অনন্য অবদান

 মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম পারভেজ ::

fultoli-picপাক ভারত উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন এবং আজীবন দ্বীন, জাতী ও সমাজের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম এক উজ্জ্বল নক্ষত্র আল্লামা ছাহেব ক্বিবলাহ্ ফুলতলী (রহ.)। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী আল্লামা ছাহেব ক্বিবলাহ ফুলতলী (রহ.) ইলমে দ্বীনের খেদমতের পাশাপাশি সামাজিক ক্ষেত্রেও ঈর্ষনীয় অবদান রেখে গেছেন। মানব সমাজের অগ্রগতি ও উন্নয়নের মধ্যেই একটি দেশ ও সমাজের উন্নতি ও কল্যাণ নিহিত। তাই সমাজের অবহেলিত, বঞ্চিত মানুষের সেবায় তিনি ছিলেন সর্বদা নিবেদিত। একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে মানব কল্যান তথা সমাজসেবাই ছিল আল্লামা ফুলতলী (রহঃ) এর জীবেনর অন্যতম লক্ষ্য। তিনি ছিলেন একজন নিভৃতচারী, জনদরদী ও বেমিসাল সমাজসেবক। যে সব সামাজিক অবদান তিনি রেখে গেছেন তন্মধ্যে সর্বশ্রেষ্ট অবদান হলো- ‘দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাষ্ট’ গঠন। স্বীয় ভূ-সম্পত্তির বিশাল অংশ থেকে প্রায় ৩৩ একর জমি ট্রাষ্টের নামে ওয়াক্ফ করে দিয়ে তিনি আল কোরআনের খেদমতে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রতিবছর রামাদ্বান মাসব্যাপী হাজার হাজার ছাত্র/শিক্ষকের থাকা-খাওয়ার খরচ তিনি তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রদান করতেন। এ প্রতিষ্ঠান থেকে এ যাবৎ দুই লক্ষাধিক শিক্ষার্থী বিশুদ্ধ কিরাত শিক্ষা গ্রহন করে বিভিন্নভাবে দ্বীনের খিদমত করে চলেছেন। পবিত্র কোরআনের মধুর সুর ও ধ্বনির মূর্চনায় তিনি গোটা সমাজ ব্যবস্থাকে আলোড়িত করতে চেয়েছিলে। মানব কল্যাণে তাঁর এ অপূর্ব ধারা অব্যাহত থাকলে একদিন গোটা সমাজ ব্যবস্থা আল কোরআনের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে নিঃসন্দেহে। সমাজের এতিম অনাথ দূঃস্থ ও অসহায়দের সাহায্যার্থে এবং বিভিন্ন সামজিক কর্মকান্ড সম্পাদনের মাধ্যমে তিনি যে নজির স্থাপন করেছেন তা এক কথায় অতুলনীয়। এসব কাজের জন্য তিনি তাঁর মুরিদিন, মুহিব্বিনদের ও নানাভাবে সম্পৃক্ত করেছেন, দূঃস্থদের সাহায্য করেছেন।
সাধারন মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে তিনি সব সময় নির্যাতিত মানুষের পাশে ছুটে গেছেন। সেবা মুলক কাজে মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান তিনি বারবার করেছেন। পারিবারিক ও বংশগত, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিবেশে আল্লামা ফুলতলী (রহঃ) নিজেকে একজন খাটি আলিম, জনহিতৈষী, সমাজসেবক, পরোপকারী, মানব দরদী ও কল্যানকামী ব্যক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি বলতেন ‘আজ আমরা অধিকাংশ মুসলমান সমাজ সেবার মহান দায়িত্ব বর্জন করিয়া চলিয়াছি। অথচ প্রকৃত মুসলমান হওয়ার জন্য প্রত্যেক মুমিনের আল্লাহওয়ালা সমাজকেন্দ্রীক হওয়া উচিৎ’। একটি আদর্শ সমাজ বিনির্মানে ফুলতলী ছাবেক ক্বিবলাহ (রহঃ) এর মূল্যবান অবদান সমূহের উপর আলোকপাত করা হলো-
