বুধবার, ডিসেম্বর ২, ২০২০ : ৭:২৩ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

জ্বালাও-পোড়াওয়ের জবাব ভোটে পেয়েছে বিএনপি : প্রধানমন্ত্রী

indexমানুষ পোড়ানোর দায়ে খালেদার বিচার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মানুষ পুড়িয়ে তিনি (বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া) সরকার উৎখাত করবেন, এটি চেয়েছিলেন। কিন্তু পারলেন না। পরে ঠিকই ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে তিনি কোর্টে হাজিরা দিতে গেলেন। গতকাল শুক্রবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।  দুপুরে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ল্যাপটপ ও মাল্টি মিডিয়া প্রজেক্টর বিতরণ করেন  শেখ হাসিনা।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদের  চেয়ারম্যান গাজী  গোলাম  মোস্তফা বক্তব্য রাখেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়ায়  শেখ রাসেল শিশু পার্ক উদ্বোধন করেন।এর আগে তিনি শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধের মসজিদে বাবা ও মায়ের আত্মার মাগফেরাত কামনায় মিলাদ ও  দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে বিকাল ৩ টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। জ্বালাও- পোড়াও করে মানুষ হত্যার কারণে  পৌরসভা নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।তিনি বলেন, জ্বালাও- পোড়াও করেছে বলেই পৌর নির্বাচনে বাংলার মানুষ বিএনপিকে ভোট দেয়নি।সরকার উৎখাতের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যার দায়ে খালেদা জিয়ার বিচার হওয়া উচিত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত থাকলে যে দেশের উন্নতি হয় তার প্রমাণ আমরা রেখেছি।দশম সংসদ নির্বাচন বয়কটের পর সরকার হটাতে আন্দোলন চালিয়ে ব্যর্থ বিএনপি গত বছর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বর্ষপূর্তির দিনে সমাবেশ করতে বাধা  পেয়ে লাগাতার অবরোধ ডাকে।টানা তিন মাসের সহিংস কর্মসূচিতে বাসে আগুন দিয়ে ও পেট্রোল বোমা ছুড়ে প্রায় দেড়শ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে হওয়া পৌরসভা নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিয়ে বিএনপির প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট এক হয়ে মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে, নির্বাচনের সময়ও মানুষ পুড়িয়েছে তারা। আর আন্দোলনের (২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে) সময় খালেদা বলেছিলেন- সরকারের পতন না ঘটিয়ে তিনি ঘরে ফিরবেন না।
তিনি বলেন, মানুষ  পোড়ানোর দায়ে খালেদার বিচার হওয়া উচিত। মানুষ পুড়িয়ে তিনি সরকার উৎখাত করবেন, কিন্তু পারলেন না। পরে ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে কোর্টে হাজিরা দিতে  গেলেন।যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের বাঁচানোর জন্য তিনি (খালেদা জিয়া) চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এদিকে ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধীরা যে অপরাধ করেছিল, একই অপরাধ ২০১৫ সালে বিএনপি করেছে।তার আগে তারা নির্বাচনে যায়নি। পরে ভুল ঠিক বুঝেছে। পৌর নির্বাচনে তাদের সুমতি হয়েছে।বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখল বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের  সৌভাগ্য  যে হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন, জিয়ার ক্ষমতা দখল অবৈধ ছিল।
শেখ হাসিনা বলেন, আমার একটাই চাওয়া বাংলাদেশ উন্নত হবে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। উন্নয়নের  রোল মডেল এই দেশ, এটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি  পেয়েছেন। ২০১৮ সালে পদ্মাসেতুর কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।তিনি বলেন, ২০১৮ সালে পদ্মাসেতুর কাজ শেষ হলে এরপর দক্ষিণ অঞ্চলের উন্নয়ন আর থেমে থাকবে না।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সোনার মাটি আমাদের। উন্নয়ন হবেই। আমি কাজ করে যাচ্ছি-  যেন মরলেও অন্তত বাবাকে বলতে পারবো- কিছু করে এসেছি।