বুধবার, ডিসেম্বর ৮, ২০২১ : ২:৫৫ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

জকিগঞ্জের রহিমপুরে পাম্প হাউজ নির্মাণ কাজে অনিয়ম, দেখার কেউ নেই!

Untitled-1 copyজকিগঞ্জ প্রতিনিধি :: মসজিদ, কবরস্থান, বসতবাড়ি ও রাস্তা ক্ষতি করে এলাকাবাসীর মতামতকে পাত্তা না দিয়ে সিলেটের জকিগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন সিলেটের বৃহৎ একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। উপজেলার শরীফগঞ্জ বাজারের পাশে রহিমপুরে পাম্প হাউজের কাজ শুরু হয় ২০১০ সালের ১৯ জুন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে হাসান এন্ড ব্রাদার্স নামে ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান।।তিনটি ভাগে বিভক্ত রহিমপুর পাম্প হাউজ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আতœসাতের অভিযোগ পাওয়া গেলেও এসব অভিযোগ তদারকি করছে না কেউ। ফলে সরকারের এ বৃহৎ প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত এলাকাবাসীর কতটুকু কাজে আসবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, রহিমপুর পাম্প হাউজ, ইনটেক চ্যানেল ও ইনটেক চ্যানেল আরএল(রিডিউস লেভেল) ১৩-১৮ পর্যন্ত প্রতিরক্ষা বাঁধ(ব্লক বসানোর কাজ) এই তিন ভাগে প্রকল্পের কাজ হচ্ছে। পাম্প হাউজের জন্য মূল বরাদ্ধ ছিল ৩৫ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে এটিকে রিভাইস(সংশোধীত প্রাক্কলন) করে ৫৮ কোটি টাকা করা হয়। ইনটেক চ্যানেলের মূল প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ১২ কোটি টাকা। পরে এটিকে বাড়িয়ে করা হয় ১৮ কোটি টাকা। প্রতিরক্ষা বাঁেধর জন্য বরাদ্ধ ৫ কোটি টাকা। এটিকে রিভাইস করার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। এত বিশাল একটি কাজ হচ্ছে অথচ তদারকী হচ্ছে না ঠিক মতো। পানি উন্নয়ন বোর্ড ছাড়া কোনো কনসালটেন্ট বা পরামর্শক নেই এই প্রকল্পে। স্থানীয় প্রশাসন বা প্রকৌশল বিভাগের কোনো ধরণের সম্পৃক্ততা নেই এখানে। পানি পাউবোর অসাধু কর্তা ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে ফ্রি স্টাইলে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান কাজ করছে বলে এলাকার ফয়সল আহমদ, কামাল আহমদ, মাহতাব আহমদ কুটনসহ অনেকেই অভিযোগ করেন। তারা বলেন, ঠিকাদার ও পাউবোর কর্মকর্তাদের অবহেলা, আতœসাতের মানসিকতা, স্বেচ্চাচারিতা ও তদারকির অভাবেই যেনতেনভাবে কাজ চলছে। এলাকাবাসী তাদের অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদে ইতিপূর্বে মানববন্ধন করেছে। গত মঙ্গলবার সকালে ইনটেক চ্যানেলের ঢালাইর কাজও তারা বন্ধ করে দেন। পরে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরেজমিন হাজির হয়ে সাত দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদ নতুনভাবে নির্মাণ করে দেয়ার ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেন। ইউএনওর অনুরোধে এলাকাবাসী নমনীয় হলে কাজ শুরু হয়।
এ প্রকল্পে ‘ডি ওয়াটারিং’ বা মাটির নীচ থেকে পানি তোলা এবং স্লাশিআর্থ (কাদা সরানো), বেলিং আউট অব ওয়াটার(পানি সেচ)এর নামে ভুয়া বিল ভাউচার করে এ প্রকল্পের কয়েক কোটি আতœসাৎ ও অপচয় করা হয়েছে। নি¤œ মানের বালু ও পাথর দিয়ে নির্মাণ কাজ চালানোর অভিযোগ প্রকল্পটির শুরু থেকেই রয়েছে। ইনটেক চ্যানেল ঢালাইর দিন সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় ঢালাইর কাজে ব্যবহৃত বালির মধ্যে পলি ও মাটি মিশ্রিত হয়েছে এবং পাথরে প্রচুর মাটি রয়েছে। পাথর আলাদা না ধুয়ে স্তুপ দেয়া পাথরে পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে মাটিযুক্ত পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। বালু ও পাথরের পরিমানেও সিডিউল মানা হয়নি। সিমেন্টের তুলনায় বালু ও পাথর দেয়া হয়েছে বেশি। যার স্থির ও ভিডিও চিত্র আমাদের কাছে রয়েছে। এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসডি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সব কিছুই সিডিউল মতো হচ্ছে বলে দাবী করেন। তার কাছে দরপত্রের কাগজ চাইলে পরে দেয়া হবে বলে জানান তিনি। চার হাজার সিএফসির বিশাল এ কাজটি ফেলে এসডি তৌহিদ ঢালাইর দিন বিকেল তিনটার সময়ই কাজের স্থল ত্যাগ করেন ঐ দিন রাত ৮ টা পর্যন্ত কাজ চলেছে রহস্যজনক কারণে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামানের সাথে প্রকল্পে অনিয়মের ব্যাপারে কথা বলতে গেলে তিনি কোনো সদোত্তর না দিয়ে সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
এলাকাবাসীর সন্দেহ পাউবো আর ঠিকাদরী প্রতিষ্ঠানের যোগ সাজেসেই রহিমপুর পাম্প হাউজ নির্মাণে অনিয়ম হচ্ছে। ফলে স্ট্রকচারের স্থায়ীত্ব দুর্বল হবে এবং কিছু দিনের মধ্যেই প্রকল্পটির আসল উদ্দেশ্য ভেস্তে যেতে পারে। ভ’মিকম্পের মতো দুর্যোগ কিংবা বন্যা এলই বুঝা যাবে এ কাজের দুর্বলতা তখন করার কিছই থাকবে না। হাসান এন্ড ব্রাদার্সের সত্ত্বাধিকারী মাহমুদুল হাসান মোবাইল ফোনে জানান, এ পাম্প হাউজের কাজ শুরু হয় ২০১০ সালের ১৯ জুন।  চলতি অর্থ বছরেই কাজ শেষ হবার কথা। ইতিমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। সব কিছুই নিয়ম মতো হচ্ছে। কোনো পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা অবশ্যই বিবেচনা করা হবে।
আগাম বন্যা থেকে আউশ ফসল বাচাঁনো, নিশ্চিন্তে বোরো উৎপাদনসহ  জলবায়ুর প্রভাব থেকে ফসল সুরক্ষার লক্ষ্যে “আপার সুরমা কুশিয়ারা” মহাপ্রকল্পের অধীনে প্রায় ৭০কোটি টাকা ব্যয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো) সিলেটের জকিগঞ্জে বৃহত্তর সিলেটের বৃহৎ এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ১০ হাজার ৬শ হেক্টর জমি আসবে সেচের আওতায়। ইতিমধ্যে ৪টি পাম্প বসানো হয়েছে, চীন থেকে আনা হয়েছে সব যন্ত্রপাতি । পাম্প হাউসটি তৈরী হয়েছে ৪০ ফুট মাটির নীচে। ৪টি পাম্পের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ২৫০ কিউসেক পানি উত্তোলন করবে রহিমপুরী খালে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে খালের পানি দিয়ে জকিগঞ্জে প্রায় ১০০০০ হেক্টর জমি চাষ করা সম্ভব। পর্যায়ক্রমে তা বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জসহ সিলেটের বেশ কয়েকটি উপজেলা লাভবান হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফখরুল আলম বলেন, বর্তমানে জকিগঞ্জে চাষাবাদ প্রকৃতি নির্ভর। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে অনেক পতিত জমি কৃষির আওতায় আসবে। ফলে বছরে অতিরিক্ত আরো ২০ হাজার মে.টন ধান উৎপাদিত হবে।
উল্লেখ্য, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে স্থানীয় একটি সরবরাহকারী পক্ষের দ্বন্দ্ব ও জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এ প্রকল্পের শুরুতেই মামলা-পাল্টা মামলার ঘটনা ঘটেছিল।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

ব্রিটিশ ভিসা সেন্টার নিয়ে সিলেটে যা বললেন রুশনারা আলী

সংক্ষিপ্ত সফরে সিলেটে অবস্থান করছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ বিষয়ক বাণিজ্যদূত ও ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি রুশনারা …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open