লতিফিয়া শিক্ষা কল্যাণ প্রকল্প প্রতিষ্ঠা : ইসলামী শিক্ষার প্রচার প্রসারের নিমিত্তে প্রতিষ্ঠিত লতিফিয়া শিক্ষা কল্যাণ প্রকল্পের পৃষ্পপোষক ছিলেন আল্লামা ফুলতলী (রহঃ)। ফুলতলী সহ দেশের অন্যান্য স্থানের ছাত্র-ছাত্রীদের এই প্রকল্পের পক্ষ থেকে বৃত্তি প্রধান করা হয়ে থাকে। এই প্রকল্পের অধীনে বৃহত্তর সিলেটের মাদ্রাসা সমুহের ইবতেদায়ী চতুর্থ শ্রেণী ও দাখিল সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহনের মাধ্যমে ‘লতিফিয়া বৃত্তি’ প্রদান করা হয়ে থাকে।
ফুলতলী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা : দ্বীনের খেদমতের একটি বৃহত্তর অংশ আনজাম দেওয়ার জন্য তিনি ফুলতলীতে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘ফুলতলী ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সমাজ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে আক্রান্ত অসহায় বনি আদমদেরকে সাহায্য সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে। লতিফিয়া ক্বারী সোসাইটি প্রতিষ্ঠা : বিশুদ্ধ কোরআন শিক্ষাদানের অন্যতম প্রতিষ্ঠান দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাষ্টের সমূহ কার্যক্রম সুষ্টভাবে পরিচালনার নিমিত্তে গঠিত হয়েছিল ‘লতিফিয়া ক্বারী সোসাইটি’ নামে ক্বারীবৃন্দের বৃহৎ সংগঠন। ফুলতলী ছাহেব ক্বিবলাহ (রহঃ) ছিলেন এ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তাঁর বড় ছাহেবজাদা আল্লামা ইমাদ উদ্দীন চৌধুরী হচ্ছেন এ সংগঠনের জেনারেল সেক্রেটারী। দেশের বিভিন্ন উপজেলার সনদপ্রাপ্ত ক্বারী বৃন্দের সমন্বয়ে ‘লতিফিয়া ক্বারী সোসাইটি’ তাঁদের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। এ সংগঠনের মাধ্যমে দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাষ্টের অধিভূক্ত শাখা কেন্দ্র সমূহকে অনুমোদন প্রদান করা হয়ে থাকে। তাছাড়া অন্যান্য জনহিতকর ও সমাজসেবা মূলক কার্যক্রম এ সংগঠনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
মুসলিম হ্যান্ডস বাংলাদেশের পৃষ্টপোষক : আন্তর্জাতিকভাবে মানবে সেবার কাজে নিয়োজিত বেসরকারী সংস্থা এবং বিশ্বের অর্ধ শতাধিক দেশে কর্মরত ইউ,কে ভিত্তিক চ্যারিটি সংগঠন মুসলিম হ্যান্ডস বাংলাদেশের পৃষ্টপোষক ছিলেন তিনি। বর্তমানে এই সংগঠনের সেক্রেটারীর দায়িত্ব নিয়োজিত রয়েছেন তাঁর বড় ছাহেবজাদা আল্লামা ইমাদ উদ্দীন চৌধুরী।
গোলাম মোস্তফা চৌধুরী একাডেমীর জন্য জমি দান : আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে জকিগঞ্জ উপজেলার রতনগঞ্জ বাজারে এলাকার ছাত্র ছাত্রীদের পড়ালেখার গুনগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘গোলাম মোস্তফা চৌধুরী একাডেমী’। প্রতিষ্ঠালগ্নে আল্লামা ফুলতলী (রহঃ) ঐ বিদ্যালয়ের জন্য নিজের জমি প্রদান করে শিক্ষার উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।