সদ্য স্বাধীন  দেশ গড়ায় বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা তুলে ধরে  শেখ হাসিনা আরও বলেন, একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নির্মাণের সব কিছুই বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে করে যান। শুধু দেশ স্বাধীন নয়, তার মতো নেতা ছিলেন বলেই যুদ্ধ বিধ্বস্ত সদ্য স্বাধীন দেশ গড়তে পেরেছিলেন। বিভিন্ন কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে তাকে হত্যা করা হলো।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার জীবনের একমাত্র কামনা বাংলার মানুষ খাদ্য পাবে, উন্নত জীবন পাবে।  সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বাবা-মা-ভাই সব হারিয়েছি, এই বাংলার মানুষের জন্য কিছু করতে চাই- এর চেয়ে কিছু চাওয়ার নেই। প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা বলেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক একটা দোষ দিলো- দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বন্ধ করে দিলো পদ্মাসেতুতে অর্থায়ন। পরে তা প্রমাণ হয়নি। আমরা নিজস্ব উদ্যোগেই সেতু নির্মাণ করেছি। আমি জাতির পিতার সন্তান। দেশ চালাচ্ছি মানুষের সেবার জন্য।শেখ হাসিনা বলেন, আমরা গর্বিত জাতি, আমরা উন্নত জাতি। আমরা বিভিন্ন ভাতা দিয়ে যাচ্ছি সাধারণ মানুষকে। এ জন্য এটা করছি যেন বাংলাদেশ দারিদ্র্যের হাত থেকে মুক্তি পায়। ৪৪৫ ডালার  থেকে ১ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে মাথাপিছু আয়।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা বিষয়ে তিনি বলেন, স্কুলে স্কুলে- কমিটি, শিক্ষক, অভিভাবক সবাই মিলে আলাদা অ্যাকাউন্ট যদি করা হয়  সেটিতে স্কুলের উন্নয়ন হবে। টিফিনের ব্যবস্থা করা হবে। নিজ উদ্যোগেই স্কুলগুলো তৈরি হয়েছে, সে হিসেবেই চলবে। কারো কাছে হাত পাততে চাই না, হাত পাততে গেলেই খবরদারি করে।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, পড়াশোনা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষায় ভালো  রেজাল্ট করেছে আমাদের শিক্ষার্থীরা। আগে তো বিএনপি আমলে ৪০-৫০ শতাংশ পাসই করতো না। আমাদের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে, এখন শিক্ষার  ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরাও উন্নত হয়েছে। এছাড়া আমরা বিনা পয়সায় সাড়ে ৭ কোটি শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দিয়েছি।
আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখন দেশের উন্নয়ন হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কারো বেতন কখনও ১২৩ ভাগ বৃদ্ধি করতে পারেনি কেউ, কোনো সরকার। শুধু আওয়ামী লীগ সরকার  পেরেছে। আমরা বলেছিলাম- ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়বো তাই করেছি। করছি। বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছি। কোনো সরকার  তো এভাবে দেয়নি। অন্যদিকে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, উদ্বৃত্ত খাদ্য রফতানি করতে পারছি।তিনি উদাহরণ  টেনে বলেন, এক সময় ছিল যখন মানুষ ২-১ কেজি চাল কিনতে পারতেন না এখন কিন্তু ১০-১২ কেজি কিনতে পারেন। কৃষি পণ্য হিসেবে আমাদের উন্নতি হয়েছে। আমাদের অর্থনীতি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। আমরা এসব উৎপাদন বাড়াবো। আরও বাড়াবো।  দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলবো এটাই লক্ষ্য। শুধু তাই নয় ধান ও মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে চতুর্থ স্থানে এখন বাংলাদেশ।এসময় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট  বোন  শেখ রেহানা, সংসদ সদস্য ও দলের সিনিয়র নেতা লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক  শেখ  মো. আব্দুল্লাহ প্রমুখ। তারও আগে, প্রধানমন্ত্রী সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে টুঙ্গীপাড়ায় পৌঁছান।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

আয়নাবাজি মুক্তি পাচ্ছে কানাডা-অস্ট্রেলিয়ায়

বিনোদন ডেস্ক ; অমিতাভ রেজা চৌধুরীর আলোচিত চলচ্চিত্র ‘আয়নাবাজি’ বাংলাদেশে মুক্তি পায় গেল ৩০ সেপ্টেম্বর। …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open