মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২০ : ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

মৌলভীবাজারে বনের গাছ কেটে সাফ হুমকিতে জীববৈচিত্র

47996স্টাফ রিপোর্টার :: হাওরের বুকে বেশ কিছু জায়গাজুড়ে জলজ উদ্ভিদ হিজল, করচ ও বরুণগাছের বন। বিভিন্ন ধরনের বন্য প্রাণীর আবাসও আছে সেখানে। অথচ স্থানীয় কিছু লোক বনের একাংশের গাছপালা কেটে ফেলেছে। সেখানে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। এতে ঝুঁকির মুখে পড়েছে বনের জীববৈচিত্র।
ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি হাওরের সাতবিলা ও ফোয়ালা বিল (জলমহাল) এলাকায়। গাছ কাটার ব্যাপারে বন দেখভালের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ইসিএ সমিতির পক্ষ থেকে প্রশাসন, বন বিভাগ ও পুলিশের কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ১৯৯৯ সালে সরকার হাকালুকি হাওরকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ বা ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া) ঘোষণা করে। হাওরের বড় লেখার ইসলামপুর মৌজায় ১ নম্বর সরকারি খাসখতিয়ানভুক্ত ৪০০৩ ও ৪০১৫ নম্বর দাগে (জেএল নম্বর-৯০) ১৫০ একর এবং হাকালুকি মৌজায় ১ নম্বর খাসখতিয়ানভুক্ত ১ নম্বর দাগে (জেএল নম্বর ৮৯) ১০০ একর জায়গায় হিজল, করচ ও বরুণের বন বিস্তৃত। এসব জায়গা সাতবিলা ও ফোয়ালা বিলের পাড়ে পড়েছে। স্থানীয় হাকালুকি জগরণী ও বোরোদল ইসিএ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড এ বনটি দেখভাল করে। বন পাহারায় চারজন নিয়োজিত আছেন।
গত নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ  থেকে স্থানীয় কিছু লোক বনের একাংশের গাছপালা কাটা শুরু করেন। পাহারাদারেরা বাধা দিলেও তাঁরা শোনেননি। এ অবস্থায় বোরোদল সমিতির সভাপতি নজীব আলী ৬ ডিসেম্বর বড় লেখার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের  মৌলভীবাজারের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও বড় লেখা থানার ওসি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বড় লেখার বর্ণি ইউনিয়নের কাজীরবন্দ গ্রামের মসাইদ আলী, সুরুজ আলী, মন্তাজ আলী ও লোকমান আলী বনের গাছ কাটছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বনের গাছগুলো ছয়-সাত ফুট উচ্চতার। এর মধ্যে ২০-২৫ একর জায়গা গাছপালাশূন্য। সেখানে মাটি খুঁড়ে গাছের শেকড়  উপড়ে ফেলা হয়েছে। ফাঁকা হওয়া কিছু জায়গায় সরিষার বীজ রোপণ করা হয়েছে।
বনের পাহারাদার মাতাব উদ্দিন ও মখলিছ আলী বলেন, গাছ কাটার সময় বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তাঁদের ভয়ভীতি দেখায়। তবে পুলিশ যাওয়ার পর থেকে গাছ কাটা বন্ধ আছে। কাটা গাছগুলো দুর্বৃত্তরা জ্বালানির জন্য নিয়ে গেছে।
বোরোদল সমিতির সভাপতি নজীব আলী বলেন, বনটি অনেক পুরোনো। বনের গাছপালা বর্ষায় হাওরের ঢেউ ঠেকায়। ফলে তীরবর্তী বাড়িঘর-রাস্তাঘাট রক্ষা পায়। বনের ভেতরে মেছোবাঘ, শিয়ালসহ বিভিন্ন ধরনের বন্য প্রাণী ও পাখি থাকে। গাছ কাটায় বনের জীববৈচিত্র এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করে মসাইদ আলী মুঠোফোনে বলেন, এ জায়গাটা আগে থেকেই ফাঁকা। এলাকার গরিব লোকজন সেখানে সরিষার খেত করেছেন।
ইউএনও এসএম আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনায় জড়িত  বেশ কয়েকজনের নাম-ঠিকানা পাওয়া গেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা  নেওয়া হবে।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বিশ্বনাথে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি মেম্বার গ্রেফতার

সিলেটের বিশ্বনাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে উপজেলার দৌলতপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open