বুধবার, ডিসেম্বর ৮, ২০২১ : ৩:৩৫ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

শুরু হচ্ছে শেরপুর মাছের মেলা : অশ্লিল নৃত্য ও জুয়ার প্রস্তুতি

8fb19bae-9b50-4195-9f88-604ec485d3d9ওসমানীনগর সংবাদদাতা: সিলেট-মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ জেলার মিলনস্থল কুশিয়ারা নদীর উত্তর তীর শেরপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের পৌষ সংক্রান্তি কে সামনে রেখে শুরু হয় ৩দিন ব্যাপি মাছের মেলা। এ মেলায় বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার লোকের সমাগম ঘটে। মেলার প্রধান আকর্ষণ বিভিন্ন জাতের মাছ হলেও মেলার বিশেষ অনৈতিক আকর্ষণ জুয়া ও অশ্লিল নৃত্য।

এবারও এ অনৈতিকের ব্যতিক্রম হবে না বলে জানান স্থানীয় অনেকে। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ১৩-১৪ জমে উঠবে পুরো মেলা, মেলা চলবে তিনদিন।
অনুসন্ধানে জানাযায়, হিন্দু সম্প্রদায়ের পৌষ সংক্রান্তি কে সামনে রেখে শেরপুরে শুরু হয় মাছের মেলার। প্রায় ২শত বছরের ঐতিহ্য এ মেলা সিলেটের সবচেয়ে বড় মেলা হিসেবে স্বীকৃতি রয়েছে। আগে সপ্তাহব্যাপী এ মেলা চলতো। এক সময় এ মেলা মনুমূখ বাজারে মনু নদীর তীরে বসতো।

নদী ভাঙ্গন ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় কালের আবর্তে তা শেরপুরের ব্রাহ্মন গ্রামের পাশে কুশিয়ারা নদীর তীরে অনুষ্টিত হয়। মাছের মেলাকে ঘিরে সিলেট-মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মিলনস্থল শেরপুর পরিনত হয় মানুষের মিলন মেলায়। কিন্তু নামে মাছে মেলা হলেও কাজে জুয়া আর পুতুল নাচের নামে যুবতি মেয়ে দিয়ে অশ্লিল নৃত্যর মেলা বসে। বসে অর্ধ শতাধিক অশ্লিল নাচের ঘর।

জুয়ার জন্য খোলামেলা ভাবে বসে কয়েক শতাধিক বিভিন্ন ধরনের জুয়ার আসর। সিলেট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে এজন্য মাইকিং করে জানান দেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে জুয়ার ঘরে আগমন ঘটে কয়েক হাজার জুয়াড়ির। অশ্লিল নৃত্যর ঘরে আগমন ঘটে উঠতি বয়সের যুবকসহ বিভিন্ন বয়সের অসংখ্য লোকের। বিগত বছরে এ ধরনের চিত্রের মধ্য দিয়ে সাঙ্গ হয় শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলার। স্থানীয়রা জানান জুয়া ও অশ্লিল নাচ চলে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের হাত করে।

সূত্র জানায়, ইজারাদার অশ্লিল পুতুল নাচের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অগ্রিম ১ থেকে ২ লক্ষ টাকা নিয়ে অশ্লিল নৃত্য প্রদর্শনীর অনুমতি দেন। অশ্লিল নৃত্য প্রদর্শনির টিকিটের মূল্যে গত বছর ১০০ থেকে ৫০ টাকা নির্ধারণ ছিল। মেলায় অসামাজিকতারও আশংকা রয়েছে এমন অভিমত স্থানীয়দের। অভিযোগ উঠেছে প্রসাশনের কথিপয় দুর্নিতিবাজ কর্মকর্তাদের হাত করে মেলায় অশ্লিল নৃত্য ও জুয়া খেলার অলিখিত অনুমোদন আনেন সরকার দলীয় লোক। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ জনমনে হয় প্রশ্নবিদ্ধ। মেলায় বিভিন্ন রকমারীসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী, হস্ত শিল্প, ছোটদের বিভিন্ন ধরনের খেলনা বিভিন্ন তৈজসপত্র ও গৃহস্থালী সামগ্রির দোকান থাকলেও আগতদের আকর্ষণ পুতুল নাচের দিকেই থাকে। চলতি বছর মাছের মেলার ইজারা হয়েছে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকায়। ইজারা পেয়েছেন শেরপুর এলাকার হামরকোনা গ্রামের মিজান মিয়াকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেরপুরের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, মেলায় অশ্লিলতা প্রবেশ করায় এর অতীত ঐতিহ্য এখন আর নেই। যে দল ক্ষমতায় আসে সে দলই মাছের মেলা নিয়ন্ত্রণ করে। অনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে কোটি টাকা আয় করা হয়। প্রশাসন থাকে সে সময় প্রায় নিষ্ক্রিয়। অনেক সময় অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধে পুলিশের অভিযান হলেও তা থাকে লোক দেখানো। এতে এলাকার নৈতিক পরিবেশের ব্যঘাত ঘটে। এলাকার যুবসমাজ অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এসব অনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধে আমরা সরকার ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি।

ইজারাদার মিজান মিয়া বলেন, পুতুল নাচ ও জুয়া বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। যারা ব্যবসা করবে তারা জানে কিভাবে করবে।

শেরপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সাঈদ বলেন, মেলায় জুয়া এবং অশ্লিল নাচ হবে না। হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ : মন্দিরের জমি দখল নিতে পুরোহিতের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা মামলা

প্রভাবশালী এক আওয়ামী লীগ নেতার যোগসাজশে মন্দিরের জায়গা দখলের জন্য স্থানীয় কিছু লোক এসব ঘটনা …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open