বুধবার, জুন ২৯, ২০২২ : ৭:৩৪ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ার আশাবাদ

imagesডেস্ক রিপোর্ট: : উন্নয়নের নানা সূচকে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে অনুসরণ করছে, এমনই এ সন্ধিক্ষণে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বক্তব্যে তিনি দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়েও আলোকপাত করেছেন। দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতি, পৌর নির্বাচন, বিএনপি-জামায়াতের সহিংস রাজনীতি ও জড়িত ব্যক্তিদের বিচার, যুদ্ধাপরাধীর বিচার, আইনের শাসন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অগ্রগতি, পদ্মা সেতু, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সময়োপযোগী এবং অত্যন্ত গুরুত্ববহ বলেই প্রতীয়মান হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমি ২০০৮ সালে বলেছিলাম, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করব। ইতোমধ্যেই আমরা নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি। ইনশাআল্লাহ ২০২১ সালের আগেই আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হব। প্রধানমন্ত্রীর এই আশা সত্যে পরিণত করতে হলে দেশের উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি বলেই মনে করা যেতে পারে। এছাড়া বিএনপি-জামায়াতের অতীতের রাজনৈতিক কর্মকান্ড সম্পর্কে যে তথ্য উপস্থাপন করেছেন তাও দেশবাসী ভয়াবহভাবে প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি ২০১৫ সালের ৪ জানুয়ারি থেকে বিএনপি-জামায়াত দেশে যে সন্ত্রাস, সহিংসতা শুরু করে তার পরিপ্রেক্ষিতে আগুনে পুড়ে নিহত এবং পেট্রলবোমায় দগ্ধের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। পাশাপাশি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির যে চিত্রও তুলে ধরেছেন তা বেদনাদায়ক বাস্তবতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশ ছিল বাক-স্বাধীনতা হরণের দেশ, সাংবাদিক নির্যাতনের দেশ। অথচ স্বাধীনতার কারণেই গণমাধ্যম এখন সরকারের সমালোচনা করতে পারছে। নতুন ৩২টি টেলিভিশন, ২২টি এফএম রেডিও এবং ৩২টি কমিউনিটি রেডিও চ্যানেলের অনুমোদনের কথাও তিনি তুলে ধরেন। আবার জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালাসহ তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন, তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠাসহ সাংবাদিকদের আর্থিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে তার সরকারের সাফল্য তুলে ধরেন। ২৩৩টি পৌরসভার নির্বাচন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে এবং ২৮ হাজার কোটি টাকা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ২০১৮ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে। আশার কথা যে, সেতুটি চালু হলে তা জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ১.২% হারে অবদান রাখবে।
সত্য যে, দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা থাকলে দেশ শুধু অর্থনৈতিকভাবেই পিছিয়ে পড়ে না সাধারণ মানুষও অশান্তিতে দিনযাপন করতে বাধ্য হয়। এজন্য তিনি সহিংসতামুক্ত দেশ গড়তে সবার প্রতি আহ্বান জানান। সত্য যে, অতীতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা জাতির জীবনে যে পরিস্থিতি তৈরি করেছিল তা বিভীষিকা ছাড়া আর কিছুই নয়। বোদ্ধা এবং সাধারণ মানুষও বলেছেন, এ পরিস্থিতি স্বাধীন দেশের চিত্র হতে পারে না। বিগত দিনগুলোর মতো ভয়াবহ তান্ডব যেন বাঙালির জীবনে আর ফিরে না আসে, আমরা মনে করি এ ব্যাপারে সব পক্ষেরই একমত হওয়া সমীচীন।
সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশ যে থেমে নেই তা নানাভাবেই প্রতিফলিত। বর্তমান সরকারের সদিচ্ছা এবং প্রধানমন্ত্রী সময়োপযোগী দৃঢ় পদক্ষেপের কারণেইথ এটা বলা বোধ করি অত্যুক্তি হয় না। আমরা প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় আস্থার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলতে চাই, সমাজ থেকে হিংসা, হানাহানি ও সংঘাতের চির অবসান হোক। দেশ বর্তমানে উন্নয়নের যে মহাসড়ক অতিক্রম করছে, তাতে আপামর মানুষ যেমন উজ্জীবিত তেমনি সবার আন্তরিক সমর্থন ও দলমত নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণও প্রত্যাশিত। ফলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ধরনের বিভক্তির ঊধর্্েব উঠে উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় শামিল হওয়ার যে আহ্বান জানিয়েছেন তা অবশ্যই তার বিচক্ষণতা এবং আন্তরিকতার পরিচয়বাহী। প্রধানমন্ত্রী বহুবারই এ প্রমাণ রেখেছেন। দেশের সার্বিক উন্নয়নে সময়োপযোগী বক্তব্য দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি আমাদের প্রিয় দেশ অচিরেই মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হোক এ প্রত্যাশা আমাদের।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বেতন স্কেল ১০ গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবি প্রধান শিক্ষকদের

ডেস্ক রিপোর্ট :: দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড (নন-ক্যাডার) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় প্রধান শিক্ষকদের প্রবেশ পদে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Open