পরওয়ানা পাবলিকেশনস্ প্রতিষ্ঠা : সামাজিক খেদমতে পরওয়ানা পাবলিকেশনস্ আল্লামা ফুলতলী (রহঃ) এর এক অনবদ্য সৃষ্টি। নব্বই দশকের প্রথম দিকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ১৩/এ নয়াপল্টন এ তিনি ‘পরওয়ানা পাবলিকেশনস্’ নামে একটি অত্যাধুনিক পাবলিকেশনস্ প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রকাশানা থেকে ইতিমধ্যেই বহু সংখ্যক, ইসলামীক গ্রন্থ ও ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়েছে।
মাসিক পরওয়ানা প্রতিষ্ঠা : আল্লামা ফুলতলী (রহঃ) ১৯৯২ইং সালে ফুলতলী ভবন, ১৩/এ নয়াপল্টন ঢাকা থেকে ইসলামী তাহযিব তামাদ্দুন সম্বলিত মূখপত্র মাসিক পরওয়ানা প্রকাশ করেন। সূচনা লগ্ন থেকে এ পত্রিকাটি ইসলাম ও মুসলমান বিদ্বেষীদের মোকাবেলায় সাহসী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তিনি আজীবন এ পত্রিকাটির প্রধান পৃষ্টপোষক ছিলেন। এ পত্রিকার সম্পাদক হচ্ছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও ইসলামী চিন্তাবীদ মাওলানা হুছামুদ্দিন চৌধুরী (ছোট ছাহেবজাদা)।
বৃক্ষরোপন কর্মসূচী প্রবর্তন : প্রানপ্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকে রক্ষার লক্ষে তিনি বৃক্ষ রোপন কর্মসূচীর প্রবর্তন করেন। বিভিন্ন মাহফিলে তিনি কোরআন হাদীসের আলোকে সবুজ বনায়নের তাৎপর্য মানুষের সম্মুখে তুলে ধরতেন। তিনি বেলজিয়াম, মেহগনি, নারিকেল (কাঞ্চনপুরী), রেন্ট্রি প্রভৃতি গাছের চারা লতিফিয়া ক্বারী সোসাইটির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় রোপনের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করতেন। উনার ইন্তেকালের পর অধ্যাবদি এধারা তাঁর সুযোগ্য বড় ছাহেবজাদা আল্লামা ইমাদ উদ্দীন চৌধুরীর মাধ্যমে অব্যাহত আছে।
স্কুল অব এক্সিলেন্সি এর পৃষ্টপোষক : সময়ে প্রয়োজনের কথা চিন্তা করে সিলেট শহরের প্রানকেন্দ্রে ‘স্কুল অব এক্সিলেন্সি’ নামে একটি আন্তর্জাতিক মানের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক পরিচালনার দায়িেেত্ব রয়েছে মুসলিম হ্যান্ডস বাংলাদেশ। আল্লামা ফুলতলী (রহঃ) ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান পৃষ্টপোষক।
লতিফিয়া কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা : আল্লামা ফুলতলী (রহঃ) কোমলমতি ছেলে মেয়েদের শিক্ষার গুনগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিজ বাড়ীতে ‘লতিফিয়া কমপ্লেক্স’ নামে একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন, যাতে রয়েছে তিনটি শিক্ষালয়।
এক.আল কোরআন মেমোরাইজিং সেন্টার। এর অন্যতম বৈশিষ্ট হলো মাত্র দু বৎসরে ছাত্ররা যাতে হিফজ সম্পন্ন করতে পারে ঠিক সেইভাবে সাজানো কারিকুলাম। সাথে সাথে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা। দুই. ফুলতলী ইসলামীক কিন্ডার গার্টেন। এটি সাধারন ও ইসলামী শিক্ষার সমন্বয়ে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিশুদের জন্য একটি অত্যাধুনিক প্রতিষ্ঠান। তিন.ইসলামীক প্রি-ক্যাডেট একাডেমী। এই প্রতিষ্ঠানটি সম্পুর্ণ আবাসিক পদ্ধতিতে অভিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলী দ্বারা পরিচালিত। তাঁর চতুর্থ ছাহেবজাদা মুফতি মাওলানা গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী এ প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন।
