শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২০ : ১০:২৭ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

খালেদা-বার্গম্যানকে শাস্তি দিতে আইন করার দাবি

full_2029808013_1451151172ডেস্ক রিপোর্ট: স্বাধীনতা সংগ্রামকে কটাক্ষ করা ঠেকাতে আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন আপিল ‍বিভাগের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক একজন বিচারপতি।শুধু তাই নয় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বক্তব্যের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের জামাতা ডেভিড বার্গম্যানকে শাস্তি দিতে আইন করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।সদ্য সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বা মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক সম্পর্কে কোনো রকম প্রশ্ন তুলবেন, সেগুলো অবশ্যই অপরাধের আওতায় আনতে হবে’।মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞকে অস্বীকার বা এর বিকৃতি রোধে আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে যুদ্ধাপরাধ বিচারকারী অন্যতম এই বিচারক বলেন, ‘সেই আইনটি করতে হবে ভূতাপেক্ষ প্রয়োগ দিয়ে। অর্থাৎ অতীতে যারা এই ধরনের কথা বলেছেন, খালেদা জিয়া বা ডেভিড বার্গম্যানের মতো লোক, তাদেরকেও যেন এই আইনের অধীনে বিচারের আওতায় আনা যায়’।এর পক্ষে তার যুক্তি, ‘আইন হয়ে যাওয়ার পর হয়ত খালেদা জিয়া বা বার্গম্যান সতর্ক হয়ে যাবেন’।সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, একাত্তরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা নয়, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন।খালেদার আগে মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বাংলাদেশে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিক ও আইনজীবী সারা হোসেনের স্বামী ডেভিড বার্গম্যান, যিনি ব্লগ লিখে যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে প্রচার চালান।মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর মুক্তিযুদ্ধকে কটাক্ষ করে বক্তব্য ঠেকাতে আইন প্রণয়নের দাবি ওঠে। এ ধরনের একটি আইনের খসড়া তৈরিতে হাত দেওয়ার কথা জানিয়েছে আইন কমিশন।এরইমধ্যে শনিবার যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে নব্বই দশকে গড়ে উঠা সংগঠন একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির এক সংবাদ সম্মেলনে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিএনপি নেত্রী যে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, তাতে আমি বিস্মিত হইনি। কারণ আগাগোড়াই তিনি স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিলেন, যেমনটি ছিলেন তার স্বামী জিয়াউর রহমান’।কিছুদিন আগে ড. কামাল হোসেনের জামাতা ডেভিড বার্গম্যানের লেখায়ও এই সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘তিনি (বার্গম্যান) কীভাবে এই দেশে থাকেন, সেটা একটা প্রশ্ন’।‘এক কথায় যারা এই সব প্রশ্ন তুলছে, তারা সকলেই পাকিপ্রেমী। এগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুধু নয়, আমাদেরকে অ্যাকশনে যেতে হবে’।একাত্তরে শহীদদের সংখ্যা স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭২ সালে সরকার তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে দিয়েছিল বলে জানান বিচারপতি চৌধুরী।‘আমরা যখন দেখতে পেলাম, একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান এই বিষয়ে কথা বলছে, তখন আমাদের আর অপেক্ষা করার সময় নেই। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের কাছে আমাদের দাবি, অতি শিগগিরই যেন এই আইন প্রণয়ন করা হয়।’ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির একাত্তরে শহীদ ও যুদ্ধাহতদের ক্ষতিপূরণ দিতে আলাদা আইন প্রণয়ন অথবা ১৯৭৩ এর আইন সংশোধন করে একটি ধারা সংযুক্ত করার দাবিও জানান।এই বিষয়ে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে আইন করতে হবে বা ‘৭৩ এর আইনে একটি অধ্যায় সংযোজন করতে হবে’।যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিষয়টি ন্যুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনাল, ‍রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনাল, যুগোস্লাভ ট্রাইব্যুনাল এবং রোম সংবিধির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে রয়েছে বলে জানান তিনি।‘এই সব ট্রাইব্যুনালের আইনে বলা আছে, যারা অপরাধী হিসাবে সাজাপ্রাপ্ত হবে, তাদের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে।’

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বেতন স্কেল ১০ গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবি প্রধান শিক্ষকদের

ডেস্ক রিপোর্ট :: দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড (নন-ক্যাডার) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় প্রধান শিক্ষকদের প্রবেশ পদে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open