বুধবার, নভেম্বর ২৫, ২০২০ : ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

সুনামগঞ্জে কাউন্সিলর প্রার্থী শেলী চৌহানের ভাঙ্গা কুড়ে ঘরের অজানা কাহিনী!

Untitled-1-copy40মাছুম আহমদ সুনামগঞ্জ::“থাকে ভাঙ্গা ঘরে কত কষ্ঠ করে অনাহারে মরে অন্ন জুটেনা/দীনহীন জনে আকুল প্রাণে/তবে কেন দয়াময় তোর দয়া হয়না/দয়াময় নাম তোমার গিয়াছে জানা”। একুশে পদকে ভূষিত বাউল শাহ আব্দুল করিমের গানের কথার এক বাস্তব কাহিনীকে নিয়েই জীবনযুদ্ধে অবতীর্ণ এক শিল্পীর নাম শেলী চৌহান ময়না। সুনামগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে হারমোনিয়াম প্রতীকে ৪.৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী তিনি।এক সময়ের নাট্যকার গীতিকার ওস্তাদ দেওয়ান মহসীন রাজা চৌধুরীর হাত ধরে তিনি ছাত্রজীবন থেকেই নাট্যাভিনয়ে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে জেলা শিল্পকলা একাডেমির আজীবন সদস্য ও কালনী বেতার শ্রোতা ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। জড়িত আছেন সাংস্কৃতিক সংগঠন বাউল কামাল পাশা স্মৃতি সংসদে।তার জন্ম ১৯৭৭ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী। পিতার নাম মৃত গঙ্গা চৌহান মাতা মৃত কৌশী চৌহান। শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএসএস পাশ। সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ থেকে বিএসএস পাশ করার পর টিউশনী করে জীবিকা চালান তিনি। বর্তমানে আইনের ছাত্রী। তার পেশা গৃহ শিক্ষকতা (টিউশনী)। বাসা দিশারী ২৬ কালিবাড়ি আ/এ,সুনামগঞ্জ। মোবাইল নং ০১৯৩৮-৩৯৩২২৪। তিনি সেবামূলক রাজনীতির দীক্ষা নিয়েছেন সাবেক পৌর চেয়ারম্যান মনোয়ার বখত নেক ও দেওয়ান মমিনুল মউজদীনের কাছে। যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন এর সাথে।

গত পৌরসভা নির্বাচনে বর্তমান কাউন্সিলর কলি তালুকদার আরতির সাথে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। বর্তমানে ৩৮ বছরের এই যুবতি অনেক আগেই মা-বাবাকে হারিয়ে এতিম হয়েছেন। মা-বাবার অবর্তমানে উপযুক্ত অভিভাবক না থাকায় আজ পর্যন্ত বিয়ের পিড়িতে বসাও হয়নি তার। বিভিন্ন সময় হামলা মামলাসহ কঠিন মানবেতর মুহুর্তে পাড়া মহল্লাবাসী ছাড়াও বিত্তবান ব্যক্তিগোষ্ঠী,প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে সাহায্যের জন্য হাত পেতেও তিনি উপেক্ষিত হয়েছেন। কঠিন বিপদেও তার নৈতিক চরিত্রের অধ:পতন ঘটাতে পারেনি কোন অপশক্তি। ন্যায় কথা ও স্পষ্টবাদিতাই তার চলার পথের পাথেয়। পৌর নির্বাচনে প্রার্থী হলেও ধনাঢ্য প্রার্থীদের মতো নিজের সমর্থনে শহরে মাইক বাজানো,পোষ্টার,লিফলেট ছড়ানোসহ সাধ্যমতো প্রচারাভিযানের সামর্থ্য তার নেই। পিছুটান না থাকার পরও নিজেকে অকাতরে বিলিয়ে দিয়ে মানুষের সেবা করার মহান ব্রতকে সামনে নিয়ে পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছেন। কি হিন্দু কি মুসলমান জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের দুয়ারে ভোটভিক্ষা প্রার্থনা করেই তার সুন্দর সময় অতিবাহিত হচ্ছে। প্রার্থী হিসেবে তার সমস্যা ও দু:খ অনেক।

