মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১, ২০২০ : ৮:২৮ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

তুরাগ তীরে তাবলিগ জামাতের ৫১তম বিশ্ব ইজতেমা শুরু

Istema320160107124921ডেস্ক রিপোর্ট :: বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিচ্ছেন লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। শুক্রবার ভোর থেকে আম বয়ানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে টঙ্গীর তুরাগ তীরে শুরু হচ্ছে তাবলিগ জামাতের ৫১তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। দেশ বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লির স্রোত এখন টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানমুখী। ইজতেমায় অংশ নিতে নৌকা, বাস, ট্রাক, স্কুটার, লেগুনাসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে যে যেভাবে পারছেন সেভাবেই জড়ো হচ্ছেন টঙ্গীর তুরাগ তীরে।

বুধবার রাত থেকেই দেশ-বিদেশের মুসল্লিরা জামাতবদ্ধ হয়ে দলে দলে ইজতেমা মাঠের নির্ধারিত স্থানে (খিত্তায়) প্রয়োজনীয় মালামাল ও ব্যাগ নিয়ে অবস্থান করছেন। ৩ দিনব্যাপি বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব রোববার (১০ জানুয়ারি) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। আজ শুক্রবার দেশের সর্ব বৃহৎ জুম্মার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে ইজতেমা ময়দানে। এতে প্রায় ১০ লাখ মুসল্লি এক জামাতে শরিক হয়ে জুম্মার নামাজ আদায় করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজধানী ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন উপজেলা এবং আশপাশের জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি এ বৃহৎ জুম্মার নামাজে শরিক হবেন। ইতোমধ্যে অনেকে টঙ্গী ও আশপাশের এলাকায় আত্মীয় স্বজনের বাসায় অবস্থান নিচ্ছেন।

ইজতেমা মাঠের মুরব্বিরা জানান, তাবলীগ জামাতের উদ্যোগে প্রতি বছর বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। মাঠের সব কাজ করা হচ্ছে পরামর্শের মাধ্যমে। এখানে বিদ্যুৎ, পানি, প্যান্ডেল তৈরি, গ্যাস সরবরাহ প্রতিটি কাজই আলাদা আলাদা গ্রুপের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। বিশ্বের প্রায় সব মুসলিম দেশ থেকেই তাবলীগ জামাতের অনুসারী মুসলমানরা অংশ নেন। তারা এখানে তাবলীগ জামাতের শীর্ষ আলেমদের বয়ান শোনেন এবং ইসলামের দাওয়াতী কাজ বিশ্বব্যাপি পৌঁছে দেয়ার জন্য জামাতবদ্ধ হয়ে বেরিয়ে যান।
ইজতেমার প্রথম পর্বে ২৭ খিত্তায় ১৭ জেলার মুসল্লি :
এবারের প্রথম দফায় ইজতেমায় ১৭ জেলার মুসল্লির জন্য ময়দানকে ২৭ খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান মুসল্লিদের কথা বিবেচেনা করে গেল চার বছর ধরে দু’দফায় বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের দ্বিতীয় দফা শুরু হবে ১৫ জানুয়ারি এবং ১৭ জানুয়ারি আখেরি মেনাজাতের মধ্যমে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমা।

বিশ্ব ইজতেমার মুরুব্বী গিয়াস উদ্দিন জানান, বুধবার থেকে দেশি-বিদেশি মুসল্লিরা ময়দানে এসে ইজতেমায় যোগ দেয়া শুরু করেন। বিদেশীরা ইজতেমা ময়দানের উত্তর-পশ্চিম পাশে তাদের জন্য উন্নত তাবুতে এসে অবস্থান নিচ্ছেন। বুধবার সকাল দুপুর পর্যন্ত শতাধিক বিদেশি মেহমান এসে সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের পাশাপাশি একই সময়ে দেশের ১৭টি জেলা থেকে কয়েক হাজার মুসল্লি এসে ময়দানে নির্ধারিত খিত্তায় এসে হাজির হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, আল্লাহর অশেষ রহমতে সভাপতিহীন বিশ্ব ইজতেমার এতো বড় আয়োজন প্রতি বছরই অত্যন্ত সু-শৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা হয়। এজন্য আমাদের কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়। পুরো ইজতেমা ময়দানকে মুরুব্বীদের পরামর্শে সাজানো হয়। ময়দানে জেলাওয়ারি মুসল্লিদের অবস্থান, রান্না-বান্না করার স্থান, টয়লেট, অজুখানা, গোসলখানা সবই সুনিদিষ্ট করা থাকে।

