শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২০ : ৩:৩৫ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

ধর্মের নামে তামাশা : সৌদি আরবের মুখোশ উন্মোচন

saudi-arabia-newsআন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরব উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশ সৃষ্টি করলেও মুসলিম দেশগুলোকে নিয়ে গঠিত ‘সামরিক জোট’ সন্ত্রাসবাদের মোকাবেলায় মুসলিম উম্মাহকে রক্ষা করবে বলে দাবি করেছে রিয়াদ। সৌদি আরবের নেতৃত্বে ওই জোট গঠিত হয়েছে। খবর রেডিও তেহরান।সৌদি রাজা মালেক সালমান বিন আব্দুল আজিজ দাবি করেছেন, মুসলিম দেশগুলোকে নিয়ে সামরিক জোট গঠন করা থেকে বোঝা যায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ। সৌদি আরব চলতি মাসের ১৪ তারিখে ৩৪টি মুসলিম দেশকে নিয়ে ইসলামীক সামরিক জোট গঠনের ঘোষণা দিলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ দেশই এই জোটকে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এমন কি এই জোটে ইরান, ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তানকে অন্তর্ভুক্ত না করা থেকেও এর লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে এরই মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, সৌদি আরব মুসলিম দেশগুলোকে নিয়ে সামরিক জোট গঠনের কথা জানিয়েছে অথচ এ দেশটি নিজেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রধান মদদদাতা এবং সন্ত্রাসীদের ভ্রান্ত আদর্শ প্রতিপালনের প্রধান কেন্দ্র। সৌদি আরব ধর্মের নামে উগ্র ওহাবি, সালাফি মতাদর্শের বিস্তার ঘটাচ্ছে যা কিনা সারা বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ বিস্তারে বিরাট ভূমিকা রাখছে। সৌদি ওহাবি মুফতিরা ধর্মের নামে এমন সব ফতোয়া দিচ্ছে যার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ বিস্তারের সম্পর্ক রয়েছে।বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরব উগ্র সন্ত্রাসীদেরকে ধর্মের নামে ভ্রান্ত আদর্শের দিকে ধাবিত করছে এবং এর পাশাপাশি তাদেরকে বিপুল অর্থ দিয়ে মুসলিম উম্মাহকে ভয়ংকর সন্ত্রাসবাদ ও নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে। আলে সৌদের মিথ্যা প্রচারণায় ধর্মের নামে উগ্র তাকফিরি, ওহাবি, সালাফি গোষ্ঠীর বিস্তারের কারণে সারা বিশ্বে ভুল বার্তা চলে যাচ্ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী মনোভাব তৈরি হচ্ছে। কারণ সৌদি ওহাবি, সালাফিরা শান্তি ও রহমতের ধর্ম ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা প্রচার করে মুসলমানদেরকে রক্তাক্ত সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে অন্যদিকে সারা বিশ্বের মানুষের কাছে ইসলাম সম্পর্কে ভুল বার্তা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। আর এসবই করা হচ্ছে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে।আইএসআইএল বা দায়েশ ইসলামের যে বিকৃত ও হিংস্র চেহারা তুলে ধরেছে তার উৎসমূল হচ্ছে, সৌদি ওহাবি মুফতিদের সেইসব ফতোয়া যেখানে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞকে উৎসাহিত করা হয়েছে।ইরাক ও সিরিয়ায় তৎপর দায়েশসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষ করে ইউরোপের যুবকদেরকে বিভ্রান্ত করে তাদেরকে ইরাক ও সিরিয়ায় আসতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এসব সন্ত্রাসীদের মূল শেকড় হচ্ছে সৌদি আরব এবং এসব তৎপরতার ফলে কেবল মুসলিম উম্মাহই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে যারা মুসলিম উম্মাহকে রক্ষার কথা বলছে তারাই আবার বিশ্বনবী(সা.)এর শান্তির ধর্মকে কলঙ্কিত করছে। এভাবে মুসলিম উম্মাহর ওপর সবচেয়ে বড় জুলুম চাপিয়ে দিয়েছে সৌদি আরব।এখানেই শেষ নয়। সৌদি আরব কেবল ইরাক ও সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি। দায়েশের মতো এখন স্বয়ং আলে সৌদি নিজেই ইয়েমেনে ভয়াবহ গণহত্যায় লিপ্ত রয়েছে। ধর্মের নামে ইয়েমেনের নারী ও শিশুকে হত্যা করার অধিকার সৌদি আরবকে কে দিয়েছে? ইয়েমেনে সন্ত্রাসীদের প্রতি সৌদি আরবের সমর্থন এবং সাধারণ মানুষের ওপর সৌদি সেনাদের গণহত্যা এটাই প্রমাণ করে সৌদি আরব কখনই মুসলিম উম্মাহর শুভাকাঙ্ক্ষী নয়।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

চীনে টর্নেডো-শিলাবৃষ্টিতে ৯৮ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীনের পূর্বাঞ্চলীয় জিয়াংসু প্রদেশে টর্নেডো ও শিলাবৃষ্টির আঘাতে কমপক্ষে ৯৮ জনের মৃত্যু …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open