লতিফিয়া দারুল মুতালাআহ প্রবর্তক : কোরআনুল কারীম, হাদীস শরীফসহ সামগ্রিক ইসলামিক বিষয়ে বিশেষ করে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বীদা নির্ভর বিষয়াবলী নিয়ে উচ্চতর জ্ঞানচর্চা ও গবেষনার জন্য ছাহেব ক্বিবলাহ স্থাপন করেছেন একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার। পরবর্তীতে এর নামকরন করা হয় ‘লতিফিয়া দারুল মুতালাআহ’। ‘লতিফিয়া দারুল মুতালাআহ’ এ ২ হাজারের অধিক আরবী, ফারসী, উর্দূ ও বাংলা ভাষার দূর্লভ-দূস্প্রাপ্য  মুল্যবান কিতাবাদি রয়েছে। কিতাবাদীর সমাহার ঘটেছে। সূদীর্ঘকাল ধরে ছাহেব ক্বিবলাহ কর্তৃক দেশ-বিদেশ থেকে ক্রয়কৃত হাজার হাজার মূল্যবান কিতাব সমৃদ্ধ এই গ্রন্থাগারে তিনি অকাতরে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এই গ্রন্থাগারকে উচ্চতর ইসলামী জ্ঞান অন্বেষু গবেষনা প্রিয় উলামা সাধারণের প্রত্যক্ষ সহায়তা দানের জন্য। এছাড়া ‘লতিফিয়া দারুল মুতাআলা’ এ যারা গবেষণায় নিয়োজিত থাকেবেন, জ্ঞান চর্চা করবেন, সেই আলিমগণের থাকা খাওয়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থা এবং গবেষনাকর্মের আনুষাঙ্গিক ব্যয় নির্বাহের জন্য ছাহেব কিবলাহ তাঁর ভূ-সম্পত্তির একটি অংশ ওয়াকফ করে দিয়েছেন।
আল্লামা ফুলতলী (রহঃ) ‘লতিফিয়া দারুল মুতালাআহ’ স্থাপন করে সমাজের বড় এক খেদমের দিক উন্মোচন করেছেন। তাঁর হৃদয়ে দূর্লভ কিতাবসমূহ সংগ্রহের প্রবল আকাংখা ছিল। মক্কা ও মদীনা শরীফ, ভারত, পাকিস্তান, মিশর থেকে খুঁজে খুঁজে তিনি এই দূর্লভ কিতাব সমূহ সংগ্রহন করেন। তাঁর প্রতিষ্টিত গ্রন্থাগারে হাদিস, তাফসির, ফিক্হ, আকাঈদ, উসুলে হাদিস, উসুলে ফিক্হ, আসমাউর রিজাল, ইতিহাস, সীরাত, মান্তিক, হিকমত, নাহুসরফ, বালাগাত, প্রভৃতির কিতাবাদী তিনি সংগ্রহ করে রেখে গেছেন জাতীর খেদমতের জন্য। এগুলো দুষ্প্রাপ্য অথচ ইসলামী বিষয়ে গবেষণার জন্য অত্যন্ত জরুরী। শিয়া, ওয়াহাবী, কাদিয়ানী, শাফিয়ী, মালিকী, হাম্বলী, হানাফী সহ মাযহাব সমুহের প্রায় সমস্থ কিতাব তিনি সংগ্রহ করেছেন। তাঁর লাইব্রেরীতে অমুসলিম পান্ডিতদের অনেক বই সংরক্ষিত আছে। এছাড়াও বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও বিশেষ সংখ্যার পত্র-পত্রিকা সমূহ তাঁর অমূল্য গ্রন্থশালায় রক্ষিত রয়েছে। বর্তমান কালে বঙ্গ আসামের মধ্যে ইসলামী গ্রন্থগার হিসেবে এটি শ্রেষ্ট গ্রস্থগার। এই সমস্ত সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তিনি যুক্তরাজ্যে ‘উলামা সোসাইটি ইউ,কে’ ‘আল-ইসলাহ ইয়ুথ ফোরাম ইউ,কে’ ‘লতিফিয়া ক্বারী সোসাইটি ইউ,কে’ গঠন করে সেখানকার অভিভাসী মুসলমানদের ধর্মীয়, সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে দিয়েছেন।
সামাজিক এসব কর্মকান্ড সম্পাদন করতে গিয়ে তিনি সর্বদাই বিচরণ করেছেন সমাজের মানুষের কাছে। সমাজের মানুষেরাও আশ্রয়স্থল হিসেবে ছুটে যেত তাঁরই কাছে। এভাবেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন আমাদের সমাজের অস্তিত্ব পুরুষ হিসেবে।
