সোমবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২১ : ২:৪৮ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

সিলেটে জঙ্গি হামলা প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান অর্থমন্ত্রীর

imagesস্টাফ রিপোর্টার :: সিলেটে জঙ্গি হামলা আশঙ্কার কথা জানিয়ে জঙ্গি হামলা প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। গতকাল সোমবার বিকেল পৌনে ৩টায় শহরতলির বাদাঘাটে নির্মানাধীন কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শনকালে অর্থমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সিলেটে আগেও জঙ্গি হামলা হয়েছে। এই গোষ্টি এখনো তৎপর রয়েছে। এদের তৎপরতা ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যদি এমন কোনো কর্মকান্ড চোখে পড়ে সাথেসাথে পুলিশকে অবহিত করার অনুরোধ করেন তিনি।
এরআগে গত ৯ জানুয়ারি শনিবার পুলিশের উপ মহাপরিদর্শক, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মিজানুর রহমানও সিলেটের বিভিন্ন শিয়া মসজিদসহ ধর্মীয়প্রতিষ্ঠানে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনার কথা পুলিশের জানা আছে। গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে এমন শঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন ডিআইজি।
জুলাই মাসে কারাগার স্থানান্তর, পুরনো স্থানে হবে সেন্ট্রাল পার্ক : কারাগারের জন্য বাদাঘাট থেকে সিলেট শহরতলীর তেমুখী পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখানকার সংযোগ সড়ক নিয়ে একটু সমস্যা ছিলো। আজকে এখানে যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের সচিব এসেছেন। এই সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে।
আগামী জুলাই মাসে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারকে বাদাঘাটে স্থানান্তর করে পুরনো কারাগারে সেন্ট্রাল পার্ক নির্মাণের উদ্যোগের কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আগামী জুন মাস পর্যন্ত এই প্রকল্পের মেয়াদ। যথাসময়েই নির্মাণ কাজ শেষে হবে। সকল প্রক্রিয়া শেষে জুলাই মাসে কারাগার স্থানান্তর করা হবে।
নির্মাণাধীন কারাগার পরিদর্শনে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, কারাগার স্থানান্তরের পর সিলেট মহানগরের ফুসফুস হবে পুরনো জেল। ঐতিহ্যের নিদর্শন হিসেবে পুরনো কিছু স্থাপনা রেখে এটাকে সিলেট মহানগরীর সেন্ট্রাল পার্ক করা হবে। সেই পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। নামকরণের চিন্তাভাবনা চলছে। সময়মতো তা জানিয়ে দেওয়া হবে।
ভবিষ্যতে নগরীর উপকণ্ঠ বাদাঘাটকে স্যাটেলাইট সিটি হিসেবে গড়ে তোলার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই এলাকায় কারাগার নির্মাণ ছিল অত্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রকল্প। এর ফলে পিছিয়ে পড়া এলাকার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
আগামি ২১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিলেট সফর প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ওইদিন সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী সিলেটে পৌঁছাবেন। তিনি প্রথমে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করবেন। পরে মদন মোহন কলেজের ৭৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমণ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ সিলেটের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে যে উদ্দীপনা বিরাজ করছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা তাঁর বিচক্ষণ নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাকে নিয়ে সকলের উৎসাহ, উদ্দীপনা থাকবে। তাঁর সিলেটে আগমণেও এটাই স্বাভাবিক।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে মোমেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মিজানুর রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন, সাবেক সাংসদ সৈয়দা জেবুন্নেছা হক প্রমুখ।
এর আগে বেলা আড়াইটায় অর্থমন্ত্রীকে বহনকারি একটি হেলকপ্টার বাদাঘাট এলাকায় অবতরণ করে। পরে তিনি এক সুধি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। এসময় মন্ত্রীর সাথে ছিলেন জাতিসংঘস্থ বাংলাদেশ মিশনের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. একে আবদুল মোমেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফারুক জলিল।
সুধী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান, মহানগর সভাপতি সাবেক সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, রূপালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আহমদ আল কবির, সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা হক, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক জাকির হোসেন, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবু জাহিদ, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, সুজাত আলী রফিক, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান জামিল, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট নূরে আলম সিরাজী, মকসুদ আহমদ মকসুদ, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম জিল্লুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তুরাজ উদ্দিন আহমদ, সিলেটের ডিআইজি মো. মিজানুর রহমান, এসএমপি কমিশনার মো. কামরুল আহসান, জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদিন, পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা, মদন মোহন কলেজের অধ্যক্ষ আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব, সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম, সেচ্ছাসেবক লীগ জেলা শাখার সভাপতি আফসর আজিজ, মহানগর সভাপতি কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাশ মিঠু, মহানগর যুবলীগের আহবায়ক আলম খান মুক্তি, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল বাসিত রুম্মান প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ১৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট শহরতলীর বাদাঘাটে নির্মাণাধীন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের ৮০ভাগ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারি প্রতিষ্ঠান সিলেট গণপূর্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রকল্পের মেয়াদ অনুযায়ী আগামী ২০১৬ সালের জুন মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হবে।
কারাগার নির্মাণ প্রকল্পের মধ্যে ৬০ ভবন নির্মাণ হয়েছে। অবশিষ্ট ৪টি প্রকল্পের নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে শেষ হয়েছে। কারাগারের অভ্যন্তরীণ উচু প্রাচীর, বাইরের প্রাচীরসহ গুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
২০১২ সালের জুলাই মাসে ৩০ একর জমিতে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পে ৬৪ টি ভবনের ২৮টি বহুতল, অন্যগুলো একতলা বিশিষ্ট; যার মধ্যে চারটি স্টিল স্ট্রাকচার। ৩টি ওয়াচ টাওয়ার, ১টি কেন্টিন, ১ টি গ্যারেজ, একটি মসজিদ, একটি স্কুল রয়েছে। পুরুষ বন্দিদের জন্য ৬ তলা বিশিষ্ট চারটি ও মহিলা বন্দিদের জন্য ৪তলা বিশিষ্ট ১টি, ২তলা বিশিষ্ট ২ টি পৃথক ভবন, পৃথক হাসপাতাল, সেল , কারা কর্তৃপক্ষের জন্য ১৩০টি ফ্ল্যাট রয়েছে এই প্রকল্পে।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

সেই রাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ

আত্মহত্যা’ করা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির সাবেক …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open