অল্প সময়ের একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,আমি মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় তিনজন মেয়র প্রার্থীর কাছে যাই এবং তাদেরকে সালাম জানাই। কিন্তু দু:খ পাই একজন হাসিমুখে আমার সালাম গ্রহন করলেও দুজন আমার সালামের উত্তর না দিয়ে মুখ ফিরিয়ে নেন দেখে। আমিও যে একজন মানুষ এবং আমার যে একটা ভোট আছে এই মূল্যায়নটুকু পর্যন্ত আমি পাইনি। নির্বাচনী এলাকার সমস্যাগুলো কি কি ? জানতে চাইলে তিনি বলেন,নির্বাচিত বা অনির্বাচিতদের আত্ম অহমিকা,অহঙ্কারও একটা সমস্যা। সুন্দর মনমানসিকতা লালন না করাটা আরেক সমস্যা।

সম্প্রীতির অভাব আরেকটা বড় সমস্যা। সুশিক্ষা সুশাসন আর সুপরিবেশ গড়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে নির্বাচিত পৌর পরিষদকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এক জায়গায় সবকিছু না করে উন্নয়নকে বিকেন্দ্রীকরন করতে হবে। সকল নাগরিকের সম-মর্যাদা ও সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিকে বেগবান করার লক্ষ্যেই আমি প্রার্থী হয়েছি। আমি শুনেছি পৌর এলাকার সকল মসজিদের সম্মানিত ইমাম মুয়াযযিন সাহেবদেরকে সাবেক চেয়ারম্যান মমিমুল মউজদীন সাহেব সম্মানী ভাতার ব্যাবস্থা করে দিয়েছিলেন। নি:সন্দেহে এটা একটা ভালো উদ্যোগ।

আমি নির্বাচিত হলে ইমাম মুয়াযযিন ও পুরোহিত সাহেব বাবুদের সম্মানী ভাতার টাকা ভাড়ানোর উদ্যোগ নেবো। সরকার সংস্কৃতি ক্ষেত্রে প্রতি বছর পৌর তহবিলে অনেক টাকা দেন। এ টাকা থেকে স্থানীয় অতিদরিদ্র সঙ্গীত শিল্পীদেরকে যাতে সম্মানী ভাতা দেয়া হয় সে দাবী উপস্থাপন করবো। মাতৃদুগ্ধ ভাতা,বয়স্ক ভাতা,বিধবা ভাতা,ভিজিডি ও ভিজিএফসহ যাবতীয় খয়রাতি সাহায্য যাতে প্রকৃত ভূক্তভোগীরা পায় তা নিশ্চিত করবো।

আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ডিজাইনার এস.এস হক শিমুল বলেন, সুনামগঞ্জ পৌরসভার সকল মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে শিক্ষাদীক্ষা মনন ও মানসিকতায় আমি নাট্যশিল্পী শেলী চৌহান ময়নাকে যোগ্য ও দক্ষ প্রার্থী হিসেবে ভোট দেবো এবং সংস্কৃতি ও ধর্মানুরাগী সকল সচেতন মানুষকে আহবাণ জানাই তারা যেন এই গরীব ত্যাগী বঞ্চিত অসহায় এতিম মেয়েটির পাশে দাড়ান।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,জড়াজীর্ণ ভাঙ্গা কুঠিরে বসবাস করেন এই কাউন্সিলর প্রার্থী। কারণ হিসেবে জানা যায়,পিতামাতার নামীয় তার এই বসতভিটের দিকে ভূমিখেকোদের দৃষ্টি পড়েছে। নানা ছলচাতুরীর আশ্রয়ে আমার জায়গা গ্রাস করতে মহল বিশেষ অপতৎপরতা চালাচ্ছে। আর্থিক অভাবের কারনেই বাড়িটি মেরামত করতে পারছিনা।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বিশ্বনাথে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি মেম্বার গ্রেফতার

সিলেটের বিশ্বনাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে উপজেলার দৌলতপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open