শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২০ : ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

ওসমানীনগরে বসতবাড়িকে মন্দির বানাতে চায় ওরা

33_bigওসমানীনগর সংবাদদাতা :: সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার ওসমানীনগরে মালিকানাধীন ভূমিকে দেবোত্তর সম্পত্তি বানিয়ে জবর দখলের চেষ্টা করছে একটি চক্র। তারা ওই সম্পত্তিকে পঞ্চায়েতী ‘শিব ও দূুর্গা মন্দির’ দেখিয়ে সরকারি টাকাও আতœসাত করে আসছে। ওরা মন্দির বানিয়ে বসতবাড়ির জায়গা আত্মসাত করতে চায়। এজন্য তারা একের পর এক মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে প্রতিবন্ধকতা এবং বিভিন্ন মামলা রায় ও ডিক্রি থাকার পরও ওই চক্রটি বর্তমানে নামজারী প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। গতকাল সোমবার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন, ওসমানীনগরের ইলাশপুর গ্রামের মৃত উপেন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে বিমল চন্দ্র দাস। সংবাদ সম্মেলনে তিনি সম্পত্তির স্বপক্ষে বিভিন্ন কাগজপত্র ও আদালতের রায়ের তথ্য প্রমান উপস্থাপন করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ওসমানীনগরের ইলাশপুর মৌজার ৫২৩ ও ৫২৪ দাগের ০১.৬৪ একর ভুমিতে তারা নবাবী ও জমিদারী আমল থেকেই বসতবাড়ি হিসেবে বংশপরস্পরায় বসবাস করে আসছেন। ভুমির মূল মালিক ছিলেন জমিদার রমেশ চন্দ্র গুপ্ত গং। জমিদারে একমাত্র প্রজা হিসেবে জোৎদখলকার ছিলেন কৈলাশ চন্দ্র দাস। পাকিস্তান সেটেলমেন্ট জরিপি রেকর্ডে ভুমির জমিদারী মালিকানা রমেশ চন্দ্র গুপ্তের নামে ও ভুমির শ্রেণী লেখা হয় ‘ছাড়াবাড়ি ও পুকুর’। এখানে কোন ‘শিব ও দূর্গা মন্দির বা দেবোত্তর বলে লেখা হয়নি। জরিপী কোন কাগজে ‘মন্দির সেবাইত কিংবা দেবোত্তর’ বলে কিছুই উল্লে¬খ নেই। পরবর্তী সময়ে উত্তরসূরীরা ভগবানের পূজা অর্চ্চনার সুবিধার্থে বাড়িতে ব্যক্তি মালিকানায় ঠাকুর ঘর নির্মান করেন, যা মন্দির হিসেবে পরিচিত।
বক্তব্যে বলা হয়, এটা কোন দেবোত্তর সম্পত্তি নয়, সেখানে কোন পঞ্চায়েতী ‘শিব ও দূুর্গা মন্দির’ নেই। একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভূয়া মন্দির কমিটি করে ‘ভগবানে’র নামে সরকারী অনুদান আত্মসাত করছে। পাশাপাশি আমাদের বসতভিটে জবরদখলেরও পায়তারা করছে। গনমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিমল চন্দ্র দাস বলেন, ভুমির জমিদার রমেশ চন্দ্র গুপ্ত গং ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় স্থায়ীভাবে ভারতে চলে গেলেও ভুমির জোৎদখলকার আমাদের পূর্বসুরীরা ভারতে না গিয়ে বসবাস শুরু করেন। ১৯৬৭ সালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রেকর্ড সংশোধনী (১৪৫/৬৭) মামলায় বাড়িসহ রমেশচন্দ্র গুপ্ত গং জমিদারের পরিত্যাজ্য ৬.৯৪ একর ভুমির মালিকানা কবিন্দ্র কুমার দাসের নামে রেকর্ডের আদেশ দেয়া হয়। পরে আরডিসি সিলেট সদর-এর ৪৮/৭৬-৭৭ মিস কেসে ওই ভুমি আমাদের পিতামহ কবিন্দ্র কুমার দাসের নামে নামজারীর আদেশ দেয়া হয়। সরকারের রাজস্ব বিভাগে রমেশ চন্দ্র গুপ্ত গং জমিদারের পরিবর্তে আমাদের পিতামহ কবিন্দ্র কুমার দাস-এর নামে ভুমির নামজারী করে নেয়া হয়। কিন্তু ছাপা রেকর্ডে জমিদার রমেশ ছন্দ্র গুপ্ত গং-এর নাম থেকে যাওয়ার সুযোগ গ্রহন করে স্বার্থান্বেষী মহল। তারা স্থানীয় ভূ-প্রশাসনের অসাধু কর্তাব্যক্তিদের ম্যানেজ করে ১৯৮১সালে আমদের বাড়িসহ ওই ভুমি অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত করে নেয়। এর বিরুদ্ধে সিলেট জেলা জজ আদালতে ২০২/৮১ ও পরিবর্তিত ১৮৯/৮৬ নং স্বত্ত্ব-মোকদ্দমা দায়ের করা হয়। মোকদ্দমায় ও পরবর্তী আপীলের রায়ে ওই ভুমিতে আমাদের স্বত্ত্ব-দখল ও মালিকানা প্রতিষ্টিত হয়। অনুরূপ রমেশ চন্দ্র গুপ্ত গং নামে ছাপা খতিয়ানের সুযোগে সাম্প্রতিককালে সরকার ওই ভুমি আবারো অর্পিত সম্পত্তির ‘ক’ তালিকায় নিয়ে যায়। পরে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন ট্রাইাব্যুনালে ৪০১/২০১২ নং মামলা দায়ের করলে তালিকা থেকে অবমুক্ত করে আমাদের মালিকানায় ফিরিয়ে দেয়া হয়। ফলে ওই ভুমিতে আমাদের দখল ও মালিকানায় আর কোন প্রকার জটিলতা থাকেনি।
বর্তমানে নামজারীর জন্য আবেদন করলে ওই স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় একই গ্রামের ডি. কে জয়ন্ত ও পরিমল কান্তি দেবসহ কয়েকজন নামজারী আটকানোর অহেতুক চেষ্টা শুরু করেন। জয়ন্তরা সম্পূর্ন মিথ্যা তথ্যে ওই ভুমি ‘দেবোত্তর সম্পত্তি’ দাবি করে সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদন করে কোন ফল পায় নি। তারা আবারো তথ্যগোপনের মাধ্যমে সিলেটের যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে একটি স্বত্ব¡ মোকদ্দমা (নং-৩৫৮/১৫) দায়ের করে। অথচ স্বত্বমোকদ্দমার ১নং বাদী জয়ন্তের পিতা যতীন্দ্র মোহন দেব ও ২নং বাদী পরিমল কান্তি দেবের পিতা চিত্তরঞ্জন দেব ২০০১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেটের সাবজজ ২য় আদালতের একটি মামলায় ওই ভুমি আমাদের মালিকানা ও স্বত্বদখলীয় বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বসতবাড়িকে মন্দির সৃষ্টিকারী ও ভূয়া মন্দির কমিটির নামে সরকারি টাকা আত্মসাতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহনের দাবি জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নিরেন্দ্র চন্দ্র দাস, কাজল কুমার দাস, পরিমল দাস প্রমুখ।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বিশ্বনাথে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি মেম্বার গ্রেফতার

সিলেটের বিশ্বনাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে উপজেলার দৌলতপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open