শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২০ : ৯:৫৪ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

শুরু হয়েছে শেরপুরের মাছের মেলা : অসামাজিকতার কাছে ম্লান হচ্ছে ঐতিহ্য

4334b397-879a-433d-8d1d-4e010ff6ab621ওসমানীনগর সংবাদদাতা: হিন্দু সম্প্রদায়ের পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ৩ দিনব্যাপি ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা গতকাল বুধবার ওসমানীনগরের সীমান্তবর্তী সিলেট-মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ জেলার মিলনস্থল কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী শেরপুরে শুরু হয়েছে। দেশ-বিদেশের হাজার হাজার মানুষের উৎসাহ ও উদ্দিপনায় এ মেলা বছরে একবার হলেও মেলাকে ঘিরে সাজ-সাজ রব পড়ে মাসাধিক কাল আগ থেকে।
লন্ডন, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের অনেক প্রবাসী মেলা উপলক্ষে দেশে আসেন। এ মেলায় সস্তা দরে জিনিষপত্র পাওয়া যায় বলে দেশের বিভিন্ন জায়গা হতে এখানে আসেন অনেকেই। মেলায় মানুষের ঢল নামে। মূলত এই মিলন মেলার নাম মাছের মেলা হলেও বিভিন্ন তৈজসপত্র ও গৃহস্থালী সামগ্রি কিনতে পাওয়া যায়। কিন্তু এ মেলাকে পূজি করে একটি মহল মেলাস্থল ইজারা নিয়ে অধিক টাকার মুনাফার আশায় জুয়া, অসামাজিক কার্যকলাপ, অশ্লিল নৃত্য (পুতুল নাচ)’র প্রস্তুতি নিয়েছে। এটা প্রতি বছর হয় বলে স্থানীয়রা জানান।সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মেলা উপলক্ষ্যে কুশিয়ারা নদীরতীরে কয়েক একর ফসলী জমিতে শতাধিক দোকান সাজাতে ব্যাস্ত রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিবারের মতো এবারো মাছের পাশাপাশি মেলায় শুভা পাবে কাঠ ও কাঠজাত সামগ্রী, লোহার তৈরী বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী, হস্ত শিল্প সামগ্রী আর ছোটদের বিভিন্ন ধরনের খেলনা। প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে প্রতি বছরই ঐতিহ্যবাহি মেলায় ব্রাক্ষন বাড়িয়া, কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিভিন্ন যাত্রাদলকে পুতুল নাচের অনুমতি দিয়ে থাকেন ইজারাদাররা। আর এসব যাত্রাদল মেয়েদের অশ্লিল নৃত্য দেখিয়ে হাতিয়ে নেয় লক্ষ লক্ষ টাকা। ইতিমধ্যে ২৫টি অশ্লিল নৃত্যের মঞ্চ প্রস্তুতি করা হয়েছে।গতকাল বুধবার দিবাগত রাত থেকে এ আসর গুলোতে অশ্লিল নৃত্য চলছে বলে জানা গেছে। তাদের এ অশ্লিল নৃত্য প্রদর্শনির টিকিটের অধিকাংশই উঠতি বছরের তরুনদের হাতে চলে যায়। ফলে অসামাজিকতার কাছে ম্লান হয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এ মাছের মেলা। বিপদগামী হচ্ছে যুব সমাজ। তবুও প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্টদের টনক নড়ে না।
জানা গেছে, এ বছর ২০ লাখ টাকায় মেলা ইজারা পেয়েছেন হামরকোনা গ্রামের মিজানুর রহমান মিজান। সরকার দলীয় কতিপয় নেতা ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা প্রশাসনের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের হাত করে মেলায় অশ্লিল কর্মকান্ডের অলিখিত অনুমোদন নিয়েছেন ইজাদারসহ পরিচালনা কমিটি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ইজারাদারসহ পরিচালনা কমিটি বড় অংকের মুনাফা নিয়ে অশ্লিল নৃত্য, জোয়া অসামাজিক কার্যকলাপের অলিখিত অনুমতি দিয়েছেন। মেলাটি ঐতিহ্যবাহী হওয়ায় এক সময় এ মেলার সূদুর প্রসারী নাম ছিল। কিন্তু কয়েক বছর ধরে মেলায় সমাজ বিরোধী কর্মকান্ডে যুব সমাজের অবক্ষয়ের জন্য স্থানীয় সুশিল সমাজের মানুষের উদ্বিগ্ন। এতে কেউ ইজারাদারের ভয়ে মুখ খোলে প্রতিবাদও করতে সাহস পান না।এ ব্যাপারে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আবু সাঈদ বলেন, ঐতিহ্যবাহী এ মেলাকে কেন্দ্র করে যাতে কোন ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ না হয় সে জন্য আমরা সব সময় তৎপর রয়েছি। আমি আজ (গতকাল বুধবার) বিকালে একাধিক জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছি।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বিশ্বনাথে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি মেম্বার গ্রেফতার

সিলেটের বিশ্বনাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে উপজেলার দৌলতপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open