ইসলামী জীবন বিধানের অন্যতম উপাদান মানবতাবাদ থেকে শিক্ষা নিয়েই আল্লামা ফুলতলী (রহঃ) তাঁর সমগ্র জীবনভর সমাজসেবা ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যাদি সম্পাদন করেছেন। মানবাতার স্থায়য় কল্যান সাধন ও মুক্তিই আল্লামা ফুলতলী (রহঃ) এর মানবাতাবাদী চিন্তাধারার মূল উদ্দেশ্য ও উপজীব্য। তিনি মনে করেন- যে সমাজে ধর্মীয় কল্যাণে সম্পৃক্ত করা হয়না, সে সমাজে ধর্মীয় চিন্তার বিকাশ সম্ভব নয়। সম্ভব নয় মানবতাবাধের প্রতিষ্ঠা। বর্তমান সমাজে মানুষে-মানুষে ভেদাভেদ এত বেশি প্রকট রূপ ধারন করেছে যে, মানুষ হিসাবে আজ একজন অপরজনকে বিবেচনা করে না। আজকে এক নেশন চায় অপর নেশনকে গ্রাস করতে, সমুলে ধ্বংস করতে।
উপমহাদেশের সর্বশ্রেষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মানবপ্রেমী দার্শনিক আল্লামা ইকবাল বর্তমান সমাজের এই চিত্র অবলোকনে উদাত্ত্ব কণ্ঠে আহ্বান জানিয়েছেন।
বুতানের রঙ্গ ও খুনকো তুড় কর মিল্লাত মে গুম হো যা
না তুরানী বাকী রহেনা ইরানী না আফগানী।
ইকবালের মতো আল্লামা ফুলতলী (রহঃ) ও বস্তুুত মানুষের মধ্যে প্রেম- মৈত্রি- করুনা আর ভালবাসার মধ্যেই প্রকৃত মনুষত্ববোধ নিহিত এবং এটাই প্রকৃত পক্ষে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা বলে মনে করেন। মূলতঃ ইসলামে মানবপ্রেমের পরিপূর্ণ সমন্বয় তথা স্বার্থক জীবন ব্যবস্থা রয়েছে। ইসলাম ধর্মের সম্পূর্ণ প্রতিফলনে মানুষের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ, ঘৃনা-লোভ, দ্বন্ধ-সংঘর্ষ, প্রবৃত্তিগুলো লোপ পায়। সমাজ থেকে শোষণ-বঞ্চনা আর অসাম্য বিদূরীত হয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সূষম মানবতাবাদী সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠে শুধু মাত্র ইসলামী জীবন ব্যবস্থা অনুসরনের মাধ্যমেই।
জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্রান্তি লগ্নে তিনি নিজের জীবনের ঝুকি নিয়েও নানা সমস্যা সমাধানের আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। অনেকাংশে তিনি সফলও হয়েছেন। তিনি একজন শ্রেষ্ট সমাজ সংস্কারক ও ছিলেন। বহুমাত্রিক সমাজ সেবা ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বর্তমান মানব সমাজের সার্বিক মুক্তির জন তিনি যে অনবদ্য মানবতাবাদী চিন্তাধারা পেশ করে গেছেন, তাঁর অনুসরন ও অনুকরন সকলের জন্য অবশ্যই কর্তব্য। বর্তমান সমাজ তাঁর সে নীতি গ্রহন করলে অনেক দ্বন্ধের অবসান হতো এবং মানবতাবাদ প্রতিষ্ঠার পথ ও তরান্নিত হতো- তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
লেখক : গবেষক, ও অধ্যক্ষ, হলিয়ার পাড়া জামেয়া কাদেরিয়া সুন্নিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

আখেরি মোনাজাত আজ

পবিত্র হজের পর মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় সমাবেশ এই বিশ্ব ইজতেমা। এ কারণে মুসলিম বিশ্বের …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open