শনিবার, নভেম্বর ২৮, ২০২০ : ৮:৩৪ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

আখেরি মোনাজাত আজ

imagesপবিত্র হজের পর মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় সমাবেশ এই বিশ্ব ইজতেমা। এ কারণে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশ বলে পরিচিত এটি। ইজতেমায় বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়। তিন বছর ধরে দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইজতেমা। এবারও দুই দফায় বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। আজ আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে ৪৯তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। গত ৮ জানুয়ারি, শুক্রবার টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে শুরু হয় ইজতেমার প্রথম পর্ব। তিন দিনের দ্বিতীয় দফা শুরু হবে ১৫ জানুয়ারি।

প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমানের ঢল নামে ইজতেমায়। তাবলিগ জামাতের বার্ষিক মহাসম্মেলনই বিশ্ব ইজতেমা। তাবলিগ শব্দের অর্থ প্রচার, অর্থাৎ কোনো আদর্শ বা মতবাদের প্রচারকে তাবলিগ বলা হয়। সাধারণত ধর্মীয় মতবাদ প্রচারই তাবলিগ।

বিশ্ব ইজতেমা কালের বিবর্তনে ঈমানদার মানুষের অন্যতম প্রধান মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ইজতেমার ইতিহাস অনুসন্ধানে দেখা যায়, কাকরাইল মসজিদে প্রথম ইজতেমার আয়োজন করা হয় ১৯৪৬ সালে। উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ভারতের মওলানা ইলিয়াসের (রহ.) গোড়াপত্তন করেন। এরপর ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামের হাজিক্যাম্পে এবং ১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারী বাড়তে থাকায় ১৯৬৬ সালে টঙ্গীর তুরাগ তীরে স্থানান্তর করা হয় ইজতেমা। পরে সরকার তুরাগ তীরের ১৬০ একর জমি ইজতেমার জন্য বরাদ্দ দেয়। কাবাকেন্দ্রিক ইসলামী চেতনাকে জোরদার করতে বিশ্ব ইজতেমা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শান্তি ও কল্যাণের যে শিক্ষা ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) প্রচার করেছেন, তার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণার জন্যই মুসল্লিরা প্রতিবছর মিলিত হন বিশ্ব ইজতেমায়। জাতিগত, ভাষাগত ও রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার পক্ষে অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানানো হয় এ পবিত্র সমাবেশ থেকে। পারলৌকিক কল্যাণের জন্য প্রতিটি বিশ্বাসী মানুষকে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের পথে থাকার তাগিদ দেন তাবলিগের মুরব্বিরা। ৪০ দিনের চিল্লা, ১২০ দিনের চিল্লা, ৬ মাসের চিল্লাসহ আজীবন চিল্লায় যারা নাম লিখিয়েছেন এমন শত শত মুসল্লিরা সমবেত হবেন এ বিশ্ব ইজতেমার তাশকিল কামনায়। আল্লাহ নির্দেশিত পথের যাত্রী, ইজতেমায় যোগদানকারী মুসল্লিদের আমরা খোশ আমদেদ জানাই।

এবার বিশ্ব ইজতেমার আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় প্রায় সব ব্যবস্থাই নেয়া হয়েছিল। ইজতেমা মাঠ ঘিরে নেয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বও সুষ্ঠুভাবে হবে বলে মনে করি। বাংলাদেশে নিয়মিত বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের ফলে ইসলাম ধর্মের অনেক মৌলিক শিক্ষা সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে। ঈমান, আমল ও ইলম অর্জন এবং আত্মশুদ্ধিতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশ্ব ইজতেমা সবার জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে এবং মানুষের ভেতর থেকে হিংসা-হানাহানি দূর করে পৃথিবীতে শান্তির অমিয়ধারা প্রবাহিত করবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

সামাজিক ক্ষেত্রে আল্লামা ছাহেব ক্বিবল্লাহ ফুলতলী (রহ.) এর অনন্য অবদান

 মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম পারভেজ :: পাক ভারত উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন এবং …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open