শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২০ : ৭:১২ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

জগন্নাথপুরে পানি সংকটে ২০০ একর জমি আবাদ অনিশ্চিত

2015_07_02_04_52_58_iCz5w7vCGXAByo2FmulmkvRggIMfTn_originalসুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি বন্দোবস্ত নিয়ে অন্যের কাছে চুক্তির মাধ্যমে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের কালিটেকি গ্রামে। এক পক্ষ এসব জমি ও বিল সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত এনে অবৈধভাবে খন্ডখন্ড করে বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন এলাকার প্রকৃত দখলদার ভূমিহীন পরিবারের লোকজন ও কৃষকরা। এখানে রয়েছে শ্বশ্মান, দেবস্থান, বিল ও পতিত রকম জমি। বর্তমানে মাছ নিধনের জন্য বিল শুকিয়ে ফেলা নিয়ে প্রায় ২০০ একর আবাদ করা বোরো জমি পানি সংকটে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। যে কোন সময় বড় ধরণের সংঘর্ষের আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। এছাড়া অতীতে এ ধরণের সরকারি জমি নিয়ে বন্দুক যুদ্ধের ঘটনায় ৬ জন নিহতসহ দুই শতাধিক লোক আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।
জানা যায়, বিগত ১৯৯৯ সালে জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের কালিটেকি গ্রামের অভিনাস বৈদ্য, গোপেন্দ্র বৈদ্য, শচিন্দ্র বৈদ্য ও যতিন্দ্র বৈদ্যসহ ৪ জন ব্যক্তি সরকার বাহাদুরের কাছ থেকে স্থানীয় কল্যাণপুর মৌজার ৪ টি দাগে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ৫ একর সরকারি জমি স্থায়ীভাবে বন্দোবস্ত আনেন। এ সময় তারা এখানে শ্বশ্মান, দেবস্থান ও বিল থাকার তথ্য গোপন করেন। তারা বন্দোবস্তপ্রাপ্ত হয়ে বিগত ২০০০ সালে মাত্র ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে লিখিতভাবে সকল জমি একই গ্রামের হরেন্দ্র বৈদ্য ও রাজেন্দ্র বৈদ্য নামের দুই ব্যক্তির কাছে গোপনে বিক্রি করে দেন। পরে আবার একই সালে বন্দোবস্ত প্রাপ্তদের মধ্যে যতিন্দ্র বৈদ্য একই গ্রামের যতিন্দ্র দেবনাথ, শরিন্দ্র দেবনাথ, প্রল্লাদ দেবনাথ, আল্লাদ দেবনাথ, প্রফুল্ল দেবনাথ, সুনীল দেবনাথ, রাজেশ্বর দেবনাথ, গিরিন্দ্র দেবনাথ, অমরিকা দেবনাথ, অনীল দেবনাথ, অমর দেবনাথসহ আরো ১১ জন ব্যক্তির কাছে একইভাবে গোপনে কিছু জমি বিক্রি করেন। ২০১৩ সালে আবার একই গ্রামের নুরুজ্জামান ও তজ্জুমান আলী নামের আরো ২ ব্যক্তির কাছে কিছু জমি বিক্রি করেছেন। ঠিক এভাবেই তারা বন্দোবস্তপ্রাপ্ত সরকারি জমি ভোগ দখল না করে খন্ডখন্ড করে বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া প্রতি বছর তারা স্থানীয় প্রায় ৩ একর এরিয়া নিয়ে হরহরি বিলটি অন্যত্র বিক্রি করে থাকেন। এ বছর দেড় লক্ষ টাকার বিনিময়ে পার্শ¦বর্তী পাড়ারগাঁও গ্রামের আক্কল মিয়া, জাকির হোসেন তারা মিয়া ও আবু লেইছ নামের ৩ ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়েছে। যদিও দখল বিহীন এসব বন্দোবস্ত বাতিল করে প্রকৃত দখলদার ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত দিতে এলাকাবাসীর পক্ষে কালিটেকি গ্রামের বাসিন্দা তরুন সমাজকর্মী রাদেস দেবনাথ কয়েক বছর ধরে প্রশাসনের দ্বারেদ্বারে ঘুরছেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর এ বিল শুকিয়ে প্রায় ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকার মাছ নিধন করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছর গত শুক্রবার রাতে বড় ২ টি পানির মেশিন লাগিয়ে মাছ নিধনের জন্য বিল সেচ করার কাজ শুরু হয়। এ বিলটি শুকিয়ে ফেলা হলে বিলের চার পাশের প্রায় ২০০ একর আবাদ করা বোরো জমি পানি সংকটে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েন কৃষকরা। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে গতকাল শনিবার স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সাময়িকভাবে পানি সেচ বন্ধ করা হয়েছে। তবে আবারো রাতের আধারে বিল শুকিয়ে ফেলার আশঙ্কা বিরাজ করছে কৃষকদের মাঝে। ইজারাদারদের লোকজন বিল সেচ করতে চাইলে স্থানীয় কৃষকরা বাধা দিলে বড় ধরণের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে কালিটেকি গ্রামের বাসিন্দা রাদেস দেবনাথ অভিযোগ করে জানান, গ্রামের ৪ জন ব্যক্তি সরকারের কোটি টাকা মূল্যের জমি বন্দোবস্ত এনে অবৈধভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়া তারা প্রতি বছর অন্যত্র বিল বিক্রি করেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় ভূমিহীন ও কৃষকরা। তাই তাদের বন্দোবস্ত বাতিল করে প্রকৃত দখলদার ভূমিহীন পরিবারের লোকজনকে পুনরায় বন্দোবস্ত দিতে কয়েক বছর ধরে প্রশাসনের দ্বারেদ্বারে ঘুরছি। এর মধ্যে ২০১৫ সালে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নানের সুপারিশসহ জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট আবেদন করিলাম। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।
জমি খরিদারের মধ্যে তজ্জুমান আলী স্বীকার করে বলেন, আমি বন্দোবস্ত প্রাপ্তদের মধ্যে যতিন্দ্র বৈদ্যের কাছ থেকে কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা দিয়ে ৩ শতক জমি কিনেছি।
স্থানীয় কলকলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদুর রহমান জানান, বিলসহ সরকারি সম্পত্তি বেদখল কারীদের বন্দোবস্ত দেয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) বিশ্বজিত কুমার পাল জানান, কালিটেকির বিষয়টি আমার জানা আছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সার্ভেয়ারকে পাঠানো হয়েছে। আমি নিজে গিয়ে তদন্তক্রমে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
প্রসঙ্গত-সরকারি জমি নিয়ে বিগত ১৯৮৯ সালে কলকলিয়া ইউনিয়নের মোল্লারগাঁও গ্রামে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তেরাব আলী ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম এবং ২০০৮ সালে স্থানীয় কলকলিয়া বাজার এলাকায় গিয়াস উদ্দিন ও জামাল মিয়ার লোকজনের মধ্যে পৃথক বন্দুক যুদ্ধ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৬ জন নিহতসহ ২ শতাধিক লোক আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বিশ্বনাথে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি মেম্বার গ্রেফতার

সিলেটের বিশ্বনাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে উপজেলার দৌলতপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open