সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২০ : ৪:৫৭ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

আবারও পেছালো কিবরিয়া হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ

imagesস্টাফ রিপোর্টার:: সাক্ষী ও পর্যাপ্ত আসামি না আসায় আবারও পিছিয়েছে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহনের তারিখ। এ নিয়ে ১২ দফা আলোচিত এই হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহনের তারিখ পেছানোর হল।সিলেটের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মকবুল আহসান এর আদালতে বুধবার মামলার সাক্ষ্যগ্রনের জন তারিখ ধার্য থাকলেও সাক্ষী ও পর্যাপ্ত আসামি না আসায় সাক্ষগ্রহন হয়নি। আজ বৃহস্পতিবার সাক্ষগ্রহণের তারিখ ধার্য রেখেছেন বিচারক।ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট কিশোর কুমার কর জানান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ছাড়া কারাগারে আটক সব আসামী বুধবার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে কোনো সাক্ষী উপস্থিত না থাকায় সাক্ষগ্রহণ করা যায়নি। তিনি আরও জানান, বুধবার সকালে মামলার অন্যতম আসামি হুজির শীর্ষ জঙ্গি মুফতি হান্নান, হবিগঞ্জের সাময়িক বরখাসস্তকৃত মেয়র জিকে গৌছসহ ১২ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এছাড়া এ মামলায় জামিনে থাকা আরও আট আসামী সাক্ষ্যগ্রণের সময় এজলাসে হাজির ছিলেন।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার ৩২ আসামির মধ্যে ৮ জন জামিনে, ১৪ জন কারাগারে ও ১০ জন পলাতক রয়েছেন।এর আগে গত ২, ৩ ও ৯ ডিসেম্বরসহ মোট ১১দফা এই মামলায় সাক্ষী ও পর্যাপ্ত আসামি উপস্থিত না হওয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানো হয়। এনিয়ে ১২ দফা সাক্ষ্যগ্রহনের তারিখ পেছালো। তবে গত ১০ ডিসেম্বর সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর অনুপস্থিতিতেই তিন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষগ্রহণ করেছিলেন আদালত।গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার বাদি হবিগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ খান। ওইদিন সাক্ষগ্রহণের মধ্যদিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়।
প্রসঙ্গত, টানা নয় দফা চার্জগঠনের তারিখ পেছানোর পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার চার্জ (অভিযোগ) গঠন করা হয়। মামলার কারান্তরীণ ও জামিনে থাকা সকল আসামির উপস্থিতিতে মোট ৩২ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জ গঠন করা হয়।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সিসিকর মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জিকে গউছ, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান অন্যতম প্রমুখ। গত ২১ জুন, ৬, ১৪ ও ২৩ জুলাই এবং ৩, ১০, ১৮, ২৫ আগস্ট ও ৬ সেপ্টেম্বর আলোচিত এই মামলার চার্জ গঠনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সকল আসামি আদালতে হাজির করতে না পারায় চার্জ গঠনের তারিখ পিছিয়ে যায়।
২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যের বাজারে এক জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নিহত হন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া। হামলায় নিহত হন কিবরিয়ার ভাতিজা শাহ মনজুরুল হুদা, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী।
এ ঘটনায় হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ খান হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন। তিন দফা তদন্তের পর এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিলেট অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেরুন নেছা পারুল ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর আরিফুল, গউছ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১১ জনের নাম যোগ করে মোট ৩২ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেন। হবিগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মো. আতাবুল¬াহ মামলাটি বিচারের জন্য গত ১১ জুন সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেন।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বিশ্বনাথে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি মেম্বার গ্রেফতার

সিলেটের বিশ্বনাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে উপজেলার দৌলতপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open