বুধবার, ডিসেম্বর ৮, ২০২১ : ১১:০৮ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

পুনর্মিলনীকে ঘিরে প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠলেন এমসি কলেজের নব্বই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা

imagesস্টাফ রিপোর্টার :: দীর্ঘদিন পর তারুণ্যের সময়ের সহপাঠী-বন্ধুদের কাছে পেয়ে প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন এমসি কলেজের এইচএসসির নব্বই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। পুরনো সহপাঠীকে আর শিক্ষকদের কাছে পেয়ে তারা মেতে উঠেন জম্পেশ আড্ডায়। দিনভর চলে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ ও আর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর হাসান ওয়ায়েজের উপস্থিতি পুনর্মিলনীতে যোগ করে নতুন মাত্রা।
সকলের বক্তাই এক বাক্যে স্বীকার করেন, এমসি কলেজ আর প্রফেসর হাসান ওয়ায়েজ এক সূত্রে গাঁথা। কলেজের এক ক্রান্তিকালে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন প্রথিতযশা এই শিক্ষাবিদ। কলেজে সৃশৃংখল পরিবেশ আর নিয়মানুবর্তিতা ফিরিয়ে আনার পিছনে তার অবদান ছিল অনবদ্য। এমসি কলেজের ইতিহাসে তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
গতকাল শুক্রবার দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ৯০ ব্যাচের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। এমসি কলেজের শহীদ মিনার থেকে সকাল ৮টায় র‌্যালির মধ্য দিয়ে শুরু হয় পুনর্মিলনীর অনুষ্ঠান। পরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সৈয়দ হাসানুজ্জামান শ্যামলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রথমপর্ব শুরু হয় নগরীর পাচ তারকা হোটেল রোজভিউ-এ। ১৯৯০ ব্যাচের চমন আফরোজ চৌধুরী ও আহমদ জিননুন দারার পরিচালনায় প্রথম পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমসি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক হাসান ওয়ায়েজ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এমসি কলেজের ১৯৯০ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় আমি আপ্লুত। ৯০ ব্যাচের প্রত্যেক শিক্ষার্থী আজ নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। এটা দেখে আমি গর্ব বোধ করি। তিনি ১৯৯০ সালের কথা স্মরণ করে বলেন, ওই সময় আমার শিক্ষার্থীরা যেরকম সুশৃঙ্খল আর নিয়মানুবর্তী ছিল, আজও তাদেরকে একইরকম দেখতে পাচ্ছি। আমার শিক্ষার্থীরা, আমার সন্তানরা মানুষের মতো মানুষ হয়েছে, এটা অনেক বড় গর্বের বিষয়।
তিনি বলেন, এমসি কলেজ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম প্রাচীন বিদ্যাপীঠ। এ বিদ্যাপীঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি। আমি একজন সাবেক অধ্যক্ষ হিসেবে এমসি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।
পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, অধ্যাপক ব্রজেন্দ কুমার দাস, অধ্যাপক পরিমল দেব, অধ্যাপক শ্রীনিবাস দে, অধ্যাপক নিরঞ্জন চন্দ্র পাল, অধ্যাপক তপন কান্তি ধর, অধ্যাপরক নজরুল হক চৌধুরী, অধ্যাপক সুফিয়া খানম, অধ্যাপক সুধাংশ শেখর তালুকদার, অধ্যাপক আহমদ হোসেন, অধ্যাপক নিতাই চন্দ্র চন্দ, অধ্যাপক হায়াতুল ইসলাম আকঞ্জি। প্রথম পর্বে তাদেরকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে কোরআন তেলওয়াত করেন সাব্বির আহমদ, গীতা পাঠ করেন দুলন কুমার তরফদার।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, এমসি কলেজের এইচএসসি ব্যাচ ১৯৯০ এর মুখপাত্র আমিরুল হোসেন খান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, সিলেট জেলা জজ কোর্টের এডিশনাল পিপি এডভোকেট শামসুল ইসলাম, প্রবাসী ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান হাবিব, শেখ লুৎফুর রহমান লিটন, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের সহযোগি অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান আলম, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাসুদ পারভেজ মঈন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারি অধ্যাপক ডা. মো. নূরুল হুদা নাঈম, সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. লুৎফুর রহমান, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডা. মো. মঈন উদ্দীন, শাহরিয়ার চৌধুরী, মোস্তফা কামাল খান, ডা. জুবায়ের আহমদ সুফী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে ১৯৯০ ব্যাচের প্রয়াত শামসুল হক সর্দার, হাফিজুর রহমান ও সুহেল আহমদসহ এমসি কলেজের প্রয়াত সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং মুক্তিযুদ্ধে এমসি কলেজের শহীদ ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানের এ পর্বে ১৯৯০ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের লেখা নিয়ে ‘জারুলতলা’ নামক সংকলনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতি দিয়ে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল স্মৃতিচারণ, ভবিষ্যত করণীয় সম্পর্কে আলোচনা, ১৯৯০ ব্যাচের সেরা মুখ নির্বাচন, র‌্যাফেল ড্র। পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ : মন্দিরের জমি দখল নিতে পুরোহিতের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা মামলা

প্রভাবশালী এক আওয়ামী লীগ নেতার যোগসাজশে মন্দিরের জায়গা দখলের জন্য স্থানীয় কিছু লোক এসব ঘটনা …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open