তাদের মধ্যে প্রথম ধাপে অংশ নেবে ঢাকা জেলা ১ থেকে ৬ নং খিত্তায়, শেরপুর ৭ নং খিত্তা, নারায়ণগঞ্জ ৮ ও ১১ নং খিত্তা, নীলফামারী ৯ নং খিত্তা, সিরাজগঞ্জ ১০ নং খিত্তা, নাটোর ১২ নং খিত্তা, গাইবান্ধা ১৩ নং খিত্তা, লক্ষ্মীপুর ১৪ ও ১৫ নং খিত্তা, সিলেট ১৬ ও ১৭ নং খিত্তা, চট্টগ্রাম ১৮ ও ১৯ নং খিত্তা, নড়াইল ২০ নং খিত্তা, মাদারীপুর ২১ নং খিত্তা, ভোলা ২২ ও ২৩ নং
খিত্তা, মাগুরা ২৪ নং খিত্তা, পটুয়াখালী ২৫ নং খিত্তা, ঝালকাঠি ২৬ নং খিত্তা এবং পঞ্চগড়

২৭ নং খিত্তায় মুসল্লিরা অবস্থান নেবেন।

নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১২ সহস্রাধিক সদস্য :

ইজতেমার নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকছে প্রায় ১২ হাজার পুলিশ ও র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। পাঁচটি স্তরের এ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে ইজতেমা ঢেকে রাখা হবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন ঘটতে না পারে সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। পুলিশ ও র্যাবের কন্ট্রোল রুম থেকে নিরাপত্তার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাও ব্যবহার করা হচ্ছে। নিরাপদ যাতায়াত ও সুষ্ঠুভাবে যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে প্রতিদিন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকছে ঢাকা মহানগর পুলিশ, ঢাকা ও গাজীপুর জেলা পুলিশ।

এছাড়া মাঠের উত্তর-পশ্চিম পাশে নির্মিত বিদেশি নিবাসে বিদেশি মুসল্লিরা থাকবেন। ইজতেমা ময়দানের পশ্চিম পাশে মুসল্লিদের পারাপারের জন্য তুরাগ নদীর উপর ৮টি স্থানে ৮টি ভাসমান সেতু স্থাপন করেছে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড।

স্বাস্থ্য বিভাগের নানা উদ্যোগ, ছুটি বাতিল :

বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা দিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ৭ জানুয়ারি থেকে ইজতেমা চলাকালীন পর্যন্ত জেলার কর্মরত স্বাস্থ্য বিভাগের সকল চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের আরএমও ডা. মো. পারভেজ হোসেন বলেন, বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট টঙ্গী সরকারি হাসপাতালকে একশ’ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে হৃদরোগ বিভাগ, অর্থপ্যাডিক ও ট্রমা সেন্টার এবং অ্যাজমা ও বক্ষব্যাধি ইউনিট খোলা হয়েছে। হাসপাতালে ১৪টি অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যাডবাই থাকবে। ইজতেমা মাঠ সংলগ্ন মন্নু গেইট, বাটা গেইট, এটলাস হোন্ডা গেইট এবং বিদেশি নিবাস এলাকায় চারটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করে মুসল্লিদের চিকিৎসা দেয়া হবে।

ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ১৫টি স্যানিটেশন টিম এবার ইজতেমা মাঠের আশপাশ এলাকার হোটেল ও রেস্টুরেন্ট যাতে মান সম্মত খাবার পরিবেশন করে সে লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন। এছাড়া ইজতেমা শুরুর আগের দিন ৭ জানুয়ারি থেকে ইজতেমা চলাকালীন পর্যন্ত জেলার কর্মরত স্বাস্থ্য বিভাগের সকল চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

সেই রাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ

আত্মহত্যা’ করা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির সাবেক …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open