শনিবার, নভেম্বর ২৮, ২০২০ : ৭:১৭ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

যে সুন্দরীর ফাঁদে ফেঁসে গেল ভারতীয় বিমান বাহিনী!

47300আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিজেদের কর্মকৌশল পাল্টাচ্ছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। ভারতীয় বিমান বাহিনীর তথ্য পেতে তারা সুন্দরীদের ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহার করছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, এর আগেও এই পদ্ধতিকে কাজে লাগানো হয়েছে। সোমবার বিমান বাহিনীর এক কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের পর জানা গেছে, ফেইসবুক-হোয়াটসঅ্যাপে যৌন-প্রেমের ফাঁদ পেতে আইএসআই গোপন তথ্য সংগ্রহ করতে চাইছে।কলকাতার বহুল প্রচারিত আনন্দবাজার পত্রিকা বুধবার এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ভারতীয় বিমান বাহিনীর কর্মকর্তার নাম রঞ্জিত কে কে (৩০)। তিনি প্রধান এয়ারক্র্যাফ্ট ইঞ্জিনিয়ার (লিড এয়ারক্র্যাফ্ট ম্যান) পদে কাজ করেন। তিনিই এয়ারক্র্যাফ্ট রক্ষণাবেক্ষণ করেন। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আইএসআইয়ের কাছে পাচারের অভিযোগে সোমবার তাকে দিল্লিতে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল, তিনি টাকার লোভেই তথ্য বিক্রি করেছেন। কিন্তু, তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা তার ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট, মোবাইলের বেশ কিছু ভিডিও এবং অডিও ফাইল পরীক্ষা করে জানিয়েছেন ঘটনাটি ঠিক তেমন নয়।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ওই কর্মকর্তা আসলে আইএসআইয়ের পাতা প্রেমের ফাঁদে পা দিয়েছেন। যা হার মানায় রোমাঞ্চকর উপন্যাসকেও। তিন বছর আগে ফেইসবুকে এক তরুণীর কাছ থেকে বন্ধুত্বের অনুরোধ পেয়েছিলেন রঞ্জিত। ম্যাকনট দামিনি নামের ওই সুন্দরীর অনুরোধে তিনি সাড়া দেন। এর পর তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের গভীরতা বাড়তে থাকে।

গ্রেফতারের পর গোয়েন্দাদের কাছে রঞ্জিত বলেছেন, প্রতি রাতেই ম্যাকনটের সঙ্গে কথা বলতেন। আস্তে আস্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে যৌনতা চলে আসে। রাতের পর রাত জেগে ম্যাকের সঙ্গে গল্পে মশগুল থেকে তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করতেন। ব্রিটিশ ওই তরুণীর সঙ্গে রসালো গল্প তাকে রূপকথার রাজ্যে নিয়ে যেত। দিনেও সারাক্ষণ অনলাইন থাকতেন রঞ্জিত। কখন ম্যাক আসবে! আর সে এলেই স্বপ্নের দুনিয়ায় বিচরণ, এভাবেই চলছিল।

এরপর তাদের সম্পর্ক ফেইসবুক চ্যাট থেকে হোয়াটসঅ্যাপে নতুন আঙ্গিকে আলাপচারিতায় রূপ নেয়। টেক্সট থেকে এবার তারা অডিও-ভিডিও চ্যাট করা শুরু করেন। ম্যাকের ব্রিটিশ উচ্চারণ রঞ্জিতকে মুগ্ধ করে। একান্ত গোপন ছবি ও সেল্ফি বিনিময় শুরু হয়। সম্পর্ক রোমাঞ্চে গড়ালে একদিন ম্যাক আসল প্রস্তাব দেন।

ম্যাক ব্রিটিশ একটি ম্যাগাজিনে কাজ করেন বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। নিজের পত্রিকায় লেখার কথা বলে বন্ধু রঞ্জিতের কাছে ভারতীয় বিমান বাহিনী সম্পর্কে তথ্য জানতে চান। কিন্তু এভাবে পত্রিকায় ‘লেখার’ প্রসঙ্গ আসায় তিনি কিছুটা হতবাক হন। ম্যাক বলেন, তথ্যের বিনিময়ে রঞ্জিত কিছু টাকাও পেতে পারেন। পরিস্থিতি বুঝে কম গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য তিনি ম্যাককে জানান।

তথ্য পেয়ে ম্যাক খুশী হননি। তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে গ্বালিয়রের ‘ট্যাকটিক্যাল অ্যান্ড কমব্যাট ডেপ্লয়মেন্ট এস্টাবলিশমেন্ট’ (টিএসিডিএ) সম্পর্কে জানতে চান। রঞ্জিত সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। কারণ, তিনি জানতেন ভারতীয় বিমান বাহিনীর কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ওই ইউনিটটি।

ম্যাককে না বলায় সরাসরি হুমকি দেয়া হয়। তথ্য না দিলে আগে পাঠানো ভিডিও, অডিও, টেক্সট সবকিছু ফাঁস করে দেয়া হবে। রঞ্জিত কী করবেন ভেবে পান না।। ততক্ষণে বুঝতে পেরেছেন যে তিনি আইএসআইয়ের পাতা ‘হানিট্র্যাপ’-এর শিকার। ম্যাকনটি দামিনি নামে হয়তো বাস্তবে কেউ নেই। ভুয়ো নামে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করে যৌন-প্রেমের ছলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদায় করতে চেয়েছিল সে। আর পেছনে ছিল আইএসআই। রঞ্জিতের দাবি, তথ্য ফাঁস না করে তার আর কোনও উপায় ছিল না।
কাজের সুবাদে রঞ্জিতকে ঘন ঘন চেন্নাই যাতায়াত করতে হয়। কখনও দিল্লিতে। শেষে দিল্লিতে এক আইএসআই এজেন্টের সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। যখন যেখানেই গেছেন, আইএসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল অবিচ্ছিন্ন। কখনও ফেইসবুকে, কখনও হোয়াটসঅ্যাপে, কখনও বা স্কাইপিতে।
গোয়েন্দাদের দাবি, বেলগাঁও থেকে তিনবার, চেন্নাই ও দিল্লি থেকে ছয়বার রঞ্জিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস করেছেন। এয়ারক্র্যাফ্ট উড্ডয়নের পাশাপাশি বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ডেপ্লয়মেন্টের গোপন সংবাদও তিনি পাচার করেছেন। এমনকী, আইএসআইয়ের কাছে মিরাজ এবং ফাইটার জেটের সব খবরও ফাঁস করেছেন। ওই তথ্য বাহিনীর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সেনা গোয়েন্দা এবং দিল্লি পুলিশ যৌথভাবে রঞ্জিতকে গ্রেফতার করে। এর পরেই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। দিল্লি শহরেই ম্যাকের সঙ্গে রঞ্জিতের বর্ষবরণের রাত কাটানোর পরিকল্পনা ছিল।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

চীনে টর্নেডো-শিলাবৃষ্টিতে ৯৮ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীনের পূর্বাঞ্চলীয় জিয়াংসু প্রদেশে টর্নেডো ও শিলাবৃষ্টির আঘাতে কমপক্ষে ৯৮ জনের মৃত